নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত কাটোয়ার মহিলা নার্স কোমায়, চিকিৎসকদের মতে অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক।

ভাইরাসের প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 14 January 2026 11:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার বিকেলে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত দুজনের খবর সামনে আসে। তাঁরা সেদিন থেকেই বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাংলায় নিপা-র হদিশ মেলা মাত্রই নড়েচড়ে বসে কেন্দ্র। রাজ্য সরকারকে সাহায্য করতে বিশেষ টিম পাঠানো হয়। মোবাকিলায় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী পাশে থাকার আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রীকে। এদিকে আক্রান্তদের কড়া পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। মঙ্গলবার বেলা গড়াতে দুজনের মধ্যে এক নার্সের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় এবং রাতের দিকে চিকিৎসকরা জানান তিনি অত্যন্ত সঙ্কটজনক অবস্থায় রয়েছেন।
বুধবার চিত্রটা আরও পাল্টে যায়। সকালেই চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, ওই নার্স কোমায় চলে গিয়েছেন। রয়েছেন ভেন্টিলেশনে। আরেক পুরুষ নার্সের অবস্থা যদিও আগের চেয়ে উন্নত। ভেন্টিলেশনে থাকলেও চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন তিনি।
নিপা সংক্রমণ ঠেকাতে নজরদারি, নমুনা সংগ্রহ ও বেড প্রস্তুতির নির্দিষ্ট প্রোটোকল (Protocol) তৈরি করেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক (Union Health Ministry)। ইতিমধ্যেই বারাসতের ওই বেসরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন রাজ্য ও কেন্দ্রের স্বাস্থ্য দফতরের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল।
জানা গিয়েছে, আক্রান্ত মহিলা নার্সের সংস্পর্শে আসা মোট ১৪ জনের রক্তের নমুনা পাঠানো হয়েছে এইমস (AIIMS)-এ। পাশাপাশি কাটোয়া হাসপাতাল (Katwa Hospital) ও বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (Burdwan Medical College Hospital) একাধিক ব্যক্তি ও স্বাস্থ্যকর্মীর নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। বারাসতের ওই হাসপাতালের এক জন আরএমও (RMO) একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হন। তিনিও বর্তমানে ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন। তাঁর রক্তের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। দুই নার্সের সংস্পর্শে যাঁরা এসেছিলেন, তাঁদের সকলেরই নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, ওই বেসরকারি হাসপাতালের অন্তত ২২ জন স্টাফকে কোয়ারেন্টাইনে (Quarantine) রেখেছে কর্তৃপক্ষ। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। জানা যাচ্ছে, আক্রান্ত মহিলা নার্স হৃদয়পুরে (Hridaypur) একটি মেসবাড়িতে ভাড়া থাকেন।
মহিলা নার্সের বাড়ি কাটোয়ায়। অসুস্থ হওয়ার পর প্রথমে তিনি কাটোয়া হাসপাতালেই চিকিৎসা করান। সেই সূত্রে সেখানে তাঁর সংস্পর্শে আসা মোট ৮ জনকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। পরে তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে বেশ কয়েকদিন চিকিৎসা চলে তাই সেখানে তাঁর সংস্পর্শে আসা ৪৮ জনকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে নতুন করে দু’জনকে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে (Nipah health workers infected)। দু’জনই স্বাস্থ্যকর্মী, একজন হাউস স্টাফ এবং একজন নার্স। এঁরা দু’জনই সেই নার্সের সংস্পর্শে এসেছিলেন।
কলকাতার নাইসেড (NICED) ও স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনে (School of Tropical Medicine) নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে বেশ কয়েকটা। পাশাপাশি বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে (ID Hospital) আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত করেছে স্বাস্থ্যভবন।
নিপা নিয়ে আতঙ্ক বাড়লেও স্বাস্থ্য দফতরের দাবি, পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।