
শেষ আপডেট: 9 August 2018 14:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার দুপুরে দিল্লির যন্তরমন্তরের সামনে দলিত বিক্ষোভ মঞ্চের একটি ছবিতেই আনন্দের হাওয়া খেলে গেল বিধানভবন থেকে আলিমুদ্দিন পর্যন্ত।
এ দিন তপশিলী জাতি-উপজাতিদের উপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে সংসদে বিল পাশের দাবির সমাবেশ থেকে অক্সিজেন পেলেন বাংলার বাম এবং কংগ্রেস নেতারা। দলিত ইস্যুতে একমঞ্চে দেখা গেল কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী এবং সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরিকে।
যন্তরমন্তরের সামনে থেকেই রাহুল বলেন, “মোদী সরকার চায় দলিতদের পদদলিত করে রাখতে। যদি মোদীজির মনে দলিতদের জন্য এতটুকু জায়গা থাকত তাহলে সরকার তাঁদের জন্য অন্য ধরনের নীতি গ্রহণ করত।” সেই সঙ্গে রাহুলের আরও সংযোজন, “তিনি যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন একটি বইয়ে লিখেছিলেন- দলিতকে সাফাই করনে সে আনন্দ মিলতা হ্যায়। এটাই মতাদর্শ।” সীতারামও তাঁর বক্তৃতায় বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান।
প্রসঙ্গত ২০১৬ সালে বাংলার ভোটে সীতারাম এবং রাহুলের সম্পর্কের কারণেই বাম-কংগ্রেস জোটের পথ মসৃণ হয়েছিল। ইতিমধ্যেই প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী একাধিকবার বলেছেন, “তৃণমূলের সঙ্গে লড়তে গেলে বামেরাই বাংলার মাটিতে তাঁদের স্বাভাবিক বন্ধু।” সেই সঙ্গে বহরমপুরের এই সাংসদ প্রথম ইউপিএ সরকারের কথা মনে করিয়ে দেন। ব্যালান্সশিটে অঙ্ক কষে দেখিয়ে দেন কাদের সঙ্গে জট করে ভোটের অঙ্কে কংগ্রেসের লাভ হয়েছে।
অন্য দিকে সিপিএমের হায়দ্রাবাদ পার্টি কংগ্রেসের পর কংগ্রেস সম্পর্কে প্রকাশ কারাটদের নাক উঁচু ভাবটা অনেকটাই কেটেছে। কংগ্রেসের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা করার ক্ষেত্রে যে নিষেধাজ্ঞা ছিল তাও দলের দলিল থেকে উঠে গিয়েছে। ফলে টেকনিক্যালিও অ্যাডভান্টেজে সীতারাম।
কয়েক দিন আগেই দিল্লি গিয়ে সনিয়া এবং রাহুলের সঙ্গে দেখা করে এসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দশ জনপথ থেকে বেরিয়ে জোটের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। “আমরা সবাই রাজা” গানের উদাহরণ দিয়ে বলেছিলেন, এতাই গণতন্ত্রের মূল কথা। যার যেখানে শক্তি সে সেখানে লড়বে। ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন বাংলায় কংগ্রেস নেই। যৌথ নেতৃত্বের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বোঝাতে চেয়েছিলেন তিনি কারও নেতৃত্ব মানার ধার ধারবেন না।
তাহলে লোকসভা ভোটে বাংলায় কংগ্রেস কী করবে? বলবে সময়ই। অনেকে বলছেন যন্তরমন্তরের সামনের আজকের ছবিটার মধ্যেই রয়েছে উনিশের লোকসভার বাম-কংগ্রেস জোটের যন্তরমন্তর!