সীমান্তের ওপারে সংক্রমণ ও মৃত্যুর নজির থাকা সত্ত্বেও এপারে দীর্ঘদিন নজরদারির ঘাটতি— এই বাস্তবতায় এখন প্রশ্ন একটাই। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর কত দ্রুত ও কতটা কার্যকর পদক্ষেপ করে, সেদিকেই তাকিয়ে চিকিৎসক মহল থেকে সাধারণ মানুষ।

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 15 January 2026 13:50
সূত্রের খবর, বিষয়টি সামনে আসতেই ক্ষুব্ধ রাজ্যের শীর্ষ স্বাস্থ্যকর্তারা। সম্প্রতি এক অভ্যন্তরীণ বৈঠকে জনস্বাস্থ্য বিভাগের আধিকারিকদের কার্যত ভর্ৎসনা করেছেন রাজ্যের স্বাস্থ্য সচিব। পাশাপাশি, অবিলম্বে গোটা রাজ্যে, বিশেষ করে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে নিপা পরীক্ষা শুরু করার দাবি তুলেছেন বিশিষ্ট জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডাঃ যোগীরাজ রায়।
এত দিন নিপা পরীক্ষা না হওয়ার পিছনে দু’টি কারণ দেখানো হচ্ছিল— এক, নিপা কিটের অভাব। দুই, বায়ো সেফটি লেভেল-৩ (বিএসএল-৩) ল্যাবের অনুপস্থিতি। তবে শীর্ষ মহলের মতে, এই যুক্তিগুলি কার্যত অজুহাত মাত্র। কারণ, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি (এনআইভি)-র কাছে কিট চাওয়া হলে তা না পাওয়ার কথা নয়। প্রয়োজনে রাজ্য নিজস্ব উদ্যোগেও কিট কিনতে পারত। পাশাপাশি, রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের অধীনে বিএসএল-৩ ল্যাব না থাকলেও প্রাণী ও মৎস্য বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিক বিএসএল-৩ গবেষণাগার রয়েছে। চাইলে সেখানেই নিয়মিত পরীক্ষা করা সম্ভব ছিল বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
এ দিকে আরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক চিত্র। ২০২৫ সালে সে দেশে চারটি নিপা পজিটিভ কেস ধরা পড়ে— পাবনা, ভোলা, ফরিদপুর ও নওগাঁও জেলায়। চার জনেরই কিছু দিনের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিন জনের ক্ষেত্রে কাঁচা খেজুরের রস খাওয়ার ইতিহাস মিলেছে।
এর মধ্যেই রাজ্যেও সংক্রমণের আশঙ্কায় সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। কাটোয়ার ওই সিস্টার নার্সের সংস্পর্শে আসা বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের এক হাউসস্টাফ ও এক নার্সের শরীরে উপসর্গ দেখা দেওয়ায় তাঁদের বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি, বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে অ্যাকিউট এনকেফালোপ্যাথি সিনড্রোমে আক্রান্ত এক তরুণীকেও নিপা সন্দেহে আইডি হাসপাতালে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। বুধবার তাঁদের সকলের নমুনা পাঠানো হয়েছে কল্যাণী এইমসের ল্যাবে।
দু’জন নার্স নিপায় আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে তাঁদের সংস্পর্শে আসা মোট ৪৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই পাঁচ জনের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে বলে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর।
সীমান্তের ওপারে সংক্রমণ ও মৃত্যুর নজির থাকা সত্ত্বেও এপারে দীর্ঘদিন নজরদারির ঘাটতি— এই বাস্তবতায় এখন প্রশ্ন একটাই। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর কত দ্রুত ও কতটা কার্যকর পদক্ষেপ করে, সেদিকেই তাকিয়ে চিকিৎসক মহল থেকে সাধারণ মানুষ।