দ্য ওয়াল ব্যুরো: বর্ধমানে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে রেলের ভুয়ো নিয়োগপত্র বিলি চক্র। জানা গেছে, রেলের নামে ভুয়ো ওয়েবসাইট খুলে সেখানে চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে বেকার ছেলে-মেয়েদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারকেরা। প্রতারণা চালানোর জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে বর্ধমান স্টেশন চত্বরকেই। প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে ভুয়ো নিয়োগপত্র দিয়ে চাকরি প্রার্থীদের বর্ধমান স্টেশনে ডেকে এনে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
চাকরির ভুয়ো নিয়োগপত্র পাঠিয়ে প্রতারণার বেশ কয়েকটি ঘটনা প্রকাশ্যে আসে কিছুদিন আগে। প্রতারিতদের কাছ থেকে পাওয়া সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ। এরপরেই গ্রেফতার হন এই চক্রের জনা তিনেক চাঁই। পুলিশি হেফাজতে থাকা ওই ব্যক্তিদের জেরা করে এই কারবারের বিষয়ে বেশ কিছু নতুন তথ্য জানতে পেরেছে পুলিশ।
প্রতারিতদের অভিযোগ,রেল কর্তৃপক্ষ ও জিআরপির নিষ্ক্রিয়তাকে হাতিয়ার করেই নতুন করে এই ধরণের অপরাধবৃত্তি মাথা চারা দিচ্ছে। এমনকি প্রতারকদের ধরার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, এমন অভিযোগও করেন তাঁরা। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে জিআরপি। জিআরপির এক অফিসার বলেন, প্রতারণা চক্রের বিষয়ে জানতে পারার পরই অভিযান চালিয়ে এই চক্রের একজনকে ধরা হয়। তাকে হেফাজতে নিয়ে চক্রের কাজ কারবার বিষয়ে কিছু তথ্য হাতে এসেছে। জেরা হয়ে চক্রের সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকজনের নামও জানা গেছে। তাদের বিরুদ্ধেও যত দ্রুত সম্ভব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বেশ কিছুদিন আগে সিবিআই অফিসার পরিচয় দিয়ে রেলে চাকরির ভুয়ো নিয়োগপত্র দেওয়া হয় হুগলির এক যুবতীকে। চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর কাছ থেকে সেসময় ১৩ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারকেরা। রেলের অফিসার পরিচয় দিয়ে বর্ধমান স্টেশনে ওই যুবতীকে কাজের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। পরে তাঁকে বর্ধমান স্টেশনেই কাজে যোগ দেওয়ার জন্য বলা হয়। তাঁকে যে ভুয়ো নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছিল, তা পরে বুঝতে পারেন যুবতী। এরপরই ঘটনার বিষয়ে বর্ধমান থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
পুলিশের কাছে করা অভিযোগে বর্ধমান শহরের ইছলাবাদ এলাকার এক যুবকের নাম উল্লেখ করেন ওই যুবতী। তার বিরুদ্ধে এর আগেও রেলে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার বেশ কয়েকটি অভিযোগ রয়েছে।
একইভাবে আইআরসিটিসিতে চাকরি দেওয়ার নাম করে কুলটি থানার রাধানগর হাটের বাসিন্দা সন্দীপ পাশোয়ানের কাছ থেকে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা নেয় প্রতারকেরা। তার মতো আরও কয়েকজনের কাছ থেকে রেলে চাকরি দেওয়ার নাম করে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তাঁদের বর্ধমান স্টেশনে কাজে যোগ দিতে বলা হয়। কাজে যোগ দিতে এসে প্রতারণার বিষয়টি জানতে পারেন সন্দীপ। সেই ঘটনার পরই কুলটি থানার চিনাকুরির বাসিন্দা অজিত কুমার মিশ্রকে গ্রেফতার করে জিআরপি। রেলমন্ত্রকের বর্ধমান ও আদ্রা ডিভিশনের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মচারীও এই ভুয়ো নিয়োগচক্রের সঙ্গে জড়িত আছেন বলে তদন্তে জানা গেছে। ধৃতকে পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করেও বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে।
দিনতিনেক আগে আরও কয়েকজন যুবক রেলের ভুয়ো নিয়োগপত্র নিয়ে বর্ধমান স্টেশনে কাজে যোগ দিতে আসেন। সেই ঘটনার পর আরও এক প্রতারককে আটক করে পুলিশ। তবে, উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে তাকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। আটক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করে রেলের ভুয়ো নিয়োগপত্র চক্রের সঙ্গে জিনা তিনেকের নাম পায় পুলিশ। তাদের মধ্যে দু’জনের বাড়ি বর্ধমান শহরে। অপরজনের বাড়ি গলসিতে। এই তিনজনের বিরুদ্ধে অতীতেও রেলের ভুয়ো নিয়োগপত্র বিলির অভিযোগ আছে। ২১তারিখ সোমবার এই তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ভুয়ো নিয়োগপত্র বিলির পুরানো সেই চক্রটিই আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বর্ধমান থানার এক অফিসার জানান, তদন্ত শুরু হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনমাফিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে পূর্ব রেলের জনসংযোগ আধিকারিক নিখিল চক্রবর্তী অবশ্য বলেন, "বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি। এমন কিছু ঘটে থাকলে আরপিএফকে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানাব।"