পূর্ব মেদিনীপুরে প্রশাসনিক বৈঠক সেরে রবিবার সকালে নন্দীগ্রামে পৌঁছন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। সেখানে বিভিন্ন স্পর্শকাতর বুথ পরিদর্শন এবং ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তৃণমূলের অভিযোগ, সেই সময় তাঁর সঙ্গে স্থানীয় বিজেপি নেতা - কালীচরণপুর অঞ্চলের কোঅর্ডিনেটর তপন কুমার মহাপাত্রকে দেখা যায়।

সাংবাদিক বৈঠকে কুণাল ঘোষ
শেষ আপডেট: 7 April 2026 15:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) প্রথম দফার ভোটগ্রহণের আগে নন্দীগ্রামকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হল। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের সাম্প্রতিক নন্দীগ্রাম সফরকে (Manoj Agarwal Nandigram Tour) কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন তুলল তৃণমূল কংগ্রেস।
মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূলের তরফে কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandriman Bhattacharya) অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন কার্যত বিজেপির হয়ে কাজ করছে। তাঁদের দাবি, বিজেপির সংগঠনগত দুর্বলতা ঢাকতেই কমিশনের কিছু আধিকারিক সরাসরি মাঠে নেমে পড়েছেন।
পূর্ব মেদিনীপুরে প্রশাসনিক বৈঠক সেরে রবিবার সকালে নন্দীগ্রামে পৌঁছন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। সেখানে বিভিন্ন স্পর্শকাতর বুথ পরিদর্শন এবং ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তৃণমূলের অভিযোগ, সেই সময় তাঁর সঙ্গে স্থানীয় বিজেপি নেতা - কালীচরণপুর অঞ্চলের কোঅর্ডিনেটর তপন কুমার মহাপাত্রকে দেখা যায়। এই ঘটনাকে সামনে এনে তৃণমূল প্রশ্ন তোলে, নির্বাচন কমিশনের এই আচরণ কতটা নিরপেক্ষতার পরিচয় বহন করে। তাঁদের বক্তব্য, “উনি নন্দীগ্রামে যেতেই পারেন, কিন্তু কেন বিরোধী শিবিরের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরতে হবে?”
একই সঙ্গে আরও গুরুতর অভিযোগও তোলে তৃণমূল। দাবি করা হয়, বৈধ ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে এবং অন্য রাজ্যের ভোটারদের তথ্য এনে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিজেপির প্রভাব খাটানোর অভিযোগও শোনা যায় তাঁদের মুখে। সব মিলিয়ে, ভোটের আগে নন্দীগ্রামকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে।
প্রসঙ্গত, শনিবার পূর্ব মেদিনীপুরের প্রশাসনিক ও পুলিশি শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে ম্যারাথন বৈঠক করেছিলেন মনোজ আগরওয়াল(CEO Manoj Agarwal)। তার পরেই রবিবার সাতসকালে পৌঁছে যান নন্দীগ্রামে। সেখানকার একাধিক স্পর্শকাতর বুথ ঘুরে দেখার পাশাপাশি ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন তিনি।
সেই সফরে তিনি স্পষ্ট জানান, “মানুষের মনে যেন কোনও ভয়-ভীতি না থাকে, তা নিশ্চিত করা হবে। যেখানে যেখানে গন্ডগোল হয়েছিল বা হওয়ার আশঙ্কা আছে, আমি নিজে সেখানে যাব এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলব।” মালদহের কালিয়াচকের ঘটনায় বিচারকদের আটকে রাখার নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলার পর যখন রাজ্য-রাজনীতি তপ্ত, তখন সিইও-র এই সফর আদতে ভোটারদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফেরানোরই একটি কৌশল বলে মনে করেছে রাজনৈতিক মহল।