দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: কথায় আছে সকাল দেখলে বোঝা যায়, দিনটা কেমন কাটবে। ঠিক তেমনি নিত্যদিনের অভিজ্ঞতায় তাঁরা আবহাওয়ার ভাবগতিক দেখে এ মরসুম শুভ হবে বলেই ভেবেছিলেন শুরুতে। নদীর জলের রঙ দেখে আগাম জানিয়েছিলেন, এ বার বান ডাকবে ইলিশের। কিন্তু সময় যত এগিয়েছে, নামখানা, কাকদ্বীপের মৎস্যজীবীরা বুঝতে পারছেন ভুল রয়েছে তাঁদের ভাবনায়।
ইলিশ মাছ নিয়ে বাঙালির হাহাকার এ বার বর্ষার শুরু থেকেই। দেরিতে হলেও গত কয়েকদিনে দিঘা মোহনায় তবু ট্রলার ভরে ইলিশ আসার খবর মিলেছে। কিন্তু কাকদ্বীপ -নামখানার মৎস্যজীবীদের ফিরতে হচ্ছে মোটের উপর খালি হাতেই। বাড়তি বিপদ ইলিশের খোঁজে সাগরে গিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়তে হয়েছে মৎস্যজীবীদের। এই মরসুমে তিনবার ট্রলারডুবির ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে কাকদ্বীপ -নামখানার ২৭ জন মৎস্যজীবীর। এখনও নিখোঁজ ১০ জন।
মৎস্যজীবীরা জানান, এ বছরের মতো এত বিপদে গত কয়েক দশক ধরে পড়তে হয়নি তাঁদের। সারা বছর তাঁরা আশায় থাকেন কখন ইলিশের মরসুম আসবে। এই কয়েক মাসের ইলিশ মরসুমের উপরই তাঁদের বাঁচা নির্ভর করে। কারণ সারা বছর মাছ ধরলেও ইলিশের মরসুমেই সর্বাধিক রোজগার হয়। কিন্তু এ বছর প্রথম থেকে ইলিশের দেখা মেলেনি। এক মৎস্যজীবী হারু দাস বলেন, "তারউপর এতজন মৎস্যজীবী মারা যাওয়ায় ভয়ও পেয়ে গিয়েছেন অনেকে । হতাশ ট্রলার মালিকরাও। সব মিলিয়ে এ বারের ইলিশের মরসুম এখনও পর্যন্ত সুখাই। ভালো আবহাওয়ায় গভীর সমুদ্র পাড়ি দিয়েছেন। কিন্তু জাল ফেলতেই আবার আবহাওয়া খারাপ হয়ে যাওয়ায় শূন্য হাতেই তড়িঘড়ি ঘরে ফিরতে হচ্ছে আমাদের।"
ডায়মন্ডহারবার নগেন্দ্র বাজারের মালিক দুলাল দাস বলেন, "এ বছর মরসুমের শুরু থেকে ইলিশের তেমন দেখা মেলেনি। যা আসছে তার দাম আকাশছোঁয়া। কলকাতা সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে ক্রেতারা মাছ কিনতে আসছেন। কিন্তু এতদাম দেখে বেশিরভাগই কিনতে পারছেন না।"
ডায়মন্ডহারবার নগেন্দ্র বাজারের সম্পাদক জগন্নাথ সরকার জানান, গত কয়েকদিনে মাত্র ৪০ গাড়ি মাছ এসেছে। তাতে ইলিশের পাশাপাশি রয়েছে অন্য মাছও। ৪০০-৫০০ গ্রামের যে ইলিশ এসেছে তার যা দাম, ক্রেতারা দেখেই ফিরে যাচ্ছে। মাছ কিনতে পারছে না। অন্য বছরের তুলনায় এ বছর ইলিশ মাছ কম আসায় দাম ও এত বেশি।
কাকদ্বীপ মৎস্যজীবী সংগঠনের সম্পাদক বিজন মাইতি জানান, গভীর সমুদ্রে ট্রলার নিয়ে মাছ ধরতে যেতে একটি ট্রলারে ১ লক্ষ থেকে ১.২০ লক্ষ টাকা খরচ। তেলের দাম বাড়ায় আরও খরচ বাড়ছে। সেখানে মাছ বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ হাজার টাকার। তাই খরচ উঠছে না। তাছাড়া এ বছর প্রথম থেকেই বিপদের মুখে পড়ছে মাছধরা ট্রলার।
তবুও আশায় বুক বেঁধেছেন তাঁরা। শেষবেলায় আসা ট্রলার ভরা ইলিশ যদি কোনও ভাবে ঘুরিয়ে দিতে পারে ভাগ্যের চাকাটাকে।