
শেষ আপডেট: 4 December 2022 09:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো, বীরভূম: বগটুই গণহত্যা কাণ্ডের (Bagtui Fire Update) অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত লালন শেখকে গ্রেফতার করল সিবিআই (CBI)। খুন হওয়া তৃণমূল নেতা ভাদু শেখের (Bhadu Sheikh) ঘনিষ্ঠ ছিল এই লালন। বগটুই গণত্যা কাণ্ডে অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে তার নাম উঠে আসে। ২২ মার্চ রাতের বগটুই গণহত্যা পর থেকে ফেরার ছিল লালন। তাকে শনিবার রাতে ঝাড়খণ্ডের পাকুড় থানা এলাকার নরওমপুর গ্রাম থেকে গ্রেফতার করে সিবিআই। সেখানে লালন শেখ পরিবার নিয়ে বাস করছিল বলে জানা গিয়েছে।
পণ হিসেবে বাইক দেওয়া হবে না! শুনেই মণ্ডপ থেকে পালাল বর, আত্মহত্যার হুমকি পাত্রীর
২২ মার্চ সন্ধেয় বগটুই গ্রামের মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকার সময় বোমার আঘাতে মৃত্যু হয় গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তথা এলাকার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা ভাদু শেখ। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে তিনি খুন হয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। সেই রাতেই ঘটে নারকীয় বগটুই গণহত্যা। বাড়ির দরজায় বাইরে থেকে তালা দিয়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পালানোর সমস্ত পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় আটজনের। পরে হাসপাতালে আরও একজন মারা যান। এই ঘটনায় ভাদু ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল ওঠে।
বিরোধীরা অভিযোগ করে, তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই এতোবড় একটা গণহত্যা ঘটে গিয়েছে। এই ঘটনাতে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে লালন শেখের নাম উঠে আসে। ভাদু হত্যার প্রতিশোধ নিতেই সে দলবল নিয়ে ওই রাতে ভাদু হত্যায় অভিযুক্তদের পরিবারের উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ।
সিবিআই তদন্তভার হাতে পাওয়ার পর লালন শেখের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জিনিস বাজেয়াপ্ত করেছিল, কিন্তু এতদিন তার সন্ধান পায়নি। শেষ পর্যন্ত পাশের রাজ্য ঝাড়খণ্ড থেকে তাকে ধরল সিবিআই। রবিবার লালন শেখকে রামপুরহাট মহকুমা আদালতে তোলা হয়।
এই গণহত্যা কাণ্ডের পর তৃণমূলের রামপুরহাট ব্লকের সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় আনারুল শেখকে। খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বগটুই গ্রামে গিয়ে আনারুলকে গ্রেফতার করার নির্দেশ দেন। এই বগটুই গণহত্যা নিয়ে তোলপাড় হয় রাজ্য রাজনীতি।