
শেষ আপডেট: 6 July 2023 09:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলার শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগ দুর্নীতির বিষয়টি তাঁর করা মামলাতেই প্রথম নজরে আসে। বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে প্রাক্তন মন্ত্রী পরেশ অধিকারীর কন্যা অঙ্কিতার চাকরি পেয়েছিলেন ববিতা সরকার। কিন্তু তারপর তাঁরই চাকরি 'অবৈধ' হিসেবে অভিযোগ ওঠে। চাকরিও খোয়ান শিলিগুড়ির ববিতা। বৃহস্পতিবার ফের নিজের চাকরি ফেরত পেতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তিনি।
কীসের ভিত্তিতে মামলা করলেন ববিতা?
এবারও ববিতা বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসেই মামলা করলেন। তবে এবার তিনি কারওর চাকরিকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেননি। তাঁর দাবি, ২০১৬ সালের একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির নিয়োগ পরীক্ষার মেধাতালিকা প্রকাশ করুক স্কুল সার্ভিস কমিশন।
ববিতার আইনজীবী ফিরদৌস শামিম জানান, ২০১৬ সালে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে সাড়ে ৫ হাজার জনকে চাকরি পেয়েছিলেন। পরে এই নিয়োগের তদন্তে সিবিআই জানিয়েছিল, ৯০৭টি উত্তরপত্র বা ওএমআর শিট কারচুপি হয়েছে।ওয়েটিং লিস্টে থাকা ১৩৮ জন ছিলেন সেই তালিকায়। তাঁদের মধ্যে অনেকেই চাকরি পেয়েছেন।
ববিতার দাবি, মেধাতালিকা সামনে এলেই জানা যাবে, কারা কীভাবে চাকরি পেয়েছেন। ওএমআর শিট বিকৃত করে যাঁরা চাকরি পেয়েছিলেন, তাঁদের চাকরি বাতিল হলে তিনি ফের চাকরি পেতে পারেন বলে আশাবাদী ববিতা।
এই মামলায় বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়, কমিশনের বক্তব্য জানতে চেয়েছেন। আগামীকাল অর্থাৎ শুক্রবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে। সেদিনই এসএসসি-কে নিজেদের বক্তব্য জানাতে হবে।
রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীর চাকরি নিয়ে প্রশ্ন তুলে মামলা করেছিলেন ববিতা। তাঁর বক্তব্য ছিল, মেধাতালিকার নীচের দিকে নাম থাকা সত্ত্বেও চাকরি পেয়েছিলেন অঙ্কিতা। সেই মামলায় বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়, অঙ্কিতার চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেন। এবং সেই চাকরি ববিতাকে দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছিলেন।
কিন্তু পরে সেই ববিতার চাকরি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ, এসএসসি অ্যাকাডেমিক স্কোরে ববিতাকে ২ নম্বর বেশি দিয়েছে। তাই বেশ কয়েকজন যোগ্য চাকরিপ্রার্থীকে টপকে তিনি নিয়োগপত্র পেয়েছেন। এমনকী আদালতে কমিশনের দেওয়া তথ্যতেও সেই কথা উল্লেখ ছিল। তাতেই দেখা গিয়েছিল ববিতা সরকার অ্যাকাডেমিক স্কোরে ৩৩ পেয়েছেন। যদিও ববিতার ৩১ পাওয়ার কথা। কারণ, স্নাতক স্তরে তিনি ৬০ শতাংশ নম্বর পেয়েছেন, এই ভিত্তিতে প্রাপ্ত নম্বর বসিয়েছে এসএসসি।
সেই ভুলের কারণে চাকরি হারান ববিতা। সেই চাকরি পান অনামিকা রায় নামে অন্য এক চাকরিপ্রার্থী। এবার ববিতা ফের চাকরি পাওয়ার আশায় বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে গেলেন ববিতা।
পঞ্চায়েত ভোটে যেন নরক থেকে শয়তান জেগে উঠেছে: কষাঘাত রাজ্যপালের