দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাড়ির বদলে এখন আশ্রয় নিতে হয়েছে ত্রাণশিবিরে, কেউ রয়েছেন অস্থায়ী ঘরে। বুলবুলের দাপটে উপড়ে পড়েছে বিদ্যুতের খুঁটি, তাই গ্রামজুড়ে এখন অন্ধকার। এদিকে সামনেই কারও মাধ্যমিক, কারও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সন্দেশখালি ২ নম্বর ব্লকের খুলনা গ্রাম পঞ্চায়েতে ছাত্রছাত্রীদের দেওয়া হল মাথাপিছু একটি করে হ্যারিকেন ও সপ্তাহে পাঁচ লিটার করে কেরোসিন তেল দিতে শুরু করল প্রশাসন, যাতে তাদের পড়াশোনা আটকে না যায়।
ব্লক অফিস সূত্রে জানা গেছে, মোট ২,৬১৮ জন ছাত্রছাত্রীকে হ্যারিকেন দেওয়া হয়েছে। তারা সপ্তাহে পাঁচ লিটার করে কেরোসিন তেলও পেতে শুরু করেছে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষকরা নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের তালিকা পাঠিয়ে দেন সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের (বিডিও) অফিসে। সেখান থেকে স্কুলগুলিতে পাঠানো হয় হ্যারিকেন। ছাত্রছাত্রীদের বাড়ি যে এলাকায়, সেই এলাকার কেরোসিন ডিলারদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয় প্রাপকদের তালিকা। তাদের কাছ থেকেই কেরোসিন তেল পেতে শুরু করেছে পড়ুয়ারা।
৯ নভেম্বর ঘূর্ণীঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে সুন্দরবন। বসিরহাট মহকুমার সুন্দরবনের সন্দেশখালি ২ নম্বর ব্লকের খুলনা গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকায় গাছ উপড়ে বৈদ্যুতিক তারের উপরে পড়লে বিস্তীর্ণ এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। কয়েক হাজার বাড়ি এখন অন্ধকারে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে বিদ্যুৎ দপ্তর। কিন্তু এখনও কতদিন সময় লাগবে বলা যাচ্ছে না। তাই সরকার স্থির করেছে, যতদিন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীপিছু সপ্তাহে পাঁচ লিটার করে কেরোসিন দেওয়া চলবে।
স্কুলের ছাত্রী সুমনা স্বর্ণকারের কথায়, “মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন আমাদের হ্যারিকেন ও কেরোসিন তেল দেওয়া হবে। তা আমরা পেয়েছি। তাই এতে আমরা খুশি।”
বুলবুলের পরে বিধ্বস্ত এলাকাগুলি হেলিকপ্টারে ঘুরে দেখেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সুন্দরবনের পরীক্ষার্থীদের সমস্যার কথা শুনে তিনি বসিরহাটের প্রশাসনিক বৈঠকে নির্দেশ দেন, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের হ্যারিকেন ও সপ্তাহে পাঁচ লিটার করে কেরোসিন দিতে।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পরে স্কুলগুলির থেকে প্রাপকদের তালিকা চেয়ে পাঠানো হয়। মঙ্গলবার দুপুরে খুলনা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সত্যজ্যোতি সান্যালের নেতৃত্বে কয়েকশো পরীক্ষার্থীকে হ্যারিকেন ও পাঁচ লিটার কেরোসিন দেওয়া হয়। সঙ্গে দেওয়া হয় ত্রিপল ও ত্রাণসামগ্রী। এর মধ্যে রান্নার সামগ্রী, কম্বল, মশারি প্রভৃতি ছিল।