কলকাতা বা শহরতলিতে নিপা সংক্রমণের কোনও খবর নেই, তবু আগাম সতর্কতায় কোনও ফাঁক রাখতে নারাজ কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশ মেনেই প্রতিটি স্তরে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 19 January 2026 16:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে নিপা ভাইরাসের (West Bengal Nipah Virus) আতঙ্ক ছড়াতেই বাড়তি সতর্কতা। রাজ্য সরকারের গাইডলাইন (State Govt Guildline) প্রকাশের পরই নিপা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক ডেকেছে স্বাস্থ্য ভবন। বৈঠকে নিপা আক্রান্তদের চিকিৎসা পদ্ধতি, সংক্রমণের ধরন, ভাইরাসের সম্ভাব্য উৎস এবং পরিস্থিতি খারাপ হলে কীভাবে মোকাবিলা করা হবে - এই সব বিষয়েই বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা। প্রয়োজনে মহামারী পরিস্থিতি তৈরি হলে কোন স্তরে কী ব্যবস্থা নিতে হবে, সেই রোডম্যাপও আগেভাগে চূড়ান্ত করতে চাইছে স্বাস্থ্য দফতর।
গত কয়েক দিনে এই দুই নার্সের সংস্পর্শে যাঁরা এসেছিলেন, তাঁদের চিহ্নিত করে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে স্বাস্থ্য দফতর (Health Dept) জানিয়েছে। মোট ৮২ জনকে শনাক্ত করা হয়। পরীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, সকলেরই রিপোর্ট নেগেটিভ। আপাতত এই রিপোর্ট স্বস্তি দিলেও দফতরের স্পষ্ট বার্তা - সতর্কতা অবলম্বন করেই চলতে হবে।
বর্তমানে রাজ্যে দু’জন নিপা আক্রান্তের (Nipah Virus) সন্ধান মিলেছে। তাঁরা দু’জনেই নার্স এবং বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি। হাসপাতাল সূত্রে খবর, দু’জনের অবস্থাই এখনও সঙ্কটজনক হলেও আপাতত নতুন করে কোনও অবনতি হয়নি। আক্রান্তদের মধ্যে একজন মহিলা, অন্যজন পুরুষ।
শুক্রবার পর্যন্ত দু’জনকেই ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল। তবে শারীরিক অবস্থায় সামান্য উন্নতি হওয়ায় পুরুষ নার্সকে ভেন্টিলেশন থেকে সরানো হয়েছে। মহিলা নার্সের অবস্থা একই রকম রয়েছে। দু’জনের ক্ষেত্রেই চিকিৎসকেরা ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালাচ্ছেন।
বাংলায় নিপা আক্রান্তের হদিশ মেলার ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারও নজরদারি বাড়িয়েছে। কেন্দ্রের একটি বিশেষ দল জেলার হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি পরিদর্শন করেছে। নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। সব হাসপাতালকে বাড়তি সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
স্বাস্থ্য দফতরের জারি করা নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে - নিপা আক্রান্ত বা উপসর্গযুক্ত রোগীর রক্ত, শরীরের তরল বা হাঁচি-কাশির ড্রপলেটের সংস্পর্শে এলে বাধ্যতামূলকভাবে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে বদ্ধ ঘরে থাকলে সেটিকে ‘হাই রিস্ক’ হিসেবে গণ্য করা হবে।
অন্যদিকে, কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তিকে দিনে দু’বার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে। সামান্য উপসর্গ দেখা দিলেই রোগীকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপসর্গযুক্ত রোগীর নমুনা দ্রুত RT-PCR পরীক্ষার জন্য পাঠাতে হবে। নিপা আক্রান্ত রোগীর পাঁচ দিন অন্তর নমুনা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। একই দিনে পরপর দু’বার রিপোর্ট নেগেটিভ এলে তবেই ওষুধ বন্ধ করে রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়া হবে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, আপাতত খেজুর রস, কাটা ফল এবং প্যাকেটজাত ফলের রস এড়িয়ে চলাই ভালো। করোনার সময়ের মতো মাস্ক ব্যবহার জরুরি। জ্বর, মাথাব্যথা বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলেই দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে কলকাতা চিড়িয়াখানায় বাদুড় থাকায় কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না কর্তৃপক্ষ। নিয়মিত প্রাণীদের রক্ত পরীক্ষা, কর্মীদের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ এবং দর্শকদের সচেতন থাকার বার্তা - সব মিলিয়ে সতর্কতার মাত্রা এখন সর্বোচ্চ।
এই মুহূর্তে চিড়িয়াখানায় পর্যটনের মরশুম। প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শকের ভিড়, সঙ্গে বিপুল সংখ্যক কর্মী। যদিও এখনও পর্যন্ত কলকাতা বা শহরতলিতে নিপা সংক্রমণের কোনও খবর নেই, তবু আগাম সতর্কতায় কোনও ফাঁক রাখতে নারাজ কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশ মেনেই প্রতিটি স্তরে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে
সব মিলিয়ে, পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে থাকলেও নিপা নিয়ে রাজ্যজুড়ে সতর্কতার বাঁধন আরও শক্ত হচ্ছে - এমনটাই ইঙ্গিত মিলছে।