প্লেনে ক্ষিধের চোটে কাঁদছে শিশু, স্তন্যপান করিয়ে থামালেন বিমানসেবিকা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুধের শিশুকে নিয়ে প্লেনে চড়েছিলেন মা। আগের রাত থেকে অপেক্ষা করছিলেন বিমানবন্দরে। যাতে কোনওমতেই ফ্লাইট মিস হয়ে না যায়। এর মাঝে বেশ কয়েকবার খিদেও পেয়েছে ছোট্ট বাচ্চাটির। সঙ্গে রাখা দুধের বোতল থেকে সঠিক সময়ে খাইয়েও দিয়েছেন মা।
শেষ আপডেট: 10 November 2018 06:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুধের শিশুকে নিয়ে প্লেনে চড়েছিলেন মা। আগের রাত থেকে অপেক্ষা করছিলেন বিমানবন্দরে। যাতে কোনওমতেই ফ্লাইট মিস হয়ে না যায়। এর মাঝে বেশ কয়েকবার খিদেও পেয়েছে ছোট্ট বাচ্চাটির। সঙ্গে রাখা দুধের বোতল থেকে সঠিক সময়ে খাইয়েও দিয়েছেন মা।
কিন্তু এর ফলেই হয়েছে বিপত্তি। সাময়িক ভাবে তৃপ্তি পেলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কমতে থেকেছে দুধের পরিমাণ। তাই দীর্ঘ সময় পর প্লেনে উঠে যখন বাচ্চাটির খিদে পেয়েছে তখন মহা বিপাকে পড়েছেন বাচ্চার মা। সঙ্গে দুধ নেই। এ দিকে তাঁর ছোট্ট সন্তান খিদের চোটে ক্রমাগত কেঁদেই চলেছে। এই সময়েই ওই অসহায় মাকে সাহায্য করলেন এক বিমানসেবিকা। বছর চব্বিশের ওই তরুণী স্তন্যপান করিয়ে শান্ত করলেন বাচ্চাটিকে।
মঙ্গলবার এই ঘটনার সাক্ষী হয়েছিলেন ফিলিপিন্স-এর একটি বিমান সংস্থার যাত্রীরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ হয়েছে ছবিও। মুহূর্তেই তা হয়েছে ভাইরাল। বছর চব্বিশের বিমানসেবিকা পাত্রিশা অরগানো জানিয়েছেন, "মঙ্গলবার প্লেনে ওঠার পর থেকেই দেখছিলাম বাচ্চাটি কাঁদছে। কিছুতেই তাকে থামাতে পারছেন না ওর মা। বুঝতে পেরেছিলাম যে ওর খুব খিদে পেয়েছে। আমি নিজেও একজন ন'মাসের শিশুর মা। তাই ভালোভাবেই বুঝতে পারছিলাম বাচ্চাটির মায়ের অবস্থা।"
https://www.facebook.com/photo.php?fbid=2359808204033875&set=a.171615022853215&type=3
বিমানসেবিকা জানান, বাচ্চাটির মায়ের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন সঙ্গে রাখা দুধ শেষ হয়ে গিয়েছে। তাই অভুক্ত বাচ্চাটিকে খাওয়াতে পারছেন না তিনি। তখনই সিদ্ধান্ত নেন পাত্রিশা। স্তন্যপান করাবেন শিশুটিকে। যেমন ভাবা তেমন কাজ। পাত্রিশা জানিয়েছেন, "বাচ্চাটির কান্না শুনেই বুঝতে পেরেছিলাম ওর খিদে পেয়েছে। আমিও তো একজনের মা। তাই তাড়াতাড়ি ওকে নিজের বুকের দুধ খাওয়াই। পেট ভরে যাওয়ায় কান্না থামিয়ে একদম শান্ত হয়ে যায় বাচ্চাটি। ঘুমিয়ে পড়ে ও। একটা অদ্ভুত শান্তি দেখতে পাই ওর মায়ের চোখে। উনি ধন্যবাদও জানান আমায়।"
আরও পড়ুন: কী কাণ্ড! দিনে নাইটি পরলেই মেয়েদের জরিমানা দিতে হবে দু’হাজার টাকা?
পাত্রিশা বলেন, "নিজে মা হওয়ার ফলে একটা টান ছিলই। কান্না শুনেই ভাবছিলাম কী ভাবে ওকে থামাবো। তাছাড়াও এটা আমার দায়িত্ব এবং কর্তব্য যাত্রীদের সমস্ত সুযোগ-সুবিধার দিকে খেয়াল রাখা। সেই জন্যই নিজের সন্তানের মতোই ওকে বুকের দুধ খাইয়েছি। ওদের সাহায্য করতে পেরে আমি খুব খুশি।"