শহর জুড়ে এখন আলো, আনন্দ আর ভূতের গল্পের গন্ধ—তেমনই পর্দাজুড়ে নতুন ওয়েব সিরিজ, রহস্যে ভরপুর কাহিনি, আর গা ছমছমে আবহে ভয়ের সঙ্গে উপভোগের মিশেল।

‘নিশির ডাক’
শেষ আপডেট: 10 October 2025 16:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শহর জুড়ে এখন আলো, আনন্দ আর ভূতের গল্পের গন্ধ—তেমনই পর্দাজুড়ে নতুন ওয়েব সিরিজ, রহস্যে ভরপুর কাহিনি, আর গা ছমছমে আবহে ভয়ের সঙ্গে উপভোগের মিশেল। সেই ধারাতেই এবার ‘হইচই’ নিয়ে আসছে এক অনন্য অভিজ্ঞতা—‘নিশির ডাক’।
পরিচালনায় রয়েছেন জয়দীপ মুখোপাধ্যায়, যিনি চলতি বছরই ‘দ্য একেন: বেনারসে বিভীষিকা’-র সাফল্যে নজর কেড়েছিলেন। এবার তিনি ফিরছেন এক সম্পূর্ণ নতুন অন্ধকার জগতে, যেখানে ভয় শুধু ছায়া নয়—তা মিশে আছে সংগীতের সুরে, ইতিহাসের পরতে, আর বন্ধুত্বের বন্ধনে।
গল্পের পটভূমি একেবারে নিস্তব্ধ, শান্ত সোনামুখী গ্রাম। সেখানে ছ’জন পিএইচডি গবেষক এসে পৌঁছয়, তাদের লক্ষ্য—ভুলে যাওয়া এক কিংবদন্তি শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী নিশিগন্ধা ভাদুড়ী-র উপর গবেষণা করা। একসময় যাঁর কণ্ঠে মুগ্ধ হয়েছিলেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। কিন্তু সময়ের সঙ্গে হারিয়ে গেছেন সেই শিল্পী, আর তাঁর জীবন নিয়ে গড়ে উঠেছে নানান কিংবদন্তি।
তবে সেই অনুসন্ধানই অচিরেই পরিণত হয় এক ভয়ঙ্কর যাত্রায়। রাতে বাতাসে ভেসে আসে এক অভিশপ্ত সুর, নিস্তব্ধতার আড়ালে শোনা যায় প্রতিশোধের কণ্ঠ। ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে ওঠে—এ কেবল ইতিহাসের গবেষণা নয়, বরং অন্ধকারের মুখোমুখি দাঁড়ানোর এক যাত্রা, যেখানে প্রতিটি সুরই ডেকে আনে মৃত্যু, আর প্রতিটি নীরবতা লুকিয়ে রাখে এক গোপন সত্য।
এই সিরিজে অভিনয় করেছেন টলিপাড়ার বহু পরিচিত মুখ—সৃজা দত্ত, সুরঙ্গনা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজদীপ গুপ্ত, সোমক ঘোষ, ঋক চট্টোপাধ্যায়, শ্বেতা মিশ্র, অরুণাভ দে, রৌনক ভৌমিক, মুকুল কুমার জানা, সত্যম ভট্টাচার্য, মৈনাক বন্দ্যোপাধ্যায়, অনুভব কাঞ্জিলাল, অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ছন্দক চৌধুরী। প্রত্যেকের অভিনয়েই মিলবে বাস্তব ও কল্পনার সীমানা ভেঙে যাওয়ার সেই অনিশ্চিত জাদু। গল্প যেমন লোককথার ছোঁয়ায় গা ছমছমে, তেমনি তাতে আছে সম্পর্কের নরম আবেগ আর বন্ধুত্বের গভীর বন্ধন।
‘নিশির ডাক’-এর মূল ভাবনা আর্য রায়ের, চিত্রনাট্য লিখেছেন শ্রীজীব, সংগীত পরিচালনায় বিনীত রঞ্জন মৈত্র, আর চিত্রগ্রহণে রয়েছেন টুবান। ১৭ অক্টোবর থেকে ‘হইচই’-তে দেখা যাবে এই সিরিজ, যেখানে ভয়, রহস্য ও আবেগ মিশে গড়ে উঠেছে এক মনভোলা অভিজ্ঞতা।
সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে সিরিজটির ট্রেলার। মাত্র দেড় মিনিটেই তৈরি হয়েছে এক ভয়াল অথচ মুগ্ধকর আবহ—ছ’জন বন্ধু যাত্রা শুরু করে এক বিস্মৃত শিল্পীর সন্ধানে, কিন্তু পথে পা বাড়াতেই জেগে ওঠে এক অভিশাপ। সোনামুখীর বাতাসে ভেসে আসে নিশিগন্ধার গলা, সুরে জেগে ওঠে মৃত্যু। সেই সুরের টানে তারা ডুবে যায় একে একে অস্বাভাবিক ঘটনা, আতঙ্ক আর ভয়ঙ্কর নীরবতার গভীরে।
জয়দীপ মুখোপাধ্যায় বরাবরই রহস্যের গল্পে নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন। কিন্তু ‘নিশির ডাক’-এ তিনি ভয়কে ছুঁয়েছেন অন্যভাবে—এখানে আতঙ্কও হয়ে উঠেছে এক শিল্প, এক অনুভব। ‘একেন বাবু’-র জনপ্রিয়তার পর এবার তিনি নিয়ে আসছেন এমন এক গল্প, যেখানে ভয় মানেই কেবল অন্ধকার নয়, বরং স্মৃতি, শিল্প ও বন্ধুত্বের প্রতিধ্বনি।
অক্টোবর মাস জুড়ে ‘হইচই’-এর উৎসব লাইন-আপ জমজমাট—নতুন সিরিজ, নতুন পরিচালকের হাত ধরে নতুন গল্প। সেই ভিড়েও বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে ‘নিশির ডাক’। ভূত চতুর্দশীর আগেই মুক্তি পেতে চলা এই সিরিজে ভয় জড়িয়ে আছে সংগীতের সুরে, ইতিহাসের ছায়ায়, আর ছয় বন্ধুর অবিশ্বাস্য অভিযানে।
শেষমেশ ‘নিশির ডাক’ কেবল ভৌতিক কাহিনি নয়, এটি এক অনুভব—ভুলে যাওয়া এক শিল্পের পুনর্জন্ম, হারানো ভালোবাসার আহ্বান, আর জীবনের অনন্ত সুরের প্রতিধ্বনি। যে সুর একসময় শান্তি দিয়েছিল, সেই সুরই আজ ডাকে ভয়কে। আর সেই ভয়েও আছে এক অদ্ভুত সৌন্দর্য—যেমন থাকে বন্ধুত্বে, তেমনি মানবিক আবেগের গভীরতায়।
এই নিশির ডাক তাই শুধুমাত্র ভয়ের নয়—এ এক ডাক, হৃদয়ের অন্তর্গত অন্ধকারের দিকে, যেখানে সংগীত আর অনুভব এক হয়ে যায়।