
শেষ আপডেট: 13 October 2018 18:30
আপ্লুত পুজো কমিটির সদস্যেরাও। তাঁরাই জানালেন, সার্কাসের নানা টুকরো টুকরো মুহূর্তকে প্রাণবন্ত করে তোলা হয়েছে। যে কোনও সার্কাসে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হল বাঘ-সিংহের খেলা। সরকারি নিষেধাজ্ঞায় সেটা এখন স্মৃতি। তাই সে মুহূর্তগুলিকেও ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হয়েছে। আর রয়েছে নানা সাজে ট্রাপিজের খেলা।
স্থানীয় হাইস্কুলের মাঠে প্রায় তিন মাসের চেষ্টায় গড়ে উঠেছে এই মণ্ডপ। সাজসজ্জার কাজ করেছেন কাঁথি থেকে আসা একদল শিল্পী। প্রতিমার সাজেও রয়েছে বৈচিত্র্য। মণ্ডপে যেমন থিম সার্কাসের টাচ, প্রতিমার সাজে তেমনি রাজস্থানী ঘরানার ছোঁয়া। সাবেকি প্রতিমাই রাজস্থানী পোশাকে নজরকাড়া।
উৎসব কমিটির সম্পাদক নীলকান্ত ঘোষের কথায়, "হারিয়ে যাওয়া সার্কাস শিল্পকে আমরা থিমের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আমাদের ছোটোবেলায় শহরে সার্কাসের তাঁবু পড়তে দেখেছি। কিন্তু বর্তমান প্রজন্ম সার্কাস দেখার সুযোগ তেমন ভাবে পায়না।তাদের কথা ভেবেই আমাদের এই উদ্যোগ।"
এ বছর ২৭-এ পড়ল বিষ্ণুপুর তিন নম্বর ওয়ার্ডের সর্বজনীন। কমিটির অন্য এক সদস্য সুদীপ সেন বললেন, "আমাদের প্রথম ও প্রধান প্রচেষ্টা ছিল শিশু মনকে আনন্দ দেওয়া। আমরা সেই চেষ্টাই করেছি।"
শুধু শহর কলকাতা নয়, গোটা রাজ্যেই দুর্গা পুজোয় এখন থিমের ছোঁয়াচ। কোথাও দক্ষিণী মন্দিরের আদল, তো কোথাও সামাজিক বার্তা, কোথাও ইতিহাসকে তুলে ধরা হয়েছে তো কোথাও নারী স্বাধীনতার নানা দিক ফুটে উঠেছে শিল্পীর নিপুণ কারিগরি দক্ষতায়। সে দিকে থিমের মধ্যেও একটু বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করেছে বিষ্ণুপুরের এই পুজো। দর্শকদের ভিড় জানান দিচ্ছে, শীতের আগেই সার্কাস দেখার এমন অভিনব সুযোগ হাতছাড়া করতে রাজি নয় কেউই।