
শেষ আপডেট: 19 July 2019 10:30
ব্যাঙের বিয়ে দিলেই নাকি আসবে বর্ষা। নামবে বৃষ্টি। এমনটাই বিশ্বাস বহু মানুষের। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনার বেলাদণ্ড গ্রামে বসেছিল এমনই বিয়ের আসর। প্রথা মেনে মাঠ থেকে ধরে আনা কোলা ব্যাঙ ও সোনা ব্যাঙকে তেল হলুদ মাখিয়ে চালুনিতে করে ঘোরানো হল গোটা গ্রাম। ঢাক-কাঁসর বাজিয়ে মেতে উঠলেন গ্রামের মানুষজন। রীতিমতো মন্ত্র পড়ে তাদের বিয়ে দিল পুরোহিত। তারপর গর্ত করে জল ঢেলে ব্যাঙেদের রেখে দেওয়া হল সেখানে।
গ্রামের কৃষকদের দাবি, কয়েক বছর আগে এই ভাবেই ব্যাঙের বিয়ে দেওয়ার পরে শুরু হয়েছিল মুষলধারে বৃষ্টি। এ বছরও যদি হয় এমনটা।
ব্যাঙের বিয়ের উপর অবশ্য ভরসা করে নেই প্রশাসন। বর্ষা না আসায় তৈরি হওয়া এই সঙ্কট মোকাবিলায় শুক্রবার জরুরি বৈঠক করলেন দক্ষিণবঙ্গের সাত জেলার আধিকারিকরা। পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, দুই বর্ধমান, হুগলি, হাওড়া ও বাঁকুড়া জেলার আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন এই বৈঠকে।
বৈঠক শেষে বর্ধমান বিভাগের ডিভিশনাল কমিশনার বরুণ রায় জানান, চলতি মরশুমে বৃষ্টিপাতের ঘাটতি রয়েছে চল্লিশ শতাংশ। তিনি বলেন, “দামোদর ও মাইথন জলাধারে জলের উচ্চতা এই মরশুমে স্বাভাবিকের থেকে অনেক কম। তবু ঠিক হয়েছে ২৮ জুলাই থেকে খরিফ মরশুমের জন্য দফায় দফায় জল ছাড়া হবে।” দামোদর সার্কেলের সুপারিন্টেন্ডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার দেবাশিস পড়ুয়া বলেন, “বৃষ্টি হলে অবস্থার বদল ঘটবে। সুতরাং জলাধারগুলি থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ কম বেশি করা হবে অবস্থা অনুযায়ী।”