
শেষ আপডেট: 28 July 2023 05:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে চিটফান্ড (Chit Fund) তদন্তের জন্য আলাদা ইউনিট খোলা হয়েছিল। সেই ইউনিট তুলে নিল সিবিআই (CBI)।
কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার প্রধান দফতর থেকে নির্দেশিকা জারি করে বলা হয়েছে, সিজিও কমপ্লেক্সে চিটফান্ড (Chit Fund) তদন্তের জন্য যে আলাদা শাখা খোলা হয়েছিল তাকে ইকোনমিক অফেন্স ব্রাঞ্চের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। ওই ইউনিটে সারদা-রোজভ্যালি, আইকোর তদন্তের কাজ চলছিল। অন্যদিকে, অসম ও ভুবনেশ্বরেও চিটফান্ড তদন্তের আলাদা ইউনিট খুলে সেখানে রোজভ্যালি মামলার তদন্ত চলছিল। সূত্রের খবর, সেই ইউনিটও অ্যান্টি কোরাপশন ব্র্যাঞ্চের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে আবার কোমর বেঁধে নেমেছে সিবিআই। সারদা-রোজভ্যালি ছাড়াও রাজ্যের শ’খানেক চিটফান্ডের (Chit Fund) বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযান চলছে। চিটফান্ড তদন্তের গতি মাঝখানে থমকে ছিল। কিন্তু সেগুলি ফের নতুন করে খতিয়ে দেখতেই আলাদা ইউনিট খোলা হয়েছিল। চিটফান্ড-কাণ্ডের তদন্তভার হাতে নেওয়ার পর রাজ্যে যে সব ভুয়ো অর্থলগ্নি সংস্থা রয়েছে, তার একটি তালিকা তৈরি করে সিবিআই। প্রথম দিকেই নাম উঠে আসে সারদা, রোজভ্যালি, এমপিএস-এর মতো সংস্থাগুলির। এ ছাড়াও রাজ্যে বেশ কয়েকটি চিটফান্ড সংস্থার সক্রিয় থাকার প্রমাণ পান কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। তাছাড়া আরও অনেক চিটফান্ড সংস্থা ছিল যারা তাদের ব্যবসার ধরন বদলে সক্রিয় ছিল। একে একে সেইসব বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থার বিরুদ্ধেও এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করে সিবিআই। সারদাকাণ্ডে এখনও চূড়ান্ত চার্জশিট পেশ করেনি সিবিআই। ঝুলে রয়েছে রোজভ্যালি মামলাও । তার মধ্যেই চিটফান্ড তদন্তের শাখা তুলে নেওয়ায় সিবিআই বিষয়টিকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে সিবিআই তদন্তের জন্য ২০১৪ সালে নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা আবদুল মান্নান ও সিপিএম নেতা তথা আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের দায়ের করা মামলার রায়ে ওই নির্দেশ দিয়েছিল সর্বোচ্চ আদলত। তার পর থেকে গত প্রায় ৯ বছরে তদন্ত বিশেষ এগিয়েছে বলে মনে করেন না বিকাশবাবু ও মান্নান সাহেব। বরং আবদুল মান্নানের মতে, সিবিআই চিটফান্ড তদন্তকে প্রহসনে পরিণত করেছে। যখন দরকার পড়েছে, তখন রাজনৈতিক প্রয়োজনে তা ব্যবহার করা হয়েছে। তার পর ফের তা থমকে গেছে।
কদিন আগে চিটফান্ড তদন্তে সিবিআইয়ের কাজকর্ম নিয়ে প্রকারান্তরে অনাস্থা প্রকাশ করেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও। তাঁর বক্তব্য, চিটফান্ড তদন্তের তথ্য ও প্রমাণ রয়েছে। তাও যেভাবে তদন্ত এগোচ্ছে তাতে এই কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি সম্পর্কে মানুষের অনাস্থা তৈরি হতে বাধ্য। শুভেন্দু দাবি করেছিলেন, সিবিআই ডিরেক্টরকে মেল করে কিছু তথ্য ও প্রমাণও পাঠিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন: পাকুয়াহাটে দুই মহিলাকে বিবস্ত্র করে মার, ক্লোজ করা হল চার পুলিশকে