
শেষ আপডেট: 15 October 2018 18:30
তবে মাঝে বেশ কয়েকবছর বন্ধ ছিল পুজো। গোর্খাল্যান্ডের রাজনীতিকে প্রতিষ্ঠা করতে সুভাষ ঘিসিং নিদান দিয়েছিলেন দুর্গা পুজো বন্ধের। পাহাড়ে তখন শুধুই শিলা পুজো।
তারপর পাহাড়ের আকাশ দিয়ে হেঁটে গেছে অনেক মেঘ। রডোডেনড্রনের গাছগুলোও সাক্ষী হয়েছে অনেক রাজনীতির। সুভাষ ঘিসিং, বিমল গুরুং ঘুরে পাহাড়ে এখন বিনয় তামাং। পুজো বন্ধ নয় আর। এবার জিটিএ নিজেই আয়োজন করছে পুজোর।
সর্বজনীন সেই উৎসবে মিশছে সমতল আর পাহাড়ের আমজনতা। পাহাড়ের ওঠার রাস্তাতেও তাই শুধু সমতল থেকে আসা ট্যুরিস্টদের সারি সারি গাড়ি।
নৃপেন্দ্র নারায়ণ হিন্দু হলের পুজোতেও রোশনাই। ১০৪ বছরের ঐতিহ্য বহন করছে এই পুজো। প্রতিমা এসেছে কুমোরটুলি থেকে। মালদা থেকে এসেছেন ঢাকিরাও। তাদের ঢাকের গায়ে লাগানো সাদা ফুলেল সাজ যেন তিস্তার বুকের উপর সেজে ওঠা কাশবনেরই অংশ।
১৮৯০ সালে তৈরি হয়েছিল এই হল। তাঁদের গ্রীষ্মবকাশের শহরে বাঙালি নিজস্ব হল তৈরি করতে কার্পণ্য করেননি কোচবিহার, বর্ধমানের মহারাজারা। সঙ্গে ছিলেন অন্য ধনী জমিদাররাও।
এই পুজোর বিসর্জন ছিল রাজকীয়। বিসর্জনের দিন ভক্তদের কাঁধে চেপে দেবী যেতেন বর্ধমান রাজার প্রাসাদে। সেইখানেই তাঁকে সোনার হার পরিয়ে দিতেন ভক্ত রাজা। তারপর সমারোহ শোভাযাত্রা করে বিসর্জনের জন্য দেবীকে নিয়ে যাওয়া হত কাছের কাখঝোরায়।
সময় বদলে গিয়েছে অনেক। দেবীর মূল ভক্ত এখন রাজা নন আমজনতাই। তাই বিসর্জনের দিন দেবীকে ঘোরানো হবে গোটা শহর। তারপর ভাসান হবে ১৩ কিলোমিটার দূরের বাংলা খোলায়।
দেবীর পুজোয় অবশ্য কোনও ত্রুটি রাখছেন না আয়োজকরা। তিন দিন ধরে ভোগের ব্যবস্থা হচ্ছে সবার জন্য। সাবেক পাড়ার পুজোর মতো থাকছে নাটক-জলসার আয়োজনও। সপ্তমীর দিন নৃত্যনাট্য পরিবেশন করবে শহরের কচিকাঁচারা। অষ্টমীর থিয়েটারে অংশ নেবে বড়রা। নবমীর দিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করবে স্থানীয় ‘পরাকৃত’ মেলোডি। অষ্টমীর সকালে ছোটদের জন্য থাকবে বসে আঁকো প্রতিযোগিতাও।
স্থানীয়দের মতোই উচ্ছ্বল বাঙালি ট্যুরিস্টরাও। প্যান্ডেল ঘুরে ঠাকুর দেখার সুযোগ যে এবার দার্জিলিঙে।