নিপা ভাইরাসের খুঁটিনাটি, সংক্রমণের ধরন, কারণ, উপসর্গ নিয়ে বিস্তারিত জানাতে দ্য ওয়ালের জন্য কলম ধরলেন এইমস নয়াদিল্লির ইনফেকসাস ডিসিস বিভাগের চিকিৎসক আকাঙ্ক্ষা দিদওয়ানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায়।

নিপা ভাইরাস নিয়ে এইমস দিল্লির চিকিৎসক
শেষ আপডেট: 15 January 2026 14:53
বাংলায় নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন দুজন। ভর্তি বারাসতের এক বেসরকারি হাসপাতালে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, দুজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজ্যজুড়ে এনিয়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এই রোগ থেকে কীভাবে বাঁচা যায় সেনিয়ে চর্চা সর্বত্র। নিপা ভাইরাসের খুঁটিনাটি, সংক্রমণের ধরন, কারণ, উপসর্গ নিয়ে বিস্তারিত জানাতে দ্য ওয়ালের জন্য কলম ধরলেন এইমস নয়াদিল্লির ইনফেকসাস ডিসিস বিভাগের চিকিৎসক আকাঙ্ক্ষা দিদওয়ানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায়।
নিপা একটি এনভেলপ প্যারামিক্সো ভাইরাস, ২ টো স্ট্রেইন আছে, একটা মালয়েশিয়ার আর একটা বাংলাদেশের। প্রথম সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছিল ১৯৯৮-৯৯ সালে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে। তারপর একাধিকবার এর আউটব্রেক হয়। ভারতও এর সাক্ষী। বাংলায় ২০০১ সালে শিলিগুড়িতে হয়েছিল। ২০০৭-এ নদিয়াতে। আর শেষবারের মতো প্রবলভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল ২০১৮ সালে কেরলের কোঝিকোড়ে।
কীভাবে ছড়িয়ে পড়ে এই ভাইরাস?
খেজুরের রস বাদুড় খেলে সেই রসে লালা মিশে যেতে পারে, তা পরে মানুষ খেলে শরীরে প্রবেশ করে। বাদুর শূকর বা ঘোড়ার সংস্পর্শে আসে তাই এই দুই প্রাণী থেকেও সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা থেকে যায়। সাধারণত পশু-পাখি থেকেই মানুষের হয় কিন্তু বাংলাদেশের স্ট্রেনের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছিল মানুষের থেকে মানুষের সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। তবে, মালয়েশিয়ান স্ট্রেনে সেটা পাওয়া যায়নি।
খুব মারাত্মক সংক্রমণ কখন হয়?
কেউ সংক্রমিতের সঙ্গে ১২ ঘণ্টার বেশি থাকলে মারাত্মক সংক্রমণ হতে পারে
সংক্রমিতর ইউরিন, স্যালাইভা বা এমন বডি ফ্লুইডের সংস্পর্শে এলে সংক্রমণ হতে পারে
চিকিৎসা শুরু হওয়া বা শনাক্ত হওয়ার আগেই কারও এই রোগে মৃত্যু হলে সংস্পর্শে আসা লোকজন সংক্রমিত হয়।
কতদিন এই ভাইরাস শরীরে থাকে?
৪-১৪ দিন পর্যন্ত এই ভাইরাস শরীরে থাকতে পারে। সর্বোচ্চ ৪৫ দিন পর্যন্ত।
সংক্রমণ হলে কী উপসর্গ দেখা দেয়?
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যারা বেঁচে ফেরেন, তাদের মধ্যে মানসিক ও স্নায়বিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। ব্লাড পরীক্ষার ক্ষেত্রে আমরা মূলত দেখি থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া, লিউকোপেনিয়া। সিএসআরেও বেশি কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খতিয়ে দেখা হয়।
সংক্রমিত কি না তা বুঝতে গেলে ৪টি টেস্ট করতে হয়-
আরটিপিসিআর, সিএসএফ, ইউরিন, ব্লাড-এগুলো নিতেই হয়। স্ক্রাব টাইফাস, জাপানিস এনকেফালাইটিস, লেপ্টোস্পাইরা, সেরেব্রাল ম্যালেরিয়া, ব়্যাবিস ইত্যাদিও দেখে নেওয়া হয় পরীক্ষা করে।
যা যা স্যাম্পেল নেওয়া হয় তা আইসোলেটেড অর্থাৎ সরাসরি সংক্রমিতর ক্ষেত্রে পরীক্ষা করা হয় সিএসএল ৪-এ। এমন না হলে সিএসএল ২-এ প্রসেস করা হয়।
চিকিৎসা কী?
এর কোনও চিকিৎসা নেই। ২০১৮ সালে একটা স্টাডিতে বলা হয়েছিল, রিবাভ্যারিন প্রয়োগে প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে, ৩২ শতাংশ মৃত্যুর ঝুঁকি কমছে। তারপর হু (WHO)-ও এই ওষুধ ব্যবহারে পরামর্শ দেয়। ১০ দিনের জন্য ডোজ চালানোর কথা বলা হয়। তাতে কী ফল পাওয়া গিয়েছিল তা স্পষ্ট জানা যায়নি।
এছাড়া ফ্যাবিপেরাভির বা রেমডেসিভিরের মতো কয়েকটি ওষুধ আছে যা ব্যবহার করা হয় কিন্তু এর সারিয়ে তোলার কোনও প্রমাণ নেই।
সংক্রমণ থেকে বাঁচতে কী কী করতে হবে?
সংক্রমণ মারাত্মক হওয়া থেকে কীভাবে বাঁচবেন?
আতঙ্ক নয়, সতর্কতা প্রয়োজন
খেজুর রসে 'না', নলেন গুড়?
নলেন গুড়ে কোনও সমস্যা নেই কারণ ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ৩০ মিনিট ফোটালে ভাইরাস নষ্ট হয়ে যায়, আর ১০০ ডিগ্রিতে ফোটালে তো সঙ্গে সঙ্গেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে তাই গুড় খেলে কিছু হওয়ার কথা নয়।
কোন ফল খাবেন না?