
আধিকারিকদের কাছে অভিযোগ করছেন বাসিন্দারা
শেষ আপডেট: 25 March 2025 16:45
রিয়া দাস, কোচবিহার
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ফের বাংলাদেশি দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য। ভারতীয় নাগরিকদের চাষের জমিতে লুটপাট এমনকি চাষের জমিতে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক মোটর পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল তাদের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয় ভারতীয় নাগরিকদের তুলে নিয়ে গিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ওই দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনা জানাজানি হতেই তুমুল শোরগোল পড়ে যায় দিনহাটা ২ নম্বর ব্লকের নাজিরহাট ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের নোটাফেলা সীমান্তে।
এই ঘটনা নিয়েই সামাজিক মাধ্যমে আবারও বিএসএফের সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহ। সামাজিক মাধ্যমে তিনি বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করে লেখেন,"এই পোস্টের কারণ গত দুদিন ধরে দিনহাটা-২ ব্লকের নাজিরহাট-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী গ্রামে বাংলাদেশের সমাজবিরোধীরা এসে কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে ভারতীয়দের জমির ফসল, পাম্পসেট নির্বিচারে লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। অজ্ঞাত কারণে বিএসএফকে সেইভাবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে দেখা যাচ্ছে না। কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত অবিলম্বে এই অসহায় মানুষগুলির সহায় সম্পত্তি রক্ষা করতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।"
মন্ত্রীর এই ফেসবুক পোস্ট সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে দিনহাটা মহকুমা প্রশাসন। সীমান্ত এলাকায় গিয়ে বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, গ্রামবাসী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সহ অন্যান্য আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করেন মহকুমা প্রশাসনের আধিকারিকরা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন দিনহাটা মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ধীমান মিত্র, দিনহাটার মহকুমা শাসক বিধুশেখর, দিনহাটা ২ নম্বর ব্লকের বিডিও নীতিশ তামাং সহ অন্যান্যরা।
এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, কাঁটাতারের ভেতরে ভারতীয় নাগরিকদের চাষের জমিতে চাষ করতে গেলে সেখানে বাংলাদেশী দুষ্কৃতীরা এসে তাদের উপর হামলা চালায়। প্রতিবাদ করায় তখনকার মতো তারা চলে গেলেও পরে আবার এসে ভারতীয় নাগরিকদের তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে তাদের চাষের জমিতে থাকা দুটি পাম্প সেটের মধ্যে একটিতে আগুন ধরিয়ে, আরেকটি সেখান থেকে তুলে নিয়ে যায়। এরকম ঘটনা দিন দুয়েক ধরেই ঘটছে বলে স্থানীয়রা জানান। এরপরেই তাঁরা বিষয়টি ওই বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক তথা মন্ত্রী উদয়ন গুহকে জানান। পাশাপাশি দিনহাটা ২ নম্বর ব্লকের বিডিও নীতিশ তামাংকে জানান।
দিনহাটা মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ধীমান মিত্র বলেন, "ইতিমধ্যেই সীমান্তের দায়িত্বে থাকা বিএসএফ আধিকারিকরা বাংলাদেশের বিজিবির সাথে কথা বলেছে এবং তাদের কাছে সেই দুষ্কৃতীদের তালিকা দিয়েছে। বিজিবি আশ্বস্ত করেছে ওই দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার। পরবর্তী সময়ে যখন ভারতীয় কৃষকরা কাঁটাতারের ভেতরের চাষাবাদ করতে যাবেন সেই সময় বিএসএফের আধিকারিকরা তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন বলেও আশ্বস্ত করেছেন।"