বেলডাঙার ঘটনার প্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্টে মামলাও দায়ের হয়। প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, এই ঘটনায় এনআইএ তদন্ত করবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্রীয় সরকারই।

নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 31 January 2026 11:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশ মিলতেই শনিবার সকালে মুর্শিদাবাদে পৌঁছে গেল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ (Investigation team reaches Murshidabad on Centre's orders)। ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় যে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তারই তদন্তভার দেওয়া হয়েছে এনআইএ-র হাতে (NIA intervention in Beldanga case)।
সূত্রের খবর, সাত থেকে আট সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। শনিবারই বেলডাঙা থানায় গিয়ে কেস ডায়েরি সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করার কথা তাঁদের।
সপ্তাহখানেক আগে ঝাড়খণ্ডে মুর্শিদাবাদের এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে ঘিরে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে বেলডাঙা। মৃত শ্রমিকের নাম আলাউদ্দিন শেখ (৩৭)। তিনি বেলডাঙার সুজাপুর–কুমারপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা। পেশায় ফেরিওয়ালা আলাউদ্দিন কাজের সূত্রে ঝাড়খণ্ডে গিয়েছিলেন। সেখানেই তাঁর ঘর থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় বলে পরিবারকে জানানো হয়।
পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়। তাঁদের অভিযোগ, আলাউদ্দিনকে পরিকল্পিত ভাবে মারধর করে খুন করা হয়েছে এবং পরে দেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। আরও অভিযোগ ওঠে, তিনি পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিক হওয়ায় লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। এই অভিযোগ ঘিরেই এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
এরপরই বেলডাঙার সুজাপুর–কুমারপুর এলাকায় শুরু হয় বিক্ষোভ। জাতীয় সড়ক অবরোধ, রেল রোকো কর্মসূচিতে নামেন গ্রামবাসীরা। দোষীদের শাস্তির দাবিতে আন্দোলন ক্রমশ হিংসাত্মক রূপ নেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। তবু উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পথ অবরোধ, ভাঙচুর, ট্রেন থামিয়ে বিক্ষোভ—সব মিলিয়ে অশান্তির ছবি সামনে আসে।
পরপর দু’দিন আক্রান্ত হন সাংবাদিকরাও। শেষ পর্যন্ত কড়া পদক্ষেপ করে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিও দেখে একে একে দোষীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার শুরু হয়। ধৃতদের মধ্যে একজন মিম নেতাও রয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
বেলডাঙার ঘটনার প্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্টে মামলাও দায়ের হয়। প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, এই ঘটনায় এনআইএ তদন্ত করবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্রীয় সরকারই। পাশাপাশি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত।
প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, মুর্শিদাবাদে ধারাবাহিক ভাবে হিংসার ঘটনা ঘটছে, যা থেকে বোঝা যায় পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগও প্রকাশ করে আদালত।
হাইকোর্টের এই পর্যবেক্ষণের কয়েক দিনের মধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশে বেলডাঙার অশান্তির তদন্তভার শুক্রবার তুলে দেওয়া হয় এনআইএ-র হাতে। এখন এই ঘটনার নেপথ্যে কোনও বৃহত্তর ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, এনআইএ তদন্তে কী উঠে আসে, সেদিকেই নজর সকলের।