ভিকাহারের মন্দিরবাসিনী কালী মন্দির দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার এক প্রাচীন স্থাপনা। স্থানীয়দের কথায়, এই মন্দিরের ইতিহাস কমপক্ষে ৬০০ বছর পুরনো (600-year-old temple)। তখনকার সময়ে মন্দির স্থাপন করেছিলেন এক তান্ত্রিক, যিনি জঙ্গলের মাঝে ধ্যান করতেন।
.jpg.webp)
ভিকাহারের প্রাচীন কালীপুজো (ছবি- সংগৃহীত)
শেষ আপডেট: 11 October 2025 17:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দক্ষিণ দিনাজপুরের ভিকাহারে এক প্রাচীন কালীমন্দির আজও সময়ের বাঁধ ভেঙে ধ্বনি তুলছে (Vikahar Kali Temple)। এখানে কোনও বৈদ্যুতিক আলো বা বাইরে থেকে প্রবেশ করা আলো নেই। মন্দিরের প্রতিটি পুজো হয় শুধুমাত্র প্রদীপের আলোয়। হাজার বছরের ঐতিহ্যকে আজও ধরে রেখেছে এই নিয়ম, যা ভক্তদের জন্য এক অনন্য আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা।
ভিকাহারের মন্দিরবাসিনী কালী মন্দির দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার এক প্রাচীন স্থাপনা। স্থানীয়দের কথায়, এই মন্দিরের ইতিহাস কমপক্ষে ৬০০ বছর পুরনো (600-year-old temple)। তখনকার সময়ে মন্দির স্থাপন করেছিলেন এক তান্ত্রিক, যিনি জঙ্গলের মাঝে ধ্যান করতেন। স্বপ্নাদেশে তান্ত্রিক মাটির একটি ছোট মন্দির তৈরি করেন এবং সেখানে পঞ্চমুণ্ডির আসনে কালীপুজোর রীতিনীতি শুরু করেন।
মন্দিরের ভিতরে পুজোর সময় বাইরে থেকে কোনও আলো প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। দরজা-জানালা বন্ধ রাখা হয় এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে কাপড় বা পর্দা ভিজিয়ে আলো আটকানো হয়। শুধুমাত্র প্রদীপের আলোতে দেবীর পুজো অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে মন্দিরটি পাকা করা হলেও সেই প্রাচীন নিয়মই এখনও অটুট রয়েছে (Kali Puja traditions)।
মন্দিরের সেবায়ত সুভাষ সমাজদার জানান, "মা এখানে জাগ্রত। শিলিগুড়ি, মালদহ-সহ বিভিন্ন জেলার ভক্তেরা প্রতিদিনের মতোই পুজো দিতে আসেন। বিশেষ করে দীপান্বিতা অমাবস্যায় মন্দির সম্পূর্ণ পরিষ্কার করে পুজোর আয়োজন করা হয়। আধুনিক আলোকব্যবস্থা বা বৈদ্যুতিক বাতি এখানে ব্যবহার করা হয় না।"
ভক্তরা প্রদীপের আলোতেই ঠাকুর প্রণাম করে, মানত পূর্ণ করে, এবং পুজার সমস্ত ক্রিয়া-রীতি সম্পন্ন করেন। এই নিয়ম ও ঐতিহ্য প্রমাণ করে যে, সময়ের বিবর্তনের মধ্যেও আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রাচীন রীতি অক্ষুণ্ণ থাকা সম্ভব।
এই মন্দির শুধু স্থানীয় নয়, বরং ভিন্ন ভিন্ন জেলা থেকে আগত ভক্তদেরও কাছে এটি এক বিশেষ আধ্যাত্মিক কেন্দ্র। ইতিহাস ও আধ্যাত্মিকতার মিলনে তৈরি এই ভিকাহারের কালীপুজো আজও দর্শনীয় ও আকর্ষণীয়।