
শেষ আপডেট: 4 May 2023 04:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব মেদিনীপুর: ময়নায় বিজেপি নেতা খুনের ঘটনায় বুধবার সেখানে ১২ ঘণ্টার বনধ্ ডেকেছিল বিজেপি (Moyna BJP protest)। দু'দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরেও বুধবার কোনও অভিযুক্ত গ্রেফতার না হওয়ায় বড়সড় প্রতিবাদের আয়োজন করেছিল গেরুয়া শিবির। উপস্থিত ছিলেন জেলা বিজেপির বহু বড়-মেজ-ছোট নেতা। এসেছিলেন বহু দলীয় কর্মীও। কিন্তু এতজন যে সেখানে আসবেন, তাঁদের দুপুরের খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা কী হবে? সেসব সাতপাঁচ ভেবে দুপুরবেলা দলেরই এক মণ্ডল নেতার বাড়িতে হল মাংস-ভাতের (Chicken and rice) আয়োজন।
বুধবার দুপুর দেড়টা নাগাদ বনধ্ চলার একফাঁকেই সেখানে উপস্থিত হয়ে যান বিজেপির নেতাকর্মীরা। তারপর পেট ভরে খেলেন মুরগির মাংসের পাতলা ঝোল আর গরম ভাত। খাওয়া-দাওয়ার শেষে আবার তাঁরা ফিরে গেলেন ১২ ঘণ্টার বনধ্ সফল করতে। এদিকে তখনও নিহত বিজেপি নেতার মৃতদেহ তমলুক হাসপাতালের মর্গে। হাইকোর্ট তার কিছু পরেই ফের সেই দেহ ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন।
বনধ্ উপলক্ষে এই ঢালাও ভূরিভোজের আয়োজন করা হয়েছিল ময়না উত্তর মণ্ডল কমিটির সাধারণ সম্পাদক বলরামবাবুর বাড়িতে। কারণ বুধবার যেখানে রাস্তা বন্ধ করে ধর্মঘট পালন হচ্ছিল, তার থেকে একেবারে ঢিল ছোড়া দূরত্বেই এঁর বাড়ি। একদম ময়না বাইপাস মোড় লাগোয়া এলাকায়। তাই বুধবার বন্ধ উপলক্ষে যখন বিজেপির একদল নেতাকর্মী বাইপাস মোড়ে অবরোধ শুরু করলেন, ঠিক তখনই সেখান থেকে কিছুটা দূরে বলরামবাবুর বাড়িতে আর একদল লেগে পড়লেন দুপুরের খাবারের আনাজপাতি কাটতে, মশলা বাটতে।
সকাল সকাল শুরু হয়ে যায় চূড়ান্ত ব্যস্ততা। জানা গিয়েছে, প্রায় ৩০ কেজি মুরগির মাংস রান্না হয়েছিল। দলেরই কয়েকজন কর্মী সেই রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন সকাল থেকে দুপুর অবধি। এরপর দুপুর ১টা নাগাদ রান্না শেষ হতেই পালা করে করে নেতাকর্মীরা আসতে থাকেন ওই মণ্ডল নেতার বাড়িতে। তারপর শুরু হয় খাওয়া-দাওয়া। কিন্তু এই ভোজনপর্বের কথা নিহত বিজেপি নেতার বাড়ির কেউ জানেন কিনা, তা অবশ্য জানা যায়নি।
তবে শুধু বুধবার নয়, মঙ্গলবারও তাঁর বাড়িতে খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এমনটা জানিয়েছেন ওই মণ্ডল নেতা নিজেই। বলরামবাবু বলেন, "মঙ্গলবার বাইপাস মোড়ে পাঁচ ঘণ্টা অবরোধ হয়েছিল। সেদিন কর্মীদের জন্য ডাল-ভাতের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। আর বুধবার ৩০ কেজি মুরগির মাংসের অর্ডার দিয়ে মাংস-ভাত রান্না করা হয়। আমাদের এক নেতা খুন হয়েছেন। সেই নিয়ে গোটা ময়না ব্লকের কর্মীরা রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছেন। পুলিশের মার খেয়েও তাঁরা মাটি কামড়ে পড়ে রয়েছেন। ওঁদের জন্য দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করাটা আমাদের কর্তব্য।"
এই নিয়ে পাল্টা বিজেপিকে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য সুব্রত মাইতি। তিনি বলেন, "দলীয় নেতা খুনের পর ওঁদের মধ্যে যদি ছিটেফোঁটাও শোকতাপ থাকত, তাহলে এভাবে মাংস-ভাতের আয়োজন করতে পারত না। এভাবে পাত পেড়ে ভূরিভোজ ওঁদের পক্ষেই সম্ভব। আসলে এসবই ভোটের রাজনীতি। সামনে পঞ্চায়েত ভোট আসছে। তার আগে এলাকা গরম করার জন্য বিজেপি অবরোধ করছে ধর্মঘট ডাকছে। ওদিকে লুকিয়ে লুকিয়ে মাংস-ভাত খাচ্ছে।"
ময়নার বিজেপি নেতা খুনে প্রথম গ্রেফতার, ধৃত স্থানীয় তৃণমূল নেতা