বিজেপির তরফে ঘোষিত হল দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকা। আর তাতে উঠে এল হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের নাম। প্রথম দফায় যাঁর নাম ছিল না, দ্বিতীয় দফায় এসে তিনি জায়গা করে নিলেন শ্যামপুর কেন্দ্রে প্রার্থী হিসেবে।

বিজেপির প্রার্থী হিরণ চট্টোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 19 March 2026 22:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিজেপির তরফে ঘোষিত হল দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকা। আর তাতে উঠে এল হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের নাম। প্রথম দফায় যাঁর নাম ছিল না, দ্বিতীয় দফায় এসে তিনি জায়গা করে নিলেন শ্যামপুর কেন্দ্রে প্রার্থী হিসেবে।
ফোনে যোগাযোগ করা হয়েছিল তাঁকে। নিয়ম মেনেই জানানো হয়েছিল শুভেচ্ছা। কিন্তু সেখানেই যেন চেনা ছক ভেঙে দিলেন হিরণ। সরাসরি জানিয়ে দিলেন, এই মুহূর্তে তিনি সেই শুভেচ্ছা গ্রহণ করতে পারছেন না। কথার ভঙ্গিতে ছিল এক অদ্ভুত স্থিরতা—“আমি দুঃখিত, আপনার শুভেচ্ছাটা এখন নিতে পারছি না। এই শুভেচ্ছা আমি নেব ৪ মে ২০২৬-এ।”
তারপর যেন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান। তাঁর কণ্ঠে উঠে এল নির্দিষ্ট সময়ের প্রতীক্ষা—“যেদিন পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে, সেদিন। আর ৭ মে, যেদিন শপথ নেওয়া হবে, যে দিন নরেন্দ্র মোদী সরকারের সু-শাসন এখানে প্রতিষ্ঠিত হবে, সেদিন আমি সেই শুভেচ্ছা গ্রহণ করব।”
এই আত্মবিশ্বাস কি শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য, না কি মাঠে নেমে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে উঠে আসা এক বিশ্বাস? প্রশ্নটা ছুঁড়ে দেওয়া হয়েছিল তাঁর দিকেই—এই নির্বাচনে তাঁর ইস্যু কী? কী নিয়ে লড়বেন তিনি?
হিরণের উত্তর ছিল সরাসরি, কোনও অলঙ্কার ছাড়া। “আপনারা সাংবাদিকরাও তো নিরাপদে কাজ করতে পারছেন না। আপনারাও সুরক্ষিত নন।” কথার পরতে পরতে যেন জমাট বাঁধা ক্ষোভ। তিনি থামেননি। “শুধু আপনারাই নন—ডাক্তার, শিক্ষক, ইঞ্জিনিয়র, বাংলার মায়েরা, বোনেরা, কৃষক, পশ্চিমবঙ্গের নাগরিকরা—কেউ নিরাপদ নয়। পশ্চিমবঙ্গে কারও ভবিষ্যৎ নেই।”
এই উচ্চারণে ব্যক্তিগত অভিমান যতটা, তার থেকেও বেশি ছিল এক রাজনৈতিক অবস্থান। সেই অবস্থান থেকেই তাঁর দাবি—পরিবর্তন এখন আর বিকল্প নয়, প্রয়োজন। “সেই কারণেই পশ্চিমবঙ্গের পরিবর্তন দরকার। সেখান থেকেই আমার আত্মবিশ্বাস আসছে,” বললেন তিনি।
তারপর এল এক কঠিন, প্রায় সতর্কবার্তার মতো বাক্য—“২০২৬-এ যদি পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তন না আসে, আগামী ১০০ বছরে পরিবর্তন আসবে না।”
হিরণ চট্টোপাধ্যায়—টলিউডের পরিচিত মুখ থেকে রাজনীতির ময়দানে উঠে আসা এই মানুষটি গত কয়েক বছরে নিজেকে শুধু অভিনেতা হিসেবে নয়, এক সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী হিসেবেও প্রতিষ্ঠা করেছেন। সভা-মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি, দলের প্রতি তাঁর আগ্রাসী অবস্থান—সব মিলিয়ে তিনি এখন বিজেপির এক দৃশ্যমান মুখ। আর এবার শ্যামপুর—হাওড়ার এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র—সেই লড়াইয়ের নতুন অধ্যায়।