দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভা ভোটে বামেদের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে রবিবার বৈঠক ছিল কংগ্রেসের। সেই বৈঠকের শুরুতেই ১৩০টি আসনের দাবি জানালেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী।
এদিন বৈঠকের শুরুতেই অধীরবাবু জানিয়ে দেন, কংগ্রেসেক স্পষ্ট কথা। গতবার মাত্র ৯২টি আসনে লড়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু এ বার তাতে হবে না। জোট বেঁধে যদি লড়াই করতে হয়, তবে পরস্পরকে যথাযোগ্য মর্যাদা দিয়েই আসন সমঝোতা করতে হবে। অধীরবাবুর এই দাবিতে সঙ্গত করেন বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান।
তবে বামেরা এদিনই কোনও সম্মতি দেননি। রবিবারের বৈঠকে বামেদের তরফে ছিলেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র ও বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু।
সূত্রের মতে, বামেরা হয়তো ভাবতে পারেননি প্রথম বৈঠকেই এ ভাবে আসন সংখ্যা বলে দেবেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। ফলে তাঁরা কিছুটা থতমত খেয়ে যান। তবে সূর্যবাবু বৈঠকে জানিয়েছেন, তাঁরা এ ব্যাপারে বামফ্রন্টের মধ্যে আলোচনা করে তাঁদের বক্তব্য পরের বৈঠকে জানাবেন।
২০১৬ সালের ভোটে কংগ্রেস ৯২টি আসনে লড়ে ৪৪টি আসনে জিতেছিল। বামেরা লড়েছিল ২০০-র বেশি আসনে। তারা জিতেছিল মাত্র ৩৩টি আসন। সেদিক থেকে কংগ্রেসের স্ট্রাইক রেট ছিল বেশি।
সিপিএমের রাজ্য কমিটির এক সদস্য এদিন বলেন, কংগ্রেসের প্রস্তাব নিয়ে নীতিগত ভাবে হয়তো সিপিএমের সমস্যা হবে না। আসল সমস্যা হবে বামফ্রন্টের শরিক দলগুলিকে নিয়ে। তাদের ভোট শতাংশ একেবারে তলানিতে ঠেকেছে। কিন্তু আসন চাই ষোলো আনা।
কংগ্রেসের আবার বক্তব্য, ফ্রন্ট শরিকদের বোঝানোর দায়িত্ব সিপিএমকেই নিতে হবে। তা ছাড়া দলের মধ্যে অধীর চৌধুরী বলেছেন, নীতি, আদর্শ, সমীকরণ, সাত-পাঁচ ইত্যাদি ভেবেচিন্তে আসন বন্টন করতে গিয়ে গত ভোটে অনেক সময় নিয়েছিলেন বামেরা। তাঁরা জোট করলেও সেই সমঝোতার প্রতি দায়বদ্ধতা, মানুষকে বার্তা দেওয়া ইত্যাদিতে খামতি ছিল। গোড়া থেকে যৌথ প্রচারে কোনও ভাবেই রাজি হয়নি। একেবারে শেষ দফার ভোটের আগে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ও রাহুল গান্ধীর যৌথ সভা হয়েছিল। অথচ সেই সভাটাই সবার প্রথমে হওয়ার কথা ছিল। সুতরাং এখন সময় নষ্ট করে লাভ নেই। স্পষ্ট কথা হল, ১৩০ টি আসনে লড়তে চায় কংগ্রেস। তাদের দুই শিবিরের সম্মান থাকবে।