‘ভোট শেষ, জোট শেষ’, সীতারামের ঘোষণায় আলিমুদ্দিনের হার্ডডিস্ক থেকে 'ডিলিট' মোর্চা তত্ত্ব
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একুশের ভোটে ঐতিহাসিক পরাজয় হয়েছে বাম-কংগ্রেসের। ভোটের আগে হঠাৎ গজিয়ে ওঠা সংযুক্ত মোর্চার হয়ে শুধুমাত্র বাতি জ্বালিয়ে রেখেছেন আইএসএফের (ISF) নৌসাদ সিদ্দিকি। তারপরেও বাংলা সিপিএম (CPM) দলীয় নথিতে বেশ কলার তোলার ভঙ্গিতেই লিখেছ
শেষ আপডেট: 17 September 2021 13:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একুশের ভোটে ঐতিহাসিক পরাজয় হয়েছে বাম-কংগ্রেসের। ভোটের আগে হঠাৎ গজিয়ে ওঠা সংযুক্ত মোর্চার হয়ে শুধুমাত্র বাতি জ্বালিয়ে রেখেছেন আইএসএফের (ISF) নৌসাদ সিদ্দিকি। তারপরেও বাংলা সিপিএম (CPM) দলীয় নথিতে বেশ কলার তোলার ভঙ্গিতেই লিখেছিল, আগামী উপনির্বাচন ও পুর নির্বাচনেও সংযুক্ত মোর্চা করে লড়াই হবে। যদিও ভবানীপুরের ভোট ঘোষণা হতেই দেখা গিয়েছে মোর্চা আসলে কর্পূর। উবে গিয়েছে।
সিপিএমের সম্মেলন প্রক্রিয়া শুরু হতেই জোট নিয়ে কার্যত কামান দাগা শুরু হয়েছে। সূর্য মিশ্র, মহম্মদ সেলিমদের ভূমিকা নিয়ে কার্যত সমালোচনার বন্যা বইছে। ঠিক তখনই বাংলা সফরে এসে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি (Sitaram Yechuri) স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন জোট আর নেই। ভোট শেষ হয়ে গিয়েছে, জোটও (পড়ুন মোর্চা) শেষ।
শিশুদের জ্বর হচ্ছে বাংলাজুড়ে, কোন ধরনের অসুখ ছড়াচ্ছে, কী পদক্ষেপ স্বাস্থ্য দফতরের
এদিন সীতারাম বলেন, “ভোট ছিল, মোর্চা ছিল। ভোট শেষ, মোর্চাও শেষ।” এর পর উদাহরণ টেনে সিপিএম সাধারণ সম্পাদক বলেন, “জনতা পার্টি এসেছিল ইন্দিরা গান্ধীকে হারানোর জন্য। হারিয়ে দিল তারপর জনতা পার্টি শেষ। তাৎক্ষণিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্য ফ্রন্ট তৈরি হয়। তা ফুরিয়ে গেলে আর তা রেখে দেওয়ার কারণ থাকে না।”
ভোট বিপর্যয় নিয়ে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট যে পর্যালোচনা করেছিল তা বাতিল করে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় কমিটি। তারপর কড়া পর্যালোচনায় দিল্লি সিপিএম লিখেছে,বাংলা ইউনিট একের পর এক ভুল করে গিয়েছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা না থাকা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটিকে সমালোচনার মেডেল দিয়েছিল কেন্দ্রীয় কমিটি। যে পর্যালোচনা ইয়েচুরিরা করেছেন তা কার্যত নিমের পাচনের মতো গেলাতে হয়েছে সূর্য মিশ্র, বিমান বসুদের।
সিপিএমের এক নেতার কথায়, ভোটে হারার পরেও গা জোয়ারি করে বলা হয়েছিল মোর্চা থাকবে। কিন্তু ওই পলকা মোর্চা যে থাকার নয় তা আগেই বোঝা গিয়েছিল। কিন্তু তাও গাজোয়ারি করে ওইসব লেখা হয়েছিল। এক নেতার কথায়, রাজ্য কমিটির কিছু নেতা এমন করছিলেন যে দেখে বোঝা যাচ্ছে না তাঁরা এআইসিসি-র সদস্য নাকি ফুরফুরাশরিফের লোক। যে ঔদ্ধত্য তাঁরা দেখিয়েছিলেন এদিন সেটাকেই রিসাইকেলবিনে ফেলে দিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'