দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০০৮ সালে মুম্বই হামলার মূল চক্রী তথা জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর ই তইবার কম্যান্ডার জাকিউর রহমান লখভি-সহ ১৮০০ জঙ্গির নাম নিজেদের ওয়াচ লিস্ট থেকে বাদ দিল পাকিস্তান। এমনই খবর জানিয়েছে মার্কিন সংস্থা ক্যাস্টেলাম.এআই। এই সংস্থার দায়িত্ব এই তালিকার দিকে নজর রাখা।
ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের ( এফএটিএফ ) নতুন পর্যবেক্ষণের আগেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে পাকিস্তান। এই তালিকা তৈরি করে পাকিস্তানের ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম অথরিটি। তাদের কাজ হল এই তালিকার সাহায্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে সাবধান করা যাতে তারা কোনও সন্দেহজনক জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে কোনওরকমের আর্থিক লেনদেন না করে।
জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালের শুরুতে এই তালিকায় পাকিস্তানের প্রায় ৭৬০০ জঙ্গি ও জঙ্গি গোষ্ঠীর নাম ছিল। অথচ ১৮ মাস পরে এই তালিকায় মাত্র ৩৮০০ নাম রয়েছে। শুধুমাত্র মার্চ মাস থেকে ১৮০০ নাম এই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন ওই সংস্থা। তার মধ্যে লখভির মতো কুখ্যাত জঙ্গি নেতার নামও রয়েছে।
এর আগে ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স জানিয়েছিল জঙ্গিদের আর্থিক সাহায্য বন্ধ করার ব্যাপারে উদ্যোগী হয়নি পাকিস্তান। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এফএটিএফ জানায় তাদের পরামর্শ দেওয়া ২৭টি বিষয়ের মধ্যে মাত্র ১৪টি বিষয় পালন করেছে পাকিস্তান। ফের এই বছর জুন মাসে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার কথা এফএটিএফ-এর। তার আগেই এই পদক্ষেপ নিল পাকিস্তান।
বর্তমানে ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের ধূসর তালিকায় রয়েছে পাকিস্তান। তাদের যেন কালো তালিকাভুক্ত না করতে হয় তার জন্য একাধিক নির্দেশ দিয়েছে এফএটিএফ। কিন্তু সেই নির্দেশ সত্ত্বেও এতগুলো নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে পাকিস্তানের সমালোচনা ইতিমধ্যেই শুরু করেছে একাধিক দেশ।
ক্যাস্টেলাম.এআই-এর দাবি, লস্কর ই তইবার জঙ্গিদের নাম খতিয়ে দেখতে গিয়ে দেখা গিয়েছে, সেই তালিকায় লখভির নামই নেই। মুম্বই হামলার মতো এত বড় নাশকতা যার মস্তিষ্কপ্রসূত তার নাম কী ভাবে তালিকায় নেই, সেটাই অবাক করছে তাদের। মার্কিন ওই সংস্থার প্রাক্তন নীতি উপদেষ্টা পিটার পিয়াটেটস্কি জানিয়েছেন, কোনও ব্যাখ্যা বা নির্দিষ্ট কারণ না জানিয়েছে প্রায় ৪০০০ নাম বাদ দেওয়ায় এই পদ্ধতি নিয়েই প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে। এই কারণে এফএটিএফ-এর সামনে জবাবদিহি করতে হতে পারে পাকিস্তানকে।