মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা এফআরবিএম-এর সব নিয়ম মেনে চলছি। অথচ কেন্দ্র সেই নিয়ম মানে না। তবু আমরা যতটা পারি, ততটাই করি।’’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 5 February 2026 16:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটের বছরে বাজেট-পরবর্তী (West Bengal state budget 2026) সাংবাদিক বৈঠকে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার (central deprivation) অভিযোগে ফের সরব হলেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান (Mamata Banerjee)।
মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট অভিযোগ, ‘‘শত বঞ্চনা সত্ত্বেও আমরা আর্থিক শৃঙ্খলা ভাঙিনি। এফআরবিএম-এর সব নিয়ম মেনেই রাজ্য চালাচ্ছি। অথচ কেন্দ্র নিজেরাই সেই নিয়ম মানে না।’’
কেন্দ্রের বিরুদ্ধে এই আক্রমণের পাশাপাশি রাজ্যের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন তিনি। মমতার দাবি, তাঁর সরকারের আমলে রাজ্যে বেকারত্ব কমেছে ৪৫.৬৫ শতাংশ। পাশাপাশি প্রায় ১ কোটি ৭২ লক্ষ মানুষকে দারিদ্রসীমার বাইরে এনে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
ভোটের বছরে বাজেট ঘিরে বিরোধীদের কটাক্ষের জবাবেও এদিন কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘ভোট আসছে বলে অনেক কিছু বললাম, আর পরে করলাম না—এটা আমরা করি না। কথা দিলে কথা রাখি। আগেও ভোটের মুখে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা রক্ষা করেছি। এটা মানুষের ধর্ম হওয়া উচিত। ’’ মমতার দাবি, এই বাজেট বাংলার মানুষের গর্ব।
উল্লেখ্য, ভোটের মুখে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ধাঁচে নতুন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প হিসেবে ‘বাংলার যুব সাথী’ ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। এই প্রকল্পে মাধ্যমিক পাশ, ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি বেকার যুবকদের মাসে ১,৫০০ টাকা ভাতা দেওয়া হবে। আগামী ১৫ অগস্ট থেকে প্রকল্পটি চালু হবে। তবে এই ঘোষণা ঘিরে তীব্র সমালোচনায় সরব বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, সরকারি চাকরি ‘চুরি’ ও যোগ্যদের চাকরি ‘বিক্রি’ করে সরকার এখন সেই শিক্ষিত বেকারদের ১,৫০০ টাকার প্রলোভন দেখাচ্ছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, বর্তমান রাজ্য সরকারের মেয়াদ মধ্য মে পর্যন্ত। ফলে এবার পূর্ণাঙ্গ বাজেট নয়, বৃহস্পতিবার বিধানসভায় ভোট অন অ্যাকাউন্ট পেশ করেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তার পরেই সাংবাদিক বৈঠক থেকে রাজ্যের উন্নয়নের ‘রেকর্ড’ খতিয়ান তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান মুখ্য উপদেষ্টা অমিত মিত্র।
সব মিলিয়ে ভোটের মুখে বাজেট-পরবর্তী এই সাংবাদিক বৈঠক থেকে একদিকে যেমন কেন্দ্রীয় বঞ্চনার বিরুদ্ধে সুর আরও তীব্র করলেন, তেমনই প্রতিশ্রুতি রক্ষার প্রশ্নে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।