সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, বেওয়ারিশ মৃতদেহ শনাক্ত না হলে ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই সৎকারের কথা। পুলিশ বিভিন্ন থানায় দেহের ছবি পাঠিয়ে পরিচয় খোঁজার চেষ্টা করে। তবু অনেক ক্ষেত্রে আত্মীয়স্বজনের খোঁজ মিলতে দেরি হয়।

ছবি-সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 6 February 2026 18:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের (North Bengal Medical) মর্গে এখন 'নীরব' ভিড় (No space in morgue, waiting for permission)। সারি দিয়ে পড়ে রয়েছে ৫০টিরও বেশি বেওয়ারিশ মৃতদেহ (Unknown bodies)। পরিচয়ের অপেক্ষায় দিন গুনছে তারা। জায়গার অভাবে কার্যত দমবন্ধ পরিস্থিতি মর্গে। কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, প্রশাসনের অনুমতি মিললেই নিয়ম মেনে সৎকারের ব্যবস্থা করা হবে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন সময়ে একাধিক থানার পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য এই দেহগুলি মর্গে নিয়ে আসে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রেলে কাটা বা ভবঘুরে ব্যক্তিদের দেহ। ময়নাতদন্ত শেষ হলেও পরিচয় না মেলায় সেগুলি এখনও মর্গেই রয়ে গিয়েছে। অভিযোগ, মাঝেমধ্যে কুলার মেশিন বিকল হলেই দেহগুলি থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ায়। তাতে ময়নাতদন্তের জন্য আসা অন্য মৃতদের পরিবার-পরিজনদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, বেওয়ারিশ মৃতদেহ শনাক্ত না হলে ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই সৎকারের কথা। পুলিশ বিভিন্ন থানায় দেহের ছবি পাঠিয়ে পরিচয় খোঁজার চেষ্টা করে। তবু অনেক ক্ষেত্রে আত্মীয়স্বজনের খোঁজ মিলতে দেরি হয়। পরিচয়ের আশায় দেহ সংরক্ষণ করা হয় দীর্ঘ সময় ধরে। কিন্তু বর্তমানে মর্গে পড়ে থাকা দেহগুলির অনেকগুলিই প্রায় তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।
মেডিকেল কলেজ ও পুলিশ সূত্রের দাবি, নিয়ম মেনে সৎকার করা হলেও ভবিষ্যতে যদি পরিচয় মেলে, সে জন্য ডিএনএ সংরক্ষণ করা হয়। বেওয়ারিশ মৃতদেহের শনাক্তকরণ ও সৎকার সংক্রান্ত প্রক্রিয়া শুরু হয় মহকুমা শাসকের দফতর থেকে নির্দেশিকা জারি হলে। সেই নির্দেশ অনুযায়ী পুলিশের সহায়তায় সমস্ত কাজ সম্পন্ন হয়। মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার প্রশাসন ও পুলিশের হাতেই।
ফরেন্সিক বিভাগের প্রধান রাজীব প্রসাদ বলেন, “মর্গে ৫০টিরও বেশি বেওয়ারিশ মৃতদেহ রয়েছে। নিয়ম মেনেই সেগুলি রাখা হয়েছে। লাশ সংরক্ষণ করতে আমাদের যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশের নির্দেশ পেলেই সৎকারের ব্যবস্থা হবে।”
শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসিপি রাকেশ সিং জানান, “সরকারি নিয়ম মেনে আমরা পরিচয় খোঁজার সব রকম চেষ্টা করি। নির্দিষ্ট সময় পরে সৎকারের নির্দেশিকা জারি হলে সেই কাজে পুলিশ সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবে।”
পরিচয়ের অপেক্ষায় পড়ে থাকা এই ‘অচেনা’ দেহগুলি এখন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে। নিয়ম মেনে দ্রুত সৎকারের দাবিতে সরব হচ্ছেন হাসপাতালের একাংশ কর্মী ও সাধারণ মানুষ।