
শেষ আপডেট: 28 December 2023 12:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: ২৩ দিনে পাড়ি দিতে হবে ২১০০ কিলোমিটার পথ। সাইকেল চালিয়ে সেই পথে পাড়ি দিয়েছেন এনসিসির ১৪ জন মহিলা ক্যাডেট।
জাতীয় সমরশিক্ষা বাহিনী অর্থাৎ এনসিসির ৭৫ বছর পূর্তি হয়েছে। একটি 'মেগা সাইক্লোথন'-এর আয়োজন করা হয়েছে। যা মহিলা ক্যাডেটরা পরিচালনা করছেন। গৌহাটি থেকে নয়াদিল্লি পর্যন্ত মোট ২১০৭ কিলোমিটার পথ সাইকেল চালাবেন উত্তরপ্রদেশের ১৪ জন বিশেষ প্রশিক্ষিত মহিলা ক্যাডেট। তাঁদের লক্ষ্য দেশের ‘নারীর ক্ষমতা প্রদর্শন’। তাই তাঁদের স্লোগান ''হাম কিসিসে কম নেহি।''
এই যাত্রাপথে তাঁদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন চারবারের ‘আয়রন ম্যান ফিনিশার' তথা 'কমরেডস আল্ট্রা ম্যারাথনার’ কর্নেল অঞ্জন সেনগুপ্তের। গত রবিবার থেকে তাঁরা এই কঠিন যাত্রাপথে পাড়ি দিয়েছেন। জানা গিয়েছে, এই দলটি প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৯০ থেকে ১০০ কিলোমিটার সাইক্লিং করছেন।
গত ২৪ ডিসেম্বর আসামের রাজ্যপাল শ্রী গুলাব চাঁদ কাটারিয়া গুয়াহাটির রাজভবন থেকে ফ্ল্যাগড অফ করে সাইকেল যাত্রার শুভসূচনা করছেন। আসাম রাজ্য পার হয়ে তাঁরা এখন পশ্চিমবঙ্গে রয়েছেন। এরপর তাঁরা বিহার, উত্তরপ্রদেশ হয়ে নতুন বছরের ২৮ জানুয়ারি দিল্লিতে জাতীয় সমর শিক্ষা বাহিনীর প্রাইম মিনিস্টারস র্যালি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। সেখানে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ফ্ল্যাগড ইন করবেন।
এনসিসি বাহিনীর দার্জিলিং ও সিকিম গ্রুপের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জয়দীপ যাদব বলেন, ''এনসিসি বাহিনী দেশপ্রেমের উপর দাঁড়িয়ে আছে। আমাদের দেশে নারীর ভূমিকা সর্বদাই সর্বাগ্রে। তাই আমাদের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে নারী শক্তির বার্তা নিয়ে এই পথ সাইকেল যাত্রা।''
এই ১৪ জন মহিলা ক্যাডেট আড়াই মাস ধরে কঠিন শারীরিক ও মানসিক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এরপরেই তাঁরা এই সুপার হিউম্যান অর্থাৎ অতি মানবীয় যাত্রা পথে পাড়ি দিয়েছেন।
এই দলে রয়েছেন দিব্যা ঘোষাল। যাত্রা শুরু দিন তিনি জানান, ''এই র্যালিতে অংশ নেওয়ার আগে তাঁদের আড়াই মাস কঠিন প্রশিক্ষণ মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। প্রথমে প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার সাইকেল চালাতে হয়েছে। এরপর সেটা বেড়ে দাঁড়ায় ১০০ কিলোমিটারে। শুধু তাই নয়, ফিজিও থেরাপি সহ আরও অন্যান্য ধরনের প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছে।''
টিম লিডার কর্নেল অঞ্জন সেনগুপ্ত জানিয়েছেন, দেশবাসীকে নারী শক্তি বিকাশ ঘটনার বার্তা দিতেই এই সাইকেল র্যালির আয়োজন করা হয়েছে। কিন্তু সাইকেলে যাত্রা কেন সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে কর্নেল বলেন, সাইকেল পলিউশন ফ্রি। তাই এর ব্যবহার যত তাড়াতাড়ি বাড়বে, তত তাড়াতাড়ি আমাদের দেশ গ্রিন এন্ড পলিউশন ফ্রি হবার লক্ষ্যে এগিয়ে যাবে।