
শেষ আপডেট: 24 June 2023 12:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেদারনাথ মন্দির সংস্কারের সময় গর্ভগৃহের দেওয়াল সোনার পাত দিয়ে মোড়া হয়েছে। কিন্তু আসলে বদলে নকল সোনা ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন স্বয়ং মন্দিরের পুরোহিতের।
সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখতে অবশেষে তদন্ত কমিটি গড়ল উত্তরাখণ্ডের বিজেপি সরকার। রাজ্যের পর্যটন, ধর্ম ও সংস্কৃতি দফতরের মন্ত্রী সৎপাল মহারাজ শনিবার ঘোষণা করেছে, স্বর্ণ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তদন্ত কমিটি গড়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, অভিযোগটি গুরুতর।
প্রসঙ্গত, ভক্তদের দানের টাকায় গত বছর মন্দিরের ভিতরের দেওয়াল সোনা দিয়ে মুড়ে দেওয়া হয়েছে। একই কাজ করা হয়েছে বারাণসীর কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরেও।
কেদারনাথ মন্দিরের ক্ষেত্রে খরচ হয়েছে ১২৫ কোটি টাকা। মন্দিরের এক প্রবীণ পুরোহিত হালে অভিযোগ করেছেন, সোনা নয়, বদ্রীনাথ-কেদারনাথের গর্ভগৃহ অর্থাৎ মন্দিরের ভিতরের দেওয়াল পিতলের পাত দিয়ে মোড়া হয়েছে। সন্তোষ ত্রিবেদী নামে ওই পুরোহিতের বক্তব্য, ‘১২৫ কোটি টাকাই মন্দির কমিটি নয়ছয় করেছে।’
প্রতি বছর কয়েক কোটি মানুষ কেদারনাথ-বদ্রীনাথে পুজো দিতে যান। হিন্দু পীঠস্থানের অন্যতম হল কেদারনাথ-বদ্রীনাথ। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতি হওয়ায় সংস্কারের জন্য বেশ কিছুদিন মন্দির বন্ধ রাখতে হয়েছিল। মন্দির সংস্কারের পাশাপাশি সেখানে যাতায়াতের উন্নত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। চালু হয়েছে হেলিকপ্টার সার্ভিস। এছাড়া পূণ্যার্থীদের থাকার ব্যবস্থাও বাড়ানো হয়েছে।
স্বভাবতই প্রবীণ পুরোহিতের অভিযোগ মুহূর্তে গোটা দেশে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। মন্দির কমিটি যদিও পুরোহিতের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু সামাজিক মাধ্যমে ত্রিবেদীর ভিডিও বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ায় রীতিমতো চাপে পড়ে মন্দির কর্তৃপক্ষ। অস্বতিতে পড়ে রাজ্যের বিজেপি সরকার। রাজ্য সরকার গোড়ায় দাবি করে অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এদিকে, পুরোহিত ত্রিবেদীই তীর্থযাত্রী মহাপঞ্চায়েতের সহ-সভাপতি। কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে মহাপঞ্চায়েত। চাপের মুখে বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটি সোশ্যাল মিডিয়ার প্রচারকে ‘ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করে বিবৃতি দেয়। কিন্তু সরাসরি ত্রিবেদীর অভিযোগ নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
বিকেটিসি (বদ্রীনাথ-কেদারনাথ টেম্পল কমিটি)-র চেয়ারম্যান অজেন্দ্র অজয় বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে মন্দির সংস্কারের পাশাপাশি উন্নত সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা হয়েছে ভক্তদের জন্য। তারফলে কেদারনাথ মন্দিরে ভক্তদের সংখ্যা রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সাফল্য কিছু মানুষ মেনে নিতে পারছেন না।’ তিনি আরও বলেন, ‘কেদারনাথ ধামের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।’ তবে তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের নাম বলেননি।
অজয় জানান, ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে বিকেটিসি-র অনুমতি নিয়ে মহারাষ্ট্রের একজন ভক্ত মন্দিরের গর্ভগৃহের দেওয়াল সোনা দিয়ে মুড়ে দিয়েছেন। তবে মূল পাতটি তামার। তার উপর সোনার প্রলেপ দেওয়া আছে। পুরো কাজটিই ওই ভক্ত করেছেন। বিকেটিসির সরাসরি কোনো ভূমিকা নেই।
তিনি আরও জানান, কাজ শেষ হওয়ার পর, তামার এবং সোনার প্লেটের অফিসিয়াল বিল এবং ভাউচারগুলি বিকেটিসিতে জমা দেওয়া হয়েছিল যা তাদের স্টক বইয়ে উল্লেখ করা আছে। তিনি জানান, একই দাতা ২০০৫ সালে বদ্রীনাথ মন্দিরে সোনার প্রলেপ দিয়েছিলেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দাতার দেওয়া সোনার আর্থিক মূল্য ১৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। তামার পাতের মূল্য ২৯ লাখ টাকা।
মন্দির কর্তৃপক্ষের এই বিবৃতির পরও কেদারনাথ নিয়ে বিতর্ক থামেনি। সামাজিক মাধ্যমে ভক্তদের একাংশ অভিযোগকে মান্যতা দিয়ে বলেছেন, এটা সোমনাথ মন্দিরে লুঠের মতো ঘটনা।
শনিবার উত্তরাখণ্ডের পর্যটন মন্ত্রী বলেন, অভিযোগটি উদ্দেশ্য প্রণোদিত, সন্দেহ নেই। তবু যেহেতু এর সঙ্গে রাজ্যের ভাবমূর্তি যুক্ত তাই সরকার তদন্তের নির্দেশ দিল।।যদি অভিযোগের সত্যতা মেলে তাহলে অপরাধীদের আড়াল করার প্রশ্নই ওঠে না।
দেবস্থানে দুর্নীতি, ‘কেদারনাথ মন্দিরের দেওয়ালে সোনার বদলে পিতলের পাত’