
শেষ আপডেট: 28 January 2023 14:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বাস্থ্য সাথী কার্ড (Swasthya Sathi) ফেরালে বা মুমূর্ষু রোগীকে ভর্তি করতে না চাইলে বেসরকারি হাসপাতালের (hospital) লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করলেন ডায়মন্ড হারবারের (Diamond Harbour) সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।
শনিবার ডায়মন্ড হারবারে প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অভিষেক। সেখানে পর্যালোচনার পর কেবলমাত্র স্থানীয় স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রসঙ্গে অভিষেক এ কথা বলেছিলেন ঠিকই। পরে এও বলেন, “গোটা বাংলা জুড়েই এটা হওয়া উচিত”।
অভিষেক ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। গোটা রাজ্য জুড়ে সরকার কী প্রশাসনিক পদক্ষেপ করবে তা বলার এক্তিয়ার তাঁর নেই। সম্ভবত সেই সূক্ষ্ম ফারাক রাখতেই এ ব্যাপারে বারবার ‘সুপারিশ’ বা ‘উচিত’ গোছের শব্দ এদিন ব্যবহার করেছেন অভিষেক। তবে যেহেতু তিনি শাসক দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং সাংগঠনিক ভাবে তৃণমূলের দ্বিতীয় শক্তিধর নেতা, তাই তাঁর দাবি প্রশাসন যে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে তা ধরে নেওয়া যায়।
এদিন প্রশাসনিক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অভিষেক বলেন, “স্বাস্থ্য সাথী কার্ড সংক্রান্ত অনেকগুলো অভিযোগ এসেছে। কিছু হাসপাতাল স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের মাধ্যমে রোগী ভর্তি নিচ্ছে না। ফিরিয়ে দিচ্ছে। মুমূর্ষু রোগীকেও বেড দিতে চাইছে না। সেই কারণে এদিনের প্রশাসনিক রিভিউ মিটিংয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্থির হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠছে, সেই সব বেসরকারি হাসপাতালের ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে প্রশাসনিক কর্তারা কথা বলবেন। ভবিষ্যতে যাতে এরকম না হয় তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করবেন”।
অভিষেক এদিন যে সমস্যার কথা বলেছেন, তা কেবল বিক্ষিপ্ত ভাবে ডায়মন্ড হারবারের সমস্যা নয়। স্বাস্থ্য সাথী কার্ড থাকা সত্ত্বেও রোগী ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ বিস্তর। খাস কলকাতাতেই এমন ঘটনার নজির রয়েছে। আর পাঁচটা বেসরকারি মেডিকেল ইনসিওরেন্সের সংস্থার ‘ক্যাশ লেস’ ব্যবস্থার মতো যেহেতু এই প্রকল্প নয়, তাই একাংশ বেসরকারি হাসপাতাল উৎসাহ দেখায় না। আবার বেসরকারি হাসপাতালের অনেকের অভিযোগ, স্বাস্থ্য সাথী কার্ডে যে কভারেজের কথা বলা হয়েছে, তা পর্যাপ্ত নয়। তাতে খরচ ওঠে না।
সরকারের দিক থেকেও এর পাল্টা যুক্তি রয়েছে। বাংলায় বেসরকারি হাসপাতালগুলির মধ্যে অনেকেই জমি বা পরিকাঠামো বাবদ সরকারের থেকে নানা সুবিধা অতীতে পেয়েছে। বিনামূল্য প্রতি মাসে বা বছরে নির্দিষ্ট সংখ্যক গরিব মানুষকে পরিষেবা দেওয়ার জন্য সেই কারণেই কিছু হাসপাতাল দায়বদ্ধ। কিন্তু আখেরে তা তারা অনেকে মনে রাখেনি।
অভিষেক এদিন বলেন, “যারা বলছে মুমূর্ষু রোগীকে বেড দেব না, আইসিইউতে নেব না কিংবা যারা জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা (immediate medical assistance) দিতে অস্বীকার করছে, তারা বর্বর কাজ করছে”। তিনি আরও বলেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে নিয়ন্ত্রণের জন্য মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যে রেগুলেটরি বোর্ড তৈরি করেছেন। তারাও ব্যাপারটা দেখছেন। সরকারি প্রকল্পকে তাচ্ছিল্য করা বা তার অবমাননা করা বরদাস্ত করা হবে না। শুধুমাত্র ব্যবসায়িক স্বার্থে হাসপাতাল চালিয়ে, রোগীদের ইমোশনকে কাজে লাগিয়ে মুনাফা লোটা যাবে না। রোগীর সঙ্গে সহানুভূতির সঙ্গে আচরণ করতে হবে। এর অন্যথা চলবে না।
রাষ্ট্রপতি ভবনের ঐতিহাসিক মোঘল গার্ডেনের নাম বদলে করা হল অমৃত উদ্যান