
শেষ আপডেট: 13 November 2019 13:41
তখনও বিশ্বভারতীতে উত্তোরণ হয়নি কবিগুরুর স্বপ্নের আশ্রম বিদ্যালয়। তবে তাঁর মুক্তচিন্তাকে স্বীকৃতি দিতে দেশবিদেশের বহু বিদ্বজ্জনের আনাগোনা শুরু হয়ে গেছে শান্তিনিকেতনের আশ্রম প্রাঙ্গনে। যাঁরা এসেছেন, নিজেদের অনুভব তাঁরা লিখে রেখে গেছেন এখানকার ভিজিটর্স বুকে।
রবীন্দ্রনাথের নামকরণ করা সেই ‘খেয়াল খাতা’ বদলে গেছে এক বছর আগে। সময়ের দাবি মেনে। আসলে ৭৩ বছরের জীর্ণতার ভার বহন করে এগোনো যাচ্ছিল না আর। দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে ১৯৪৫ সালে জওহরলাল নেহেরু নিজের অনুভব লিখে যে খাতার যাত্রা শুরু করেছিলেন, রবীন্দ্রভবনের অভিলেখাগারে অনেক যত্নে রেখেও তার যৌবন ধরে রাখা যায়নি। সে খাতায় চামড়ার বাঁধাইয়ের উপর ছিল সোনার জলের কাজ।
রবীন্দ্রনাথের স্বপ্নের বিশ্বভারতীর মূল মন্ত্র ‘যত্র বিশ্ব ভবত্যেক নীডম’ অর্থাৎ যেখানে বিশ্ব এসে একটি নীড়ে বাসা বাঁধে। ‘খেয়াল খাতায়’ যেন তারই প্রকাশ। চিনের প্রথম প্রধানমন্ত্রী চৌ এন লাই থেকে শুরু করে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট, জাপানের তোমিকো কোরা, কার অভিব্যক্তির প্রকাশ ঘটেনি এখানে ? গত সাত দশকে যাঁরা বিশ্বভারতীর আচার্য হয়েছেন যাঁরা, তাঁরা তো বটেই, এ পর্যন্ত ভারতের সমস্ত রাষ্ট্রপতির নানা মন্তব্যে সমৃদ্ধ হয়েছে সেই খেয়াল খাতা। ইতিমধ্যে খাতার ২৭০টি পৃষ্ঠার ব্যবহার হয়েছে। শেষ স্বাক্ষর ছিল প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের।
২০১৮ সালে বদলে যাওয়া এই খেয়াল খাতায় এখন বিশ্বভারতীর ছাত্রদের হাতে তাঁতে বোনা কাপড়ের মলাট। পৃষ্ঠাগুলিতে ব্যবহার হয়েছে ইতালি থেকে আনা অ্যাসিড ফ্রি কাগজ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্বাক্ষর দিয়ে শুরু হয়েছিল নতুন খেয়াল খাতার যাত্রা। এ বার সেখানে অনুভব লিখলেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ।
বিশ্বভারতীর জনসংযোগ আধিকারিক অনির্বাণ সরকার বলেন, ‘‘এ বার সমাবর্তনে এসে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ বিশ্বভারতী খেয়াল খাতায় তাঁর অনুভব লিখে গেছেন। আশ্রম বিদ্যালয়ের সময় থেকেই এই খেয়াল খাতা আমাদের সম্পদ। যে খাতার পাতা আজও স্পষ্ট করে বিশ্বভারতীর মূল মন্ত্র।’’