
শেষ আপডেট: 30 May 2023 09:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলার রাজনীতিতে গত প্রায় একদশক ধরেই দলবদল খোলামকুচি হয়ে গিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ সংযোজন সাগরদিঘিতে কংগ্রেসের টিকিটে জেতা বাইরন বিশ্বাস। তিনি গতকাল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) হাত থেকে তৃণমূলের (TMC) পতাকা নিয়েছেন। এ নিয়ে যখন শাসকদলে সাগরদিঘি পুনর্দখলের উচ্ছ্বাস তখন দলবদলের সংস্কৃতিকেই তীব্র আক্রমণ শানালেন বারাসতের তৃণমূল বিধায়ক তথা অভিনেতা চিরঞ্জিত চক্রবর্তী (Chiranjeet chakraborty sought on Bayron Biswas)।
এদিন সংবাদমাধ্যমে চিরঞ্জিত বলেন, ‘এভাবে দলবদল করা আমি পছন্দ করি না। এটা লোক ঠকানো। মানুষ তো তাঁকে একটা সিম্বল দেখে ভোট দিয়েছেন। তিনি যদি দলবদল করেন তাহলে আসলে মানুষকেই অপমান করা হয়।’
সন্দেহ নেই চিরঞ্জিতের এই কথা একেবারে আদর্শ রাজনীতির সংজ্ঞা। কিন্তু এখন যখন সেসব বিষয় কার্যত মিউজিয়ামে চলে যেতে বসেছে তখন তাঁর এই কথা তৃণমূলেরই অস্বস্তি বাড়াবে বলে মত অনেকের। বাইরন গতকাল বলেছিলেন, তাঁর জেতার পিছনে কংগ্রেসের কোনও অবদান নেই। তিনি নিজের মুরোদেই জিতেছিলেন তিন মাস আগে।
তাঁর এও বক্তব্য, অর্জুন সিং যখন বিজেপিতে জেতার পর তৃণমূলে এলেন তখন তিনি বলেছিলেন অন্তত এক বছর দেখে তারপর পদ দেওয়া হোক। এসব করার জন্য দলে একটি কমিটি গড়ারও দাবি জানিয়েছেন অভিনেতা।
চিরঞ্জিতের কথায়, ‘একজন একটা দলের এমপি। তিনি আবার অন্য দল করছেন। এটা হয় কী করে।’ এখনও পর্যন্ত এ ব্যাপারে একটা মাইলফলক তৈরি করে রেখেছেন বাবুল সুপ্রিয়। তিনি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। তারপর আসানসোলে উপনির্বাচনে শত্রুঘ্ন সিনহা জেতায় তৃণমূলও প্রথমবারের জন্য সেই আসন জেতে। পরে বাবুল আবার বালিগঞ্জে উপনির্বাচনে জিতে এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভার সদস্য।
এখন প্রশ্ন হল, চিরঞ্জিতের এই নীতিকথা কি দলকেই চ্যালেঞ্জ করা নয়? কারণ, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই তো বাইরনের হাতে ঘাসফুল পতাকা তুলে দিয়েছিলেন। এ ব্যাপারে তৃণমূলের মুখপাত্র জয়প্রকাশ মজুমদার বলেছেন, ‘চিরঞ্জিতবাবু যা বলেছেন তা তাঁর ব্যক্তিগত মত।’
বাইরন ভোটে জেতার পর বলেছিলেন, ‘আমায় কেউ কিনতে পারবে না।’ সেদিন এও বলেছিলেন, অধীর চৌধুরী সাগরদিঘির মাটি কামড়ে পড়ে না থাকলে তাঁর জেতা সম্ভব হতো না। সেইসঙ্গে তাঁর বক্তব্য ছিল, সিপিএমও সাংগঠনিক শক্তি উজাড় করে দিয়ে ভোটের ময়দানে নেমেছিল। কিন্তু দল পাল্টে বেমালুম উল্টো সুর ধরেছেন তিনি। এদিন সেটাকেই লোক ঠকানো বললেন চিরঞ্জিত।
স্কুলে গরমের ছুটি শেষ কবে? শিক্ষা দফতরের থেকে জানতে চাইল পর্ষদ