৭০ হাজার টাকা দিলে তবেই আবাস যোজনার বাড়ি! মহিষাদলের অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রান্তিক মানুষদের মাথার উপর ছাদ করে দেওয়ার জন্য আবাস যোজনা প্রকল্প (abas yojana) চালু করা হয়েছে সরকারের তরফে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বহু মানুষ মাথার পাকা বাড়ি পেয়েওছেন। মাথার উপর ছাদ মিলেছে তাঁদের। ইতিমধ্যেই প্রকল্পের মাধ্যম
শেষ আপডেট: 23 November 2021 08:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রান্তিক মানুষদের মাথার উপর ছাদ করে দেওয়ার জন্য আবাস যোজনা প্রকল্প (abas yojana) চালু করা হয়েছে সরকারের তরফে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বহু মানুষ মাথার পাকা বাড়ি পেয়েওছেন। মাথার উপর ছাদ মিলেছে তাঁদের। ইতিমধ্যেই প্রকল্পের মাধ্যমে যাঁরা বাড়ি পেয়েছে তাঁদের বাড়িতে গৃহপ্রবেশ অনুষ্ঠান করে বাড়ির চাবিও তুলে দেওয়া হয়েছে।
এসবেরই মাঝে এবার দুর্নীতির অভিযোগ উঠল শাসকদল ও সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীর তরফে দাবি করা হয়েছে, নিয়ম মেনে নয়, শাসকদলের নেতা-অফিসারদের টাকা দিলে তবেই মিলছে ঘর!
মহিষাদলের নাটশাল-২ গ্রামপঞ্চায়েতের বাসিন্দা শেখ মামুদের অভিযোগ, তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও বাড়ি পাননি তিনি। তাঁর কাছে ৭০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে! টাকা না দিতে পারায় নিজের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত তিনি।
শিশুদের সঙ্গে ওরাল সেক্স গুরুতর অপরাধ নয়! দোষীর সাজা কমিয়ে দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট
তিনি বলেন, "আবাস যোজনা প্রকল্পে আমার নাম থাকা সত্ত্বেও আমাকে বারবার ঘোরানো হয়। পরে আমার ১১৬ নম্বর বাঁকা গাজীপুর বুথের তৃণমূল সভাপতি শেখ আবুল ফারার আমাকে নিয়ে অঞ্চল দফতরে যান। সেখানে আমার সমস্ত কাগজপত্র দেখে অঞ্চল অফিসের আধিকারিক পূর্ণেন্দু পাত্র এবং পূর্ত সঞ্চালক অভিজিৎ দাস আমার কাছে ৭০ হাজার টাকা দাবি করেন!"
শেখ মামুদ জানিয়েছেন, তাঁকে রীতিমতো চাপ দেওয়া হয়, যাতে তিনি ওঁদের ৭০ হাজার টাকা দেন তাঁর বুথের সভাপতি আবুল ফারারের হাতে। মামুদ বলেন, "আমি ওঁদের বলেছি, আমি এত টাকা কোথা থেকে দেব! কিন্তু ওঁরা আমার কথা শুনতে নারাজ। শেষে ২০ হাজার টাকা ধার করে দেব বলে জানিয়েছি ওঁদের। কিন্তু পুরো টাকা আমি দিতে পারিনি বলে আমায় ঘর তৈরির প্রাপ্য টাকা দেওয়া হয়নি। ওঁদের বারবার বলেও ফল হয়নি, আমায় বলে দেওয়া হয়, ৭০ হাজার টাকা না দিলে বাড়ির টাকা পাব না।"
বিষয়টি লিখিত ভাবে মহিষাদলের বিডিও যোগেশ মণ্ডলকে জানিয়েছেন শেখ মামুদ। যদিও তাঁর এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূলের বুথ সভাপতি, অঞ্চল আধিকারিক ও বিডিও যোগেশ মণ্ডলও। তাঁদের পাল্টা অভিযোগ, শেখ মামুদের নামে পাকা বাড়ি রয়েছে আগেই। তিনি বাড়ি তৈরি করার জন্য অঞ্চলের থেকে অনুমতিও নেন। তার পরেও তিনি আবাস যোজনার টাকা কীভাবে পাবেন! শাসকদলকে কালিমা লিপ্ত করার জন্য এই ধরনের অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি, দাবি প্রশাসনের কর্তাদের।
তাঁরা আরও জানিয়েছেন, প্রশাসনের তরফ থেকে আইনি অভিযোগ দায়ের করা হচ্ছে শেখ মামুদের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বিধায়ক তিলক চক্রবর্তী জানান, এই ধরনের অভিযোগের কথা আমার কাছে আসেনি। আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেব।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'