দ্য ওয়াল ব্যুরো: সীমান্ত পেরিয়ে অস্ত্র তো ঢুকছেই, উপত্যকার জঙ্গিদের কাছে আর্থিক সাহায্যও পৌঁছে যাচ্ছে সঠিক সময়। সন্ত্রাসে আর্থিক মদত দিচ্ছে কারা বা কোন সংগঠন, খোঁজ করতেই আজ বুধবার সকালে জম্মু-কাশ্মীরের একাধিক জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা তথা এনআইএ। তল্লাশি চলেছে উপত্যকার একাধিক এনজিও অফিস, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীর বাড়িতেও।
কাশ্মীর ও বেঙ্গালুরু মিলিয়ে মোট দশ জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে এনআইএ। গোয়েন্দাদের দাবি, বিদেশের বিভিন্ন সংগঠন থেকে হাওয়ালা মারফৎ টাকা পৌঁছে যাচ্ছে উপত্যকার জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর কাছে। ব্যবসার নামে অথবা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান বা সমাজসেবার নামে এই অর্থ উপত্যকার নানা সংস্থা ঘুরে জঙ্গিদের হাতে পৌঁছচ্ছে। গোয়েন্দাদের অনুমান, সন্ত্রাসে মদত দিতে আর্থি সাহায্য করছে জম্মু-কাশ্মীরেরই কিছু সংগঠন।
সন্ত্রাসবাদীদের আর্থিক মদত দেওয়ার অভিযোগে আগেও বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে এনআইএ। গ্রেফতার করা হয়েছিল বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের। তাঁদের মধ্যে ছিলেন হুরিয়ত নেতা সৈয়দ আলি শাহ গিলানির জামাই ফান্টুশ গিলানি। তদন্তকারীদের অভিযোগ ছিল, এই টাকা আসছে পাকিস্তান থেকে। আজ সকালে শ্রীনগরের ৯টি জায়গায় ও বান্দিপোরায় তল্লাশি চালায় এনআইএ। যার মধ্যে ছিল শ্রীনগরের সোনওয়ার, নাওয়া কাদাল, নেহরু পার্ক ও প্রতাপ পার্ক এলাকা। স্থানীয় পুলিশ ও আধা সেনার সঙ্গে উপত্যাকার একাধিক বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের অফিসে তল্লাশি চালান এনআইএর গোয়েন্দারা। তল্লাশি চালানো হয় কাশ্মীরের জনপ্রিয় ইংরাজি দৈনিক ‘গ্রেটার কাশ্মীর’-এর অফিসেও। গ্রেটার কাশ্মীরের এডিটর-ইন-চিফ ফায়াজ কালুকে আগেও জেরা করেছিলেন তদন্তকারী অফিসাররা। জঙ্গিনেতা বুরহান ওয়ানিকে খতম করার পরে সেই সম্পর্কে একাধিক প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিল ওই সংবাদপত্রে।
কাশ্মীরের মানবাধিকার কর্মী খুররম পারভেজের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়েছে এ দিন। ২০১৬ সালে শ্রীনগরের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। নিয়ন্ত্রণরেখায় অশান্তিতে ইন্ধন জোগানোর অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। সন্ত্রাসবাদীদের অর্থ জোগানোর অভিযোগের প্রেক্ষিতে কাশ্মীরের তিনটি এনজিও-র বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু হয়েছে।
এর মধ্যেই জম্মু-কাশ্মীর সীমান্তে পাকিস্তানের লাগাতার সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘনও চলছে। জানুয়ারি থেকে অগস্টের মধ্যে অন্তত ২৪২ বার গোলাগুলি চলেছে নিয়ন্ত্রণরেখায়। পয়লা জানুয়ারি থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ১৮৬ বার সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন করা হয়েছে সীমান্তে। পাক সেনার মদতে জঙ্গিরা সীমান্ত পার করার চেষ্টা করছে বলেও সেনা সূত্রে খবর। সেনার ১৫ নম্বর কোরের জিওসি লেফটেন্যান্ট জেনারেল বি এস রাজু বলেছেন, শীতের আগে নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে উপত্যকায় ঢুকে পড়ার বড়সড় চেষ্টা চালাতে পারে জঙ্গিরা। কম করেও ২৫০ থেকে ৩০০ জঙ্গি সীমান্তের কাছে ওত পেতে আছে। জঙ্গি অনুপ্রবেশ রোখার জন্য সীমান্তে বিশেষ স্ট্র্যাটেজিও নেওয়া হচ্ছে বলে খবর। রাজু বলেছেন, নিরাপত্তা আরও মজবুত করতে নতুন করে সেনা পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে। নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ৩৪৩.৯ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে সেনার সংখ্যা প্রায় তিনগুণ করা হয়েছে। ভারতীয় বাহিনীর তিনটি ব্যাটেলিয়ন দিবারাত্র সীমান্তে নজর রেখে বসে আছে। সেনাদের হাতেও রয়েছে আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র।