Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনের

আপনার কি নিপা-সংক্রমণ হতে পারে? কারণ থেকে চিকিৎসা, খুঁটিয়ে বুঝিয়ে দিলেন দিল্লি এইমসের চিকিৎসক

নিপা ভাইরাসের খুঁটিনাটি, সংক্রমণের ধরন, কারণ, উপসর্গ নিয়ে বিস্তারিত জানাতে দ্য ওয়ালের জন্য কলম ধরলেন এইমস নয়াদিল্লির ইনফেকসাস ডিসিস বিভাগের চিকিৎসক আকাঙ্ক্ষা দিদওয়ানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায়।

আপনার কি নিপা-সংক্রমণ হতে পারে? কারণ থেকে চিকিৎসা, খুঁটিয়ে বুঝিয়ে দিলেন দিল্লি এইমসের চিকিৎসক

নিপা ভাইরাস নিয়ে এইমস দিল্লির চিকিৎসক

গার্গী দাস

শেষ আপডেট: 15 January 2026 14:53

ডাঃ আকাঙ্ক্ষা দিদওয়ানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায়
এইমস, নয়াদিল্লি

বাংলায় নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন দুজন। ভর্তি বারাসতের এক বেসরকারি হাসপাতালে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, দুজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজ্যজুড়ে এনিয়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এই রোগ থেকে কীভাবে বাঁচা যায় সেনিয়ে চর্চা সর্বত্র। নিপা ভাইরাসের খুঁটিনাটি, সংক্রমণের ধরন, কারণ, উপসর্গ নিয়ে বিস্তারিত জানাতে দ্য ওয়ালের জন্য কলম ধরলেন এইমস নয়াদিল্লির ইনফেকসাস ডিসিস বিভাগের চিকিৎসক আকাঙ্ক্ষা দিদওয়ানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায়।

নিপা একটি এনভেলপ প্যারামিক্সো ভাইরাস, ২ টো স্ট্রেইন আছে, একটা মালয়েশিয়ার আর একটা বাংলাদেশের। প্রথম সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছিল ১৯৯৮-৯৯ সালে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে। তারপর একাধিকবার এর আউটব্রেক হয়। ভারতও এর সাক্ষী। বাংলায় ২০০১ সালে শিলিগুড়িতে হয়েছিল। ২০০৭-এ নদিয়াতে। আর শেষবারের মতো প্রবলভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল ২০১৮ সালে কেরলের কোঝিকোড়ে।

কীভাবে ছড়িয়ে পড়ে এই ভাইরাস?

খেজুরের রস বাদুড় খেলে সেই রসে লালা মিশে যেতে পারে, তা পরে মানুষ খেলে শরীরে প্রবেশ করে। বাদুর শূকর বা ঘোড়ার সংস্পর্শে আসে তাই এই দুই প্রাণী থেকেও সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা থেকে যায়। সাধারণত পশু-পাখি থেকেই মানুষের হয় কিন্তু বাংলাদেশের স্ট্রেনের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছিল মানুষের থেকে মানুষের সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। তবে, মালয়েশিয়ান স্ট্রেনে সেটা পাওয়া যায়নি।

খুব মারাত্মক সংক্রমণ কখন হয়?

কেউ সংক্রমিতের সঙ্গে ১২ ঘণ্টার বেশি থাকলে মারাত্মক সংক্রমণ হতে পারে
সংক্রমিতর ইউরিন, স্যালাইভা বা এমন বডি ফ্লুইডের সংস্পর্শে এলে সংক্রমণ হতে পারে
চিকিৎসা শুরু হওয়া বা শনাক্ত হওয়ার আগেই কারও এই রোগে মৃত্যু হলে সংস্পর্শে আসা লোকজন সংক্রমিত হয়।

কতদিন এই ভাইরাস শরীরে থাকে?

৪-১৪ দিন পর্যন্ত এই ভাইরাস শরীরে থাকতে পারে। সর্বোচ্চ ৪৫ দিন পর্যন্ত।

সংক্রমণ হলে কী উপসর্গ দেখা দেয়?

  • জ্বর হতে পারে, 
  • এনকেফালাইটিস হতে পারে 
  • ফুসফুসে সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে
  • প্রথমে হালকা জ্বর, গা গোলানো, মাথা ব্যথা, পাতলা পটি, বমি এসব হতে পারে, অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে
  • এরপর বিভ্রান্তি বা চেতনায় পরিবর্তন হতে পারে।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যারা বেঁচে ফেরেন, তাদের মধ্যে মানসিক ও স্নায়বিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। ব্লাড পরীক্ষার ক্ষেত্রে আমরা মূলত দেখি থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া, লিউকোপেনিয়া। সিএসআরেও বেশি কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খতিয়ে দেখা হয়।

সংক্রমিত কি না তা বুঝতে গেলে ৪টি টেস্ট করতে হয়-

আরটিপিসিআর, সিএসএফ, ইউরিন, ব্লাড-এগুলো নিতেই হয়। স্ক্রাব টাইফাস, জাপানিস এনকেফালাইটিস, লেপ্টোস্পাইরা, সেরেব্রাল ম্যালেরিয়া, ব়্যাবিস ইত্যাদিও দেখে নেওয়া হয় পরীক্ষা করে।

যা যা স্যাম্পেল নেওয়া হয় তা আইসোলেটেড অর্থাৎ সরাসরি সংক্রমিতর ক্ষেত্রে পরীক্ষা করা হয় সিএসএল ৪-এ। এমন না হলে সিএসএল ২-এ প্রসেস করা হয়।

চিকিৎসা কী?

এর কোনও চিকিৎসা নেই। ২০১৮ সালে একটা স্টাডিতে বলা হয়েছিল, রিবাভ্যারিন প্রয়োগে প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে, ৩২ শতাংশ মৃত্যুর ঝুঁকি কমছে। তারপর হু (WHO)-ও এই ওষুধ ব্যবহারে পরামর্শ দেয়। ১০ দিনের জন্য ডোজ চালানোর কথা বলা হয়। তাতে কী ফল পাওয়া গিয়েছিল তা স্পষ্ট জানা যায়নি।

এছাড়া ফ্যাবিপেরাভির বা রেমডেসিভিরের মতো কয়েকটি ওষুধ আছে যা ব্যবহার করা হয় কিন্তু এর সারিয়ে তোলার কোনও প্রমাণ নেই।

সংক্রমণ থেকে বাঁচতে কী কী করতে হবে?

  • আমাদের হাত ধুয়ে খাবার খেতে হবে 
  • সংক্রমিতের সংস্পর্শে আসা যাবে না 
  • কারও হলে আইসোলেট করতে হবে 
  • কনট্যাক্ট ট্রেসিং এবং তাদের দেখে রাখা
  • স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে 
  • খোলা হাতে আবর্জনা ফেলা যাবে না বিশেষ করে হাসপাতালের ক্ষেত্রে
  • কেউ মারা গেলে দেহ দাহ করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

সংক্রমণ মারাত্মক হওয়া থেকে কীভাবে বাঁচবেন?

  • এতে মৃত্যুর সম্ভবনা কিন্তু প্রচন্ড বেশি, ৪০ থেকে ১০০ শতাংশ
  • ড্রপলেট আর এয়ারবর্ন দুইয়ের জন্যই প্রস্তুত থাকতে হবে।
  • রোগী ছাড়ার আগে ভাল করে টেস্ট করে ছাড়তে হবে 
  • ২১ দিনের হোম অবজারভেশন প্রয়োজন
  • এছাড়াও ২ দিন অন্তর দেখে নিতে হবে টেস্ট করে করে পুরোপুরি সংক্রমণ মুক্ত কি না।

আতঙ্ক নয়, সতর্কতা প্রয়োজন

  • মাস্ক ব্যবহার করুন 
  • ভিড় এড়িয়ে চলুন 
  • যাদের জ্বর-সর্দি আছে, তাদের সামনে আসবেন না
  • হাত ধুয়ে খাবার খান
  • খেজুরের রস সরাসরি খাবেন না

খেজুর রসে 'না', নলেন গুড়?

নলেন গুড়ে কোনও সমস্যা নেই কারণ ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ৩০ মিনিট ফোটালে ভাইরাস নষ্ট হয়ে যায়, আর ১০০ ডিগ্রিতে ফোটালে তো সঙ্গে সঙ্গেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে তাই গুড় খেলে কিছু হওয়ার কথা নয়।

কোন ফল খাবেন না?

  • ফলে ডাগ থাকলে খাবেন না
  • ভাল করে ফল ধুয়ে খান
  • খোসা ছাড়িয়ে ফল খান।

```