তৃণমূলের দাবি, গত ৬ এপ্রিল পুলিশ পর্যবেক্ষকদের একটি ভিডিও কনফারেন্সের পর জেলা পুলিশের আধিকারিক, সিএপিএফ কো-অর্ডিনেটর এবং কোম্পানি কমান্ডারদের নিয়ে একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করা হয়েছে।

জ্ঞানেশ কুমার
শেষ আপডেট: 7 April 2026 21:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Assembly Election 2026) যত এগিয়ে আসছে, ততই নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্যের শাসকদলের মধ্যে স্নায়ুর লড়াই বাড়ছে। এবার পুলিশের নিরপেক্ষতা এবং গোপন ‘অসাংবিধানিক নির্দেশ’ দেওয়ার অভিযোগ তুলে সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে (CEC) চিঠি দিল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। দলের পক্ষ থেকে ডেরেক ও’ব্রায়েনের সই করা একটি চিঠিতে বিস্ফোরক অভিযোগ করা হয়েছে যে, সরকারি মাধ্যম এড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপে জেলা স্তরের পুলিশ আধিকারিকদের ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ নির্দেশ দিচ্ছেন নির্বাচনী পর্যবেক্ষকেরা।
তৃণমূলের দাবি, গত ৬ এপ্রিল পুলিশ পর্যবেক্ষকদের একটি ভিডিও কনফারেন্সের পর জেলা পুলিশের আধিকারিক, সিএপিএফ কো-অর্ডিনেটর এবং কোম্পানি কমান্ডারদের নিয়ে একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করা হয়েছে। অভিযোগ, সেই সব গ্রুপে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের নিশানা করতে এবং কোনও বিচার-বিবেচনা ছাড়াই কড়া আইনি ধারা (বিশেষত ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৭১ এবং ৩৫৩ (২) নম্বর ধারা) প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। তৃণমূলের মতে, এই প্রক্রিয়া কেবল অস্বচ্ছই নয়, বরং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিপন্থী। চিঠিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, প্রথাগত সরকারি নির্দেশনামা এড়িয়ে এইভাবে নির্দেশ দেওয়া আসলে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।
নথিতে অন্তর্ভুক্ত একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার ছবি অনুযায়ী, ‘সুষ্ঠু ও ভীতিমুক্ত’ ভোট করানোর লক্ষ্যে সাতটি মূল নীতির কথা বলা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে এলাকায় এলাকায় ফ্ল্যাগ মার্চ করা, লাউডস্পিকারে প্রচার চালানো এবং ‘রোডি এলিমেন্ট’ বা গোলযোগকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। তবে তৃণমূলের আপত্তির জায়গা হল, এই নির্দেশের আড়ালে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের বিনা বিচারে বা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ফাঁসানোর সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। ডেরেক ও’ব্রায়েন তাঁর চিঠিতে সুপ্রিম কোর্টের পুরনো রায়ের প্রসঙ্গ টেনে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, নির্বাচন কমিশনের কাজ হল ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা, কোনও নির্দিষ্ট পক্ষকে সুবিধা দেওয়া নয়।
তৃণমূলের তরফে কমিশনকে পাঁচটি অনুরোধ জানানো হয়েছে
১. অবিলম্বে পুলিশ পর্যবেক্ষকদের এই ‘গোপন’ নির্দেশিকার রিপোর্ট তলব করা হোক।
২. যান্ত্রিকভাবে কোনও আইনি ধারা প্রয়োগ না করে তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হোক।
৩. সমস্ত নির্দেশ যেন কেবলমাত্র প্রথাগত সরকারি ও নথিভুক্ত মাধ্যমেই পাঠানো হয়।
৪. অনুমোদিত নয় এমন যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের বিরুদ্ধে রক্ষাকবচ তৈরি করা হোক।
৫. প্রশাসনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কমিশন যেন দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।