দ্য ওয়াল ব্যুরো: কয়লা পাচার তদন্তে গত সপ্তাহেই অনুপ মাঝি ওরফে লালাকে নোটিস পাঠিয়েছিল সিবিআই। বলা হয়েছিল সোমবার হাজিরা দেওয়ার জন্য।
কিন্তু গতকাল, সোমবার লালা সিবিআই দফতরে যাননি। মঙ্গলবার সকাল থেকে দেখা গেল, কলকাতার একাধিক জায়গায় তল্লাশিতে নেমে পড়েছেন কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সির গোয়েন্দারা। সূত্রের খবর, বাঙ্গুর অ্যাভিনিউ-সহ কলকাতা শহরের অন্তত পাঁচটি জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে সিবিআই। লালা ঘনিষ্ঠ বেশ কয়েক জনের ফ্ল্যাট ও অফিসে চলছে তল্লাশি অভিযান।
নভেম্বরের গোড়াতেই আয়কর দফতরের হাত থেকে কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্ত ভার নিয়েছিল সিবিআই। তারপর পশ্চিম বর্ধমানের জামুড়িয়া, রানিগঞ্জ, দুর্গাপুর, কুলটি, পুরুলিয়ায় লালার বাড়ি-সহ ভিন রাজ্যেও তল্লাশি চালিয়েছিলেন গোয়েন্দারা। বেশ কয়েকজন কোলফিল্ড কর্তাকেও গ্রেফতার করে সিবিআই। কিন্তু লালার খোঁজ এখনও পাওয়া যায়নি।
এর আগে গরু পাচার তদন্তেও মানিকতলা সহ কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালিয়েছিল সিবিআই। ইতিমধ্যেই গরু পাচার কাণ্ডে দুই অভিযুক্ত এনামুল হক ও বিএসএফ কর্তা সতীশ কুমারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল সতীশ কুমার শর্ত সাপেক্ষে জামিনও পেয়েছেন।
বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, শাসকদলের ছত্রচ্ছায়ায় থেকেই কয়লা পাচার চলত। অসাধু ব্যবসায়ী, এক শ্রীণির কেন্দ্রীয় সরকারি অফিসার ও পুলিশের একটি ‘নেক্সাস’ তৈরি করেই এই চোরা কারবার চলত। সেই তদন্তেই এবার গা ঝাড়া দিয়ে নেমেছে সিবিআই।
গত ২১ ডিসেম্বর লালা ঘনিষ্ঠ ১০ ব্যবসায়ীকে সমন পাঠিয়েছিল সিবিআই। এদিন হয়তো তাঁদের বাড়ি, অফিসেই হানা দিয়েছেন গোয়েন্দারা। কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি সূত্রে খবর, গোয়েন্দারা এও জানতে পেরেছেন, উত্তরবঙ্গে কয়লা পাচারের কাজে লালাকে সাহায্য করত গরু পাচারের কিংপিন এনামুল।