
শেষ আপডেট: 11 December 2022 11:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: অ্যাডমিট কার্ডে (Admit Card) লেখা পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে জানতে পারেন সেখানে নয়, প্রায় একইনামের দু'ঘণ্টা দূরত্বের স্কুলে সিট পড়েছে! রবিবার টেট পরীক্ষা দিতে গিয়ে এমনই ঠিকানা বিভ্রাটের শিকার হলেন হাসনাবাদের পর্ণা দাস (TET Examinee)। তবে শেষ পর্যন্ত সাংবাদিকদের (Journalist) প্রচেষ্টায় তিনি টেট পরীক্ষায় বসতে পারেন।
হাসনাবাদের পর্ণা দাসের দাবি, টেট পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ডে পরীক্ষাকেন্দ্রের ঠিকানা লেখা ছিল- কল্যাণনগর বিদ্যাপীঠ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল। যা দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমতলায় অবস্থিত। রবিবার তাই ভোর ভোর বাড়ির গাড়িতে করে বেরিয়ে পড়েন পর্ণা। নির্দিষ্ট সময়ের আগেই পৌঁছেও যান। কিন্তু সেখানে পৌঁছে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার জোগাড় হয় ওই পরীক্ষার্থীর। জানতে পারেন ওখানে পরীক্ষার আসন পড়েনি। পরীক্ষা দেওয়ার জন্য তাঁকে যেতে হবে সেই খড়দহের কল্যাণনগর বিদ্যাপীঠ স্কুলে। যা আমতলা থেকে প্রায় ৪২ কিলোমিটার দূরে!
তবে হাল না ছেড়ে সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি ঘুরিয়ে খড়দহের দিকে রওনা দেন পর্ণা। সাংবাদিকদের পরামর্শে কলকাতার গিরিশ পার্কে পৌঁছে মেট্রো ধরেন। বরানগর মেট্রো স্টেশনে নেমে সোদপুর স্টেশনের অটো ধরেন। সোদপুর স্টেশন পৌঁছতেই এক সাংবাদিক তাঁকে গাড়িতে তুলে সঠিক পরীক্ষাকেন্দ্র খড়দহ কল্যাণনগর বিদ্যাপীঠে পৌঁছে দেন। পরীক্ষা শুরুর আগেই পৌঁছে যান পর্ণা। ভালভাবেই পরীক্ষা দেন তিনি। পরে পরীক্ষা শেষে সাংবাদিকদের ধন্যবাদও জানান।
তবে শুধু পর্ণা দাস নয়, আমতলা কল্যাণনগর বিদ্যাপীঠ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল ও খড়দহ কল্যাণনগর বিদ্যাপীঠ স্কুলের মধ্যে এই ঠিকানা বিভ্রাটের জেরে আরও বেশকিছু পরীক্ষার্থী সমস্যায় পড়েন। তবে আমতলার কাছে বিষ্ণুপুর থানায় বিষয়টি জানালে তারাই গাড়ির ব্যবস্থা করে দেয়। ততে করেই দেরিতে হলেও সঠিক পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছন পরীক্ষার্থীরা। বিশেষ অনুমতি দিয়ে তাঁদের টেটে বসতে দেওয়া হয়। এদিকে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ জানিয়েছে, অ্যাডমিট কার্ডে প্রথমে ভুল থাকলেও তা পরে সংশোধন করে দেওয়া হয়। পর্ষদের পোর্টালেও বিষয়টি জানানো হয়েছিল। তবু কেন এই পরীক্ষার্থীরা তা খেয়াল করলেন না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
উল্লেখ্য, সাংবাদিকদের পাশাপাশি পুলিশও ভুল পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে যাওয়া বা রাস্তা ভুল করা পরীক্ষার্থীদের সময়ের মধ্যে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দিয়েছে।
সল্টলেকের গোলকধাঁধায় পথ হারিয়েছিলেন টেট পরীক্ষার্থী। খড়দহ থেকে আসছিলেন তিনি। অ্যাডমিট কার্ডে লেখা ছিল, সেচ ভবনের সামনে আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র হাইস্কুল ফর বয়েসে তাঁর টেট পরীক্ষার সিট পড়েছে। সেইমতো বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বিধাননগর স্টেশন থেকে ধরা অটো ভুল জায়গায় নামিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। এদিকে ১১ টা বাজতে আর অল্প সময়ই বাকি ছিল, তারপর আর পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢোকা যাবে না। সেই সময় দেবীদাস গাঙ্গুলি নামে ওই পরীক্ষার্থীর ত্রাতা হয়ে দেখা দেয় বিধাননগর কমিশনারেটের পুলিশ। তারা বাইকে করে খড়দহ থেকে আসা দেবীদাসবাবুকে ১১ টা বাজার আগেই পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দেন।
টেট নিয়ে ‘কড়া’ পর্ষদ! পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পরীক্ষাকেন্দ্র ঘুরে দেখলেন গৌতম পাল