দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের সমস্ত রাজ্যকে আগামী দু’দিনের জন্য র্যাপিড টেস্ট কিটের (আরটিকে)ব্যবহার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিল আইসিএমআর। মঙ্গলবার বিকেলে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের বৈঠকে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চের (আইসিএমআর)এপিডেমোলজি ও কমিউনিকেবল ডিজিজের প্রধার রমন আর গঙ্গাখেদকর বলেছেন, অনেক জায়গাতেই র্যাপিড টেস্ট কিট দিয়ে নমুনা পরীক্ষা করে নিশ্চিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। বহু ক্ষেত্রে টেস্ট রিপোর্ট অমীমাংসিত থেকে যাচ্ছে, সেক্ষেত্রে রিপিড টেস্ট করার দরকার পড়ছে। তাই আপাতত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
র্যাপিড টেস্ট কিট দিয়ে নমুনা পরীক্ষায় অমীমাংসিত ফল আসছিল বলে আগেই অভিযোগ উঠেছিল। চটজলদি সংক্রমণ ধরার জন্যই র্যাপিড টেস্ট কিট ব্যবহার করা হয়। সাধারণত করোনার সংক্রমণ ধরার মতো কার্যকরি পরীক্ষা পদ্ধতি হল আরটি-পিসিআর (রিভার্স পলিমারেজ চেন রিঅ্যাকশন)। আরটি-পিসিআর টেস্টে নির্ভুল তথ্য পাওয়া যায় ঠিকই তবে এই টেস্ট যেমন খরচসাপেক্ষ তেমনি সময়ও লাগে অনেক। কম করেও ছ’ঘণ্টা। সেই কারণেই একসঙ্গে বহু মানুষের থেকে নেওয়া নমুনা চটজলদি পরীক্ষার জন্য র্যাপিট টেস্ট কিন বা আরটিকে ব্যবহারেই সবুজ সঙ্কেত দিয়েছিল আইসিএমআর। আরটিকে দিয়ে নমুনা পরীক্ষা করতে ১৫ মিনিটের মতো সময় লাগে।
তবে ইদানীং র্যাপিড টেস্ট কিট দিয়ে নমুনা পরীক্ষার রেজাল্টে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল না বলে অভিযোগ আসছিল দেশের নানা প্রান্ত থেকেই। এদিনের বৈঠকে গঙ্গাখেদকরও এই অভিযোগের কথা মেনে নেন। তিনি বলেন, “টেস্ট কিটগুলিতে কী গলদ হচ্ছে সেটা আগে পরীক্ষা করে দেখতে হবে। তার জন্য আমাদের টিম গিয়ে প্রতি জায়গায় র্যাপিড টেস্ট কিটের গুণগত মান খতিয়ে দেখবে। নিশ্চিত হওয়ার পরেই ফের তা ব্যবহারে অনুমতি দেওয়া হবে। ততদিন পর্যন্ত র্যাপিড টেস্ট কিটের ব্যবহার বন্ধ রাখা হবে। “
সম্প্রতি রাজস্থানও আরটিকে দিয়ে রোগীদের থেকে নেওয়া নমুনা পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়েছে। রাজস্থান স্বাস্থ্য দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, রাজ্যে যে র্যাপিড টেস্ট কিট পাঠানো হয়েছে তার মধ্যে গলদ রয়েছে। রাজ্যের স্বাস্থ্য মন্ত্রী রঘু শর্মা জানিয়েছেন, এই টেস্ট কিটগুলি মাত্র ৫.৪% ক্ষেত্রে সঠিক রিপোর্ট দিয়েছে। বাকি সব ক্ষেত্রেই এই টেস্ট কিট দিয়ে নমুনা পরীক্ষার ফল অমীমাংসিত। হটস্পটগুলিতে ১৭০টি টেস্ট করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রঘু শর্মা। তাঁর অভিযোগ, প্রথমবার আরটিকে দিয়ে নমুনা পরীক্ষা করে যাঁদের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছিল, দ্বিতীয়বার র্যাপিড টেস্ট কিট দিয়ে পরীক্ষা করে দেখা গেছে সেইসব রিপোর্ট নেগেটিভ। বার বার পরীক্ষা করেও নিশ্চিত ফল পাওয়া যায়নি।
আইসিএমআরের টেস্ট কিটে গলদ আছে বলে অভিযোগ উঠেছিল এ রাজ্যে। নাইসেড যে টেস্ট কিট সরবরাহ করেছে তা দিয়ে রোগীর নমুনা পরীক্ষার সময় বহু ক্ষেত্রেই অমীমাংসিত ফল পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছিল রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। নবান্নের বক্তব্য ছিল, আইসিএমআর-নাইসেড যে টেস্ট কিট সরবরাব করছে সেগুলি ত্রুটিপূর্ণ। বহু ক্ষেত্রে অমীমাংসিত ফল আসায় নিশ্চিত হতে রিপিট টেস্ট করতে হচ্ছে। সেই কারণেই ফাইনাল টেস্ট রিপোর্ট পেতে দেরি হচ্ছে। রাজ্যের অভিযোগের জবাবে গঙ্গাখেদকার বলেছিলেন, টেকনিশিয়ানদের ভুলেই হয়ত টেস্ট কিটের রেজাল্টে গলদ দেখা যাচ্ছে। তাঁর দাবি ছিল, টেস্ট কিটগুলি ব্যবহার করা ও সংরক্ষিত রাখার উপায় আছে। সর্বদাই ২০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রার নিচে এগুলো রাখতে হয়। তার উপরের তাপমাত্রায় রাখলে টেস্ট রিপোর্ট ঠিক নাও আসতে পারে।