
শেষ আপডেট: 8 July 2023 06:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০০৩ সালে পঞ্চায়েত ভোট যখন হয়েছিল, তখন হোয়াটসঅ্যাপ ছিল না। ট্যুইটার, ফেসবুকও ছিল না। কোথাও কোনও ঘটনা ঘটলে তক্ষুনি দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ত না। শনিবার সকাল থেকে যখন গোটা রাজ্য জুড়ে হিংসা, মুড়িমুড়কির মতো বোমাবাজির খবর আসছে, তখন বহিরঙ্গে নিরুত্তাপ রাজ্য নির্বাচন কমিশন। অন্তরঙ্গেও তাই।
তিনি দফতরে এসেছেন সকাল ১০টার পর। তার পর ১১টা বাজার আগেই মুর্শিদাবাদ, কোচবিহার, আউশগ্রাম, মানিকচকে খুন হয়ে গিয়েছেন ৭ জন। তার মধ্যে শাসক দল তৃণমূলেরই ৫ জন।
এহেন পরিস্থিতিতে বেলা ১১টা নাগাদ রাজ্য নির্বাচন কমিশনের (Election commission) তরফে সব জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকে টেক্সট মেসেজ পাঠানো হল। দ্য ওয়ালের হাতে সেই টেক্সট মেসেজের বয়ান এসেছে। তা হুবহু তুলে ধরা হল— “জানি আপনারা সবাই আগুন নেভাতে আর অভিযোগ সামলাতে ব্যস্ত। তবুও বিরক্ত করছি। জেলা ধরে ধরে কোথায় কোন বুথে কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে তার তালিকা দিন। ওই তালিকা স্পর্শকাতর ও স্পর্শকাতর নয় এমন শ্রেণিতে ভাগ করে দিন। কত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে সেই হিসাব চাইছি না।”
(All of you must be seriously busy in fire fighting and addressing complaints. Still bothering you. We need an info immediately from districts - name of booths where CAPF has been deployed and in position. Please divide the list into sensitive and non-sensitive categories. We don’t need quantum of force deployed.)
শুক্রবার রাত থেকেই বিক্ষিপ্ত ভাবে বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযোগ উঠেছে যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর দেখা নেই। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হল, তৃণমূলের তরফ থেকে সেই অভিযোগ তোলা হয়েছে। সেই সঙ্গে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকা সত্ত্বেও কেন এত হিংসার ঘটনা ঘটছে।
আবার বিজেপির অভিযোগ রাজ্য নির্বাচন কমিশন শাসক দলের কথায় কাজ করছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, “শাসক দলের পোষ্য রাজীব সিনহা কোথাও ঠিকমতো বাহিনী মোতায়েন করেনি। এই যে এত খুন হচ্ছে, রক্ত ঝরছে, এর জন্য দায়ী ওই লোকটাই। লাশের পাহাড়ের দিকে ও শকুনের মতো তাকিয়ে থাকবে”।
ভোটে অব্যবস্থার অভিযোগ জানিয়ে ইতিমধ্যে নির্বাচন বাতিলের দাবি তুলেছে কংগ্রেস। এ ব্যাপারে কলকাতা হাইকোর্টে মামলাও করেছে। তা ছাড়া একটার ব্যাপার মনে রাখতে হবে। তা হল, কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম জানিয়েছিলেন, ভোট শান্তিপূর্ণ হল কিনা সে ব্যাপারে আদলত রিপোর্ট চাইবে। এখন এই ঘটনাপ্রবাহের পর আদালতে তা নতুন কোনও মোড় নেবে কিনা সেটাই দেখার।
রাজীব সিনহা কমিশনে ৩ ঘণ্টা পর, জেলায় জেলায় বিক্ষিপ্ত অশান্তি