
শেষ আপডেট: 13 July 2023 12:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোট মিটেছে। তবু অশান্তির বিরাম নেই। বরং রাজ্যের মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলেই মনে করছে কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High court)।
কমিশনের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে বিচারপতি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘অশান্তি ও মৃত্যুর ঘটনা যে ঘটছে সেটা কি কমিশন অস্বীকার করতে পারবে? একজন প্রার্থী ৫বছর ধরে কাজ করার পর জিততে এই ভাবে অশান্তি পাকাতে পারেন?’ এ প্রশ্ন তুলে বিচারপতি নিজেই জবাবও দিয়েছেন। বিচারপতির সিনহার কথায়, ‘আসলে প্রচুর টাকার লেনদেন। তাই ক্ষমতা দখলের জন্যই এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে।’
পঞ্চায়েত ভোটে লাগামছাড়া সন্ত্রাসের অভিযোগ উঠেছিল। এমনকি গণনার দিন রিটার্নিং অফিসারের সই করা প্রচুর ব্যালট পেপার রাস্তায় গড়াগড়ি খেতে দেখা যায়। ওই ঘটনায় মামলা দায়ের হয়। এদিন সংশ্লিষ্ট বুথের রিটার্নিং অফিসার এবং প্রিসাইডিং অফিসারকে আদালতে ডেকেছিলেন বিচারপতি। তিনি তাঁদের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহন করেন। আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য আদালতকে জানান, ‘গণনার সময় এই ঘটনা ঘটেছিল। কমিশনের কাছে অভিযোগ জমা দেওয়ার হয়। তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।’ পাল্টা হিসেবে কমিশনের আইনজীবী আদালতকে জানায়, ‘উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মামলা করা হয়েছে। কারণ এটা ইলেকশন পিটিশন নয়। নির্বাচন শেষ হয়ে গিয়েছে।’
কমিশনের আইনজীবীর কাছে বিচারপতি জানতে চান, এই এজলাসে যেটা বলছেন সেটা প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে জানিয়েছিলেন? জবাবে কমিশন জানায়, ‘অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে। তাই জানানো হয়নি।’ বিচারপতি জানে চান, অভিযোগের ভিত্তিতে কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? কমিশনের ব্যাখ্যা, ‘এই ঘটনার সত্যতা আছে হয়তো, কিন্তু ১০০০ ব্যালটের মধ্যে ৪০০ ব্যালট ব্যবহার করা হয়নি। যেটা রিটার্নিং অফিসারের কাছে ফিরে আসে। এগুলো সেই ব্যবহার না করা ব্যালট। গণনার পর ওই ব্যালট পেপারের কোন গুরুত্ব থাকে না।’
এমনকী এই ঘটনায় বিচারপতি কোনও তদন্তের নির্দেশও দিতে পারেন না, এক্ষেত্রে যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার কমিশন নিতে পারে বলে আদালতে দাবি করেন কমিশনের আইনজীবী। বিচারপতি জানতে চান, ‘সই করা ব্যালট পেপার কীভাবে রাস্তায় এল?’ কমিশন জানায়, ‘এবিষয় কোন অভিযোগ দায়ের হয়নি। মৌখিক বক্তব্যে আইন তাকে অনুমতি দেয় না।’ এরপরই কমিশনকে তীব্র ভর্ৎসনা করেন বিচারপতি।
কমিশনের আইনজীবীর উদ্দেশে বলেন, ‘রাজ্যের মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। প্রার্থীরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কমিশন নিশ্চিত হয়ে বলতে পারবেন এমনটা হয়েছে বা হচ্ছে? আপনাদের অফিসার বলছেন যে ব্যালট পেপার রাস্তায় পাওয়া গিয়েছিল, সেগুলোতে তাদের সই ছিল তাহলে তা কেন অস্বীকার করতে চাইছে কমিশন?’
বুথের ভেতরের ও বাইরের সিসিটিভির ফুটেজ রেজিস্টার জেনারেলের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতি। হাইকোর্টের বিশেষজ্ঞ কমিটি এবং রেজিস্টার জেনারেলের বিশেষজ্ঞ টিমকে সেই ফুটেজ খতিয়ে দেখে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতি। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২৬জুলাই।
পঞ্চায়েতে ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে জেলায় জেলায় নোডাল অফিসার নিয়োগ বিএসএফের