দ্য ওয়াল ব্যুরো: টাকা নিয়ে দুই ব্যবসায়ীর বিবাদ। তারই জেরে সপাটে চড়। আর তাতেই নদিয়ার এক ব্যবসায়ীর মৃত্যুর অভিযোগ দায়ের হল কলকাতার চিৎপুর থানায়। গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্ত ব্যবসায়ীকে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত ব্যবসায়ীর নাম সমীর সাঁধুখা (৩৫)। তাঁর বাড়ি চাকদা থানার মদনপুর কলতলা পাড়ায়।
পুলিশ জানিয়েছে, লেডিস গার্মেন্টের কাটিং ও সেলাইয়ের ব্যবসা ছিল সমীরের। দীর্ঘদিন ধরে দমদমের চন্দ্রনাথ সিমলাই লেনের বাসিন্দা ব্যবসায়ী লাল্টু পোদ্দারের কাছ থেকে ব্লাউজ, সালোয়ার-কামিজ ইত্যাদির কাটিং নিয়ে এসে বাড়িতে লেবার দিয়ে সেলাই করাতেন তিনি। তারপর তা পৌঁছে দিতেন মহাজনের ঘরে। শুক্রবার সকালেও ম্যাটাডোর বোঝাই করে পোশাক পৌঁছে দিতে নদিয়া থেকে দমদমে আসেন সমীর।
সমীরের সঙ্গে ছিলেন নদিয়ার আরও দুই ব্যবসায়ী। তাঁরা জানান, শুক্রবার বিকেলে তৈরি পোশাক পৌঁছে দেওয়ার পরে লান্টু পোদ্দারের কাছে বকেয়া টাকা চেয়েছিলেন সমীর। পুজোর মরসুমে কারিগরদের বোনাস দিতে টাকা লাগবে বলে বারবার টাকা মিটিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। তা নিয়ে শুরু হয় দুজনের বচসা। হঠাৎই সমীরকে সপাটে এক চড় মারেন লাল্টু। এক চড়েই মাটিতে পড়ে যান তিনি। এরপর তাঁরাই দ্রুত সমীরকে তুলে আরজিকর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
সমীরের স্ত্রী বীথিকা সাঁধুখা বলেন, ‘‘এলাকার আরও দুই ব্যবসায়ীর সঙ্গে শুক্রবার সকালে মাল নিয়ে মহাজনের বাড়ি গিয়েছিলেন উনি। রাত আটটার সময় আমরা ফোনে খবর পাই উনি অসুস্থ। তখনই রওনা হয়ে আরজিকর হাসপাতালে এসে দেখি আর বেঁচে নেই।’’
এরপরেই চিৎপুর থানায় লাল্টু পোদ্দারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে সমীরের পরিবার। রাতেই চিৎপুর থানার পুলিশ লাল্টু পোদ্দারকে আটক করে। পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের পরে গ্রেফতার করা হয়েছে ওই ব্যবসায়ীকে। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।