দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলম্বোয় আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটানোর ঠিক আগের মুহূর্তে পাঁচতারা হোটেলে ইস্টার সানডে’র ব্রেকফাস্ট খাওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছিল আততায়ী!
রবিবার ৬ ঘণ্টার মধ্যে ৮টি ধারাবাহিক বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছিল শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো। ঘটনার তদন্তে এ বার উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। শ্রীলঙ্কার বিখ্যাত পাঁচতারা হোটেল ‘সিনামন গ্র্যান্ড’-এর ম্যানেজার জানিয়েছেন, রবিবার সকালে ইস্টার সানডে-র ব্রেকফাস্ট খাওয়ার জন্য লাইন দিয়েছিল ওই আততায়ী। ম্যানেজার আরও জানিয়েছেন, শনিবার রাতে মহামেদ আজ্জম মহামেদ নামে হোটেলে চেক ইন করেছিল ওই ব্যক্তি। কর্তৃপক্ষকে সে জানায় ব্যবসার কাজে শ্রীলঙ্কায় এসেছে। এমনকী নিজের ভুল ঠিকানাও দেয় ওই আততায়ী। পরদিন সকালে তার প্লেটে খাবার দেওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তেই বিস্ফোরণ ঘটায় আততায়ী।
সেই সময় প্রচুর লোকে ঠাসা ছিল হোটেল। ম্যানেজার জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের শব্দে মুহূর্তেই বদলে যায় হোটেলের চেহারা। ভয়ে-আতঙ্কে চিৎকার শুরু করেন উপস্থিত সবাই। প্রাণ বাঁচাতে যে যেদিকে পারেন ছুটে পালান। হোটেলের ম্যানেজার জানিয়েছেন, রবিবার সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ বিস্ফোরণ ঘটে। ওই ব্যক্তিকে যিনি খাবার পরিবেশন করছিলেন বিস্ফোরণের তীব্রতায় নিমেষে ছিন্নভিন্ন হয়ে যান তিনি। অতিথিদের অভ্যর্থনায় ব্যস্ত ছিলেন হোটেলের আর এক ম্যানেজার। তিনিও ঘটনাস্থলেই মারা যান। নিহত হয় ওই আততায়ীও।
‘সিনামন গ্র্যান্ড’ ছাড়া আরও দু’টি পাঁচতারা হোটেল সাংগ্রি-লা এবং কিংসবেরিতেও এ দিন বিস্ফোরণ হয়। বাদ যায়নি তিনটি গির্জাও। তার মধ্যে ছিল কলম্বোর বহু প্রাচীন ক্যাথলিক চার্চ সেন্ট অ্যান্টনি। সে সময় গির্জায় চলছিল ইস্টার সানডে’র প্রার্থনা। চোখের পলকে শ্মশান হয়ে যায় গোটা এলাকা। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ভেঙে গিয়েছে চার্চ এবং হোটেলের একটা বড় অংশ। এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী এই ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন ২৯০ জন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ৬ জন ভারতীয়। ব্রিটেন, আমেরিকা, জাপান এবং নেদারল্যান্ডসের অন্তত ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এই বিস্ফোরণে। আহত হয়েছে ৫০০-র বেশি মানুষ।
এই নাশকতার ঘটনায় এখনও দায় স্বীকার করেনি কোনও জঙ্গি সংগঠন। তবে শ্রীলঙ্কা প্রশাসন বলছে, স্থানীয় ইসলামিক জঙ্গি সংগঠন ন্যাশনাল তৌহিত জামাত (NTJ)-এর এই বিস্ফোরণে হাত থাকতে পারে। ইতিমধ্যেই ২৪ জন সন্দেহভাজনকে আটক করেছে কলম্বো পুলিশ।