বিশ্বজুড়ে নিপা ভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৪৩৭ জনের। ইবোলার থেকেও বেশি মৃত্যুঝুঁকির এই বাদুড়-বাহিত রোগের।

ভাইরাস (প্রতীকী ছবি)
শেষ আপডেট: 14 January 2026 15:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত দুই। সন্দেহভাজন আরও দুই ভর্তি হাসপাতালে। নিপা নিয়ে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। বাসে-ট্রামে বুধবার সকাল থেকেই এই আলোচনা। চিকিৎসকরা বলছেন, আতঙ্ক হবে না-ই বা কেন। এই ভাইরাসের মৃত্যুহার (fatality rate) ভয় ধরানোর মতো। বিশ্বজুড়ে নিপায় আক্রান্তদের মধ্যে গড়ে প্রায় ৭৫ শতাংশের মৃত্যু হয়েছে। সংখ্যাটা ইবোলা (Ebola virus)-র মতো অতিমারী রোগের থেকেও বেশি। করোনার থেকে তো বেশিই। তাই নিপাকে সবচেয়ে বিপজ্জনক বলে ধরা হয়।
প্রাথমিক কিছু উপসর্গ করোনার মতো। তবে ছবিটা অঞ্চলভেদে একটু আলাদা। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় (South-East Asia) নিপার ফ্যাটালিটি রেট তুলনামূলক কম। প্রাথমিক পরিসংখ্যান বলছে, ভারত (India) ও বাংলাদেশ (Bangladesh) মিলিয়ে নিপায় মৃত্যুহার প্রায় ৫৮ শতাংশ। কম হলেও এই হার কোনওভাবেই নিরাপদ নয়। এখনও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলেই ধরা হচ্ছে এই সংক্রমণকে।
ভারতে নিপার সবচেয়ে ভয়াবহ অধ্যায় লেখা হয়েছিল ২০১৮ সালে কেরলে (Kerala)। সে বছর রাজ্যে নিপা সংক্রমণে ২১ জনের মৃত্যু হয়। তার পরের বছরগুলোতে কেরলে একাধিকবার নিপার ছায়া দেখা দিলেও দ্রুত শনাক্তকরণ ও কড়া নজরদারিতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়। তবে ভারত ও বাংলাদেশ মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত নিপায় মোট ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে, এই সংখ্যাটাও কম নয়।
এবার নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal)। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, কাটোয়া (Katwa) এলাকায় এক জন নার্সের শরীরে নিপা ভাইরাসের হদিশ মিলেছে। আরেকজন আক্রান্ত নদিয়ার। রাজ্যে নিপা ঢুকে পড়ায় স্বাস্থ্য দফতরের কপালে ভাঁজ স্পষ্ট।
বিশ্বের দিকে তাকালে ছবিটা আরও ভয়ংকর। ২০২৪ সাল পর্যন্ত পাওয়া হিসেব অনুযায়ী, গোটা পৃথিবীতে নিপায় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল প্রায় ৭৫০ জন। তার মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৪৩৭ জনের। অর্থাৎ কয়েকশো মানুষ ইতিমধ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন এই ভাইরাসে। এই পরিসংখ্যানই নিপাকে বিশ্বের অন্যতম মারাত্মক সংক্রামক রোগের তালিকায় তুলে দিয়েছে।
চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, নিপার মতো ভাইরাসে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হল দ্রুত শনাক্তকরণ, আইসোলেশন (isolation) এবং সংক্রমণ ছড়ানোর শৃঙ্খল ভেঙে দেওয়া। কারণ একবার দেরি হলে, নিপা ভয়ংকর রূপ নিতে সময় নেয় না।