সাপের উপর অধিষ্ঠাত্রী দেবী, মুখ দিয়ে নামছে রক্তের ধারা! ভদ্রকালীর মন্দির নিয়ে গবেষণা জলপাইগুড়িতে
দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: ৫০০ বছরের বেশি সময় ধরে পূজিত হচ্ছেন দেবী। অগ্নি পুরাণের নারী শক্তির ত্রিধারার প্রথম ধারা ভদ্রকালীর এই মূর্তির আদলে রয়েছে বৈচিত্র্য। তথাকথিক মূর্তি কালী প্রতিমার মতো অবয়ব নয় দেবীর। এই রূপ নিয়েই নতুন করে গবেষণা শু
শেষ আপডেট: 2 November 2018 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: ৫০০ বছরের বেশি সময় ধরে পূজিত হচ্ছেন দেবী। অগ্নি পুরাণের নারী শক্তির ত্রিধারার প্রথম ধারা ভদ্রকালীর এই মূর্তির আদলে রয়েছে বৈচিত্র্য। তথাকথিক মূর্তি কালী প্রতিমার মতো অবয়ব নয় দেবীর। এই রূপ নিয়েই নতুন করে গবেষণা শুরু হল জলপাইগুড়ির পান্ডাপাড়ায়।
প্রতিবার কালী পুজোয় পান্ডাপাড়ায় ভক্তদের ভিড় উপচে পড়ে। মন্দির প্রাঙ্গনে বসে মেলা। এ বছরেও পুজোর আগে বেশ সাজো সাজো রব পান্ডাপাড়ায়।
১৭১৫ খ্রিষ্টাব্দে বৈকুণ্ঠপুরের রাজ পরিবারের সিংহাসনে বসেন দর্পদেব রায়কত। তিনি পুরী থেকে পান্ডা নিয়ে এসে শুরু করেন পুজো। মন্দির তৈরি অবশ্য তারও আগে হয়েছিল। ধীরে ধীরে মন্দির ঘিরে গড়ে ওঠে পান্ডাদের বসতি। বংশপরম্পরায় তাঁরাই এই মন্দিরের পূজারী। তাই এলাকার নামও হয়ে গেছে পান্ডাপাড়া।
বর্তমানে মন্দিরের দায়িত্বে রয়েছেন রাজ পরিবারেরই এক সদস্য সুব্রত চক্রবর্তী। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর প্রপিতামহ ছিলেন দর্পদেব। চার পুরুষ ধরে তাঁরাই এই মন্দিরের দায়িত্বে। নিত্য পুজোর পাশাপাশি, দীপান্বিতা তিথিতে ধূমধামের সঙ্গে পুজোর রেওয়াজ এখনও চলে আসছে।

মন্দির ও দেবী মূর্তি নিয়ে আগেও নানা গবেষণা হয়েছে। জলপাইগুড়ির গবেষক উমেশ শর্মা জানিয়েছেন, এই মূর্তির বিশেষত্ব হল অন্যান্য কালী মূর্তির মতো এর পায়ের নীচে মহাদেবের মূর্তি নেই, বরং রয়েছে দু'টি গোখরো সাপ। দেবী এখানে সাপের উপর অধিষ্টিত। উমেশবাবু বলেছেন পুরাণ মতে, এই সাপ দু'টি সৃষ্টি ও প্রলয়ের প্রতীক। দেবী এখানে দু'টি সাপকে গিলে খাচ্ছেন, অর্থাৎ একই সঙ্গে সৃষ্টি ও প্রলয়কে ধারন করে দেবী জনসাধারণের মঙ্গল কামনা করছেন। আরও একটি বৈশিষ্ট্য আছে মূর্তি, সেটি হল এখানে প্রতিমার জিভ নেই। মায়ের মুখ থেকে রক্তের ধারা নেমে এসেছে।
গবেষকদের মতে, ১৬৬৫ খ্রিষ্টাব্দে কোচবিহারের রাজা এখানে পুজো দিয়ে যান। পরে পুরী থেকে পান্ডা এনে পুজোর রীতি চালু করেন দর্পদেব। তাঁদের মতে, এই মন্দির নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ এই মন্দিরকে যদি অগ্নি পুরাণের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়, তাহলে নারীশক্তির পুজোর প্রাচীন ইতিহাস সম্পর্কে অনেক তথ্য পাওয়া যাবে।