দ্য ওয়াল ব্যুরো, মুর্শিদাবাদ : জিয়াগঞ্জে গোটা পরিবার-সহ শিক্ষক খুনের ঘটনার তদন্ত চেয়ে এ বার নবান্নের দ্বারস্থ সাগরদিঘির পাল পরিবার। নিহত শিক্ষক বন্ধুপ্রকাশ পালের মা মায়ারানি পালের অভিযোগ, এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে বড় রহস্য আছে। পুলিশ এখনও তা খুঁজে বের করতে পারেনি। তিনি বলেন, “উৎপল একা এই খুন করেনি। সামান্য কয়েক হাজার টাকার জন্য ও কেন আমার ছেলের পরিবারকে শেষ করে দিতে যাবে?” মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে সেই বিষয়টাই জানাতে চান তিনি।
বিজয়া দশমীর দিন বেলা বারোটা নাগাদ জিয়াগঞ্জ শহরের লেবুবাগানে বাড়ির ভেতরে ঢুকে খুন করা হয়েছিল প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক বন্ধুপ্রকাশ পাল, তাঁর সন্তানসম্ভবা স্ত্রী বিউটি মণ্ডল পাল ও তাঁদের ৬ বছরের ছেলে বন্ধুঅঙ্গন পালকে। বাড়ির শোওয়ার ঘরের খাটের উপর দেহ মিলেছিল বন্ধুপ্রকাশবাবুর। মেঝেতে পড়েছিল তাঁর ছেলের রক্তাক্ত দেহ। পাশের ঘর থেকে পাওয়া গিয়েছিল বন্ধুপ্রকাশবাবুর স্ত্রী বিউটির ক্ষতবিক্ষত দেহ।
ঘটনার সাতদিন পর ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে উৎপল বেহড়া নামে ২০ বছরের এক যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশ। একটি পলিসির ২৪ হাজার প্রিমিয়ামের জন্যই পেশায় রাজমিস্ত্রী ওই যুবক বন্ধুপ্রকাশবাবু এবং তাঁর স্ত্রী-পুত্রকে খুন করেছে বলে দাবি করেছিল পুলিশ। জেলার পুলিশ সুপার শ্রী মুকেশ জানিয়েছিলেন, শিক্ষকতার পাশাপাশি বিভিন্ন বিমা কোম্পানির এজেন্টের কাজও করতেন বন্ধুপ্রকাশ। তাঁর কাছে থেকে একটি পলিসি করিয়েছিল অভিযুক্ত উৎপল। উৎপলের অভিযোগ, প্রথম বছরের ২৪ হাজার টাকা প্রিমিয়ামের রসিদ দিলেও দ্বিতীয় বছর টাকা নেওয়ার পর রসিদ দিচ্ছিলেন না বন্ধুপ্রকাশ। রসিদ না পাওয়ায় উৎপলের ধারণা হয়েছিল টাকা জমা দেননি বন্ধুপ্রকাশ। তাই বারবার টাকা ফেরত চাইছিল সে। তাই নিয়ে বচসা শুরু হলে উৎপলকে গালিগালাজ করে বন্ধুপ্রকাশ। সেই রোষেই ওই শিক্ষক, এবং তাঁর স্ত্রী ও পুত্রকে খুন করে উৎপল।
শুক্রবার মায়াদেবী দাবি করেন, “উৎপল একা নয়। এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে রয়েছে বড় চক্রান্ত। পুরোন শত্রুতার জেরেই খুন করা হয়েছে আমার ছেলে ও তাঁর পরিবারকে। আমি পুলিশকে বলেছি গভীরে গিয়ে তদন্ত হওয়া দরকার।" এই দাবি নিয়েই আজ নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চান তাঁরা।
পুলিশ হেফাজতে ধৃত উৎপলকে জেরা করার পর বৃহস্পতিবার সাগরদিঘি থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছিল মৃত শিক্ষকের মা মায়ারানি পাল ও তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের। জেলা পুলিশের ডাক পেয়ে সাগরদিঘি থানায় উপস্থিত হন মৃত বিউটি পালের বাবা সুখেনচন্দ্র মণ্ডল ও মা চন্দনা মণ্ডলও। সে সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশসুপার শ্রী মুকেশও। উৎপলই যে বন্ধুপ্রকাশ ও তাঁর পরিবারকে খুন করেছে সেই জবানবন্দি শোনানো হয় তাঁদের। দেখানো হয় জিয়াগঞ্জের সদরঘাট থেকে পাওয়া সিসিটিভি ফুটেজও। সেখানে উৎপলের জিয়াগঞ্জ শহরে প্রবেশ ও খুন করে ফিরে যাওয়ার প্রমাণ রয়েছে। এরপরেও কিন্তু বন্ধুপ্রকাশের মায়ের মন থেকে সন্দেহ দূর করতে পারেনি পুলিশ। বরং দীর্ঘক্ষণ ধরে পুলিশের সঙ্গে কথা বলার পর থানা থেকে বেরিয়ে এসে মায়ারানি পাল বলেন, “একা উৎপল এই কাজ করেনি। এর পিছনে পুরোন শত্রুদের হাত থাকতে পারে। পুলিশ খতিয়ে দেখুক।”