দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলার দুই শহিদ পরিবারের জন্য ৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ও পরিবারের কোনও সদস্যের সরকারি চাকরির কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত-চিন সংঘর্ষে বীরভূমের রাজেশ ওঁরাও এবং আলিপুরদুয়ারের বিপুল রায়। খবর আসার পরেই শোকে ভেঙে পড়ে দুই এলাকা।
২০১৫ সালে ১৪৫ বিহার রেজিমেন্টে যোগ দিয়েছিলেন বীরভূমের রাজেশ। অভাবের সঙ্গে লড়াই করেই সেনাবাহিনীতে চাকরি পেয়েছিলেন তিনি। মহম্মদ বাজারের মালাডাং হাই স্কুলের ছাত্র ছিলেন রাজেশ। উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর ভর্তি হয়েছিলেন সিউড়ির বিদ্যাসাগর কলেজে। কিন্তু স্নাতক পাশ করার আগেই সেনাবাহিনীর চাকরিতে যোগ দেন সুঠাম চেহারার এই তরুণ। বাবা সুভাষ ওঁরাও পেশায় দিনমজুর।
গ্রামের ছেলে সেনাবাহিনীতে যাওয়ায় গর্বে বুক ভরে উঠেছিল পরিবারের, পড়শিদের। তার উপর রাজেশ ছিলেন গ্রামের প্রথম যুবক যিনি সেনায় যোগ দিয়েছিলেন। পাশাপাশি তিনিই ছিলেন পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য। সব শেষ হয়ে গেল। খবর পাওয়ার পর থেকেই বারবার অচেতন হয়ে যাচ্ছেন রাজেশের মা মমতা।
অন্যদিকে গালওয়ানে প্রাণ হারান আলিপুরদুয়ার শামুকতলা থানার অন্তর্গত বিন্দি পাড়ার বিপুল রায়ও। গত কয়েক বছর আগে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন তিনি। বিপুলের মৃত্যুতে শোকাচ্ছন্ন গোটা আলিপুরদুয়ার।
বুধবার সকালে আলিপুরদুয়ারের বিন্দিপাড়ার বাড়ির সামনে ভিড় ভেঙে পড়ে অজস্র মানুষের। শহিদ বিপুল রায়ের বাড়িতে বাবা, মা ,ভাই, স্ত্রী এবং ছোট এক মেয়ে রয়েছে। জানা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বর মাসেই বাড়িতে এসেছিলেন বিপুল রায়। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়ে ফের ফিরে যান তিনি। গত কয়েক দিন ধরেই সীমান্তের অস্থির পরিস্থিতি চিন্তা বাড়িয়েছিল বিপুলের পরিবারের।
গতকাল রাতে বাড়িতে দুঃসংবাদ এসে পৌঁছয়। তার পরেই সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিবার, নিশ্চিত হয় মৃত্যুর ঘটনা। কান্নায় ভেঙে পড়েন সকলে। স্থানীয় জেলা-প্রশাসনের কর্তারা, পুলিশকর্মীরা পৌঁছেছেন বিপুল রায়ের বাড়িতে। শহিদের মৃতদেহ কবে বাড়িতে নিয়ে আসা হবে সেই বিষয়ে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
দুই বাড়িতেই হাজির হয়েছেন প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিরা। আশ্বাস দিয়েছেন পাশে থাকার। যদিও এ শোকের সান্ত্বনা হয় না, তবু সরকারি ভাবে সাহায্যে ত্রুটি হবে না বলেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তাঁরা। এর পরেই পাঁচ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।