কোনও রাষ্ট্রপ্রধান আমন্ত্রিত নন ইমরানের শপথ গ্রহণে! মোদীকে এড়ানোর জন্যই কি?
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র ২৪ ঘণ্টাতেই উলটপুরাণ। বুধবার জানানো হয়েছিল ইমরান খানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও অন্যান্য সার্কভুক্ত দেশের প্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। বৃহস্পতিবার জানিয়ে দেওয়া হলো অন্য কোনও দেশের রাজ
শেষ আপডেট: 2 August 2018 08:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র ২৪ ঘণ্টাতেই উলটপুরাণ। বুধবার জানানো হয়েছিল ইমরান খানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও অন্যান্য সার্কভুক্ত দেশের প্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। বৃহস্পতিবার জানিয়ে দেওয়া হলো অন্য কোনও দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিত্বদের আমন্ত্রণ জানানো হবে না এই অনুষ্ঠানে।
বৃহস্পতিবার ইমরানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফের মুখপাত্র ফাওয়াদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনার পর দল ঠিক করেছে ইমরান খানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অন্য কোনও দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিত্বদের আমন্ত্রণ জানানো হবে না। তিনি আরও জানান, পুরো অনুষ্ঠান হবে জাঁক-জমক ছাড়া, খুব সাধারণ ভাবে।
কিন্তু ইমরান খানের কিছু বন্ধু আমন্ত্রিত থাকবেন বলে জানিয়েছেন ফাওয়াদ চৌধুরী। ইতিমধ্যেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তাঁর ক্রিকেট জীবনের তিন ভারতীয় বন্ধু সুনীল গাভাসকার, কপিল দেব ও নভজ্যোৎ সিং সিধুকে। এ ছাড়াও বলিউড সুপারস্টার আমির খানকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে ইমরান খানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে।
তেহরিক-ই-ইনসাফের তরফে প্রথমে জানানো হয়েছিল নরেন্দ্র মোদী-সহ সার্কভুক্ত বাকি দেশগুলোর প্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। কিন্তু পাক বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্যে অন্যান্য দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিত্বদের আমন্ত্রণ জানানো হলে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।
নরেন্দ্র মোদীর ক্ষেত্রে জানানো হয়, মোদীর সঙ্গে ইমরানের প্রধান বিরোধী নওয়াজ শরিফের সম্পর্ক খুব ভালো। ২০১৪ সালে ভারত সফরে এসেছিলেন নওয়াজ শরিফ। তারপর আবার বিদেশ সফর সেরে ভারতে ফেরার সময় পাকিস্তানে নেমে নওয়াজের সঙ্গে দেখা করে গিয়েছিলেন মোদী। যদিও ইমরান খান নির্বাচনে জেতার পর মোদী ফোন করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তাঁকে। কিন্তু আমন্ত্রণ করার পর মোদী যদি না আসেন তাহলে সেটা ইমরানের পক্ষে অপমানের হবে বলে জানানো হয় পাক বিদেশ মন্ত্রকের তরফে। তারপরেই বৃহস্পতিবার এই ঘোষণা করেন ফাওয়াদ চৌধুরী।
এই ঘোষণার পর প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা। ভোট গণনার সময় কারচুপির যে অভিযোগ তাঁরা এনেছেন, সেটা যাতে বাইরের অতিথিদের সামনে প্রকাশ না হয়, তার জন্যই কি এই সিদ্ধান্ত নিলেন ইমরান খান। আবার কূটনৈতিক মহলের একাংশের বক্তব্য, প্রথমে তো সিদ্ধান্ত হয়েছিল আমন্ত্রণ জানানোর। হঠাৎ কী এমন হলো? ইমরান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পেছনে সেনাবাহিনীর হাত রয়েছে বলে সরব হচ্ছে বিরোধীরা। তবে কি তাদের চাপেই মোদী ও অন্যান্য প্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হলো না, উঠছে এই প্রশ্নও।