অভিযোগ, মনোনয়ন প্রক্রিয়ার সময় তিনি নৈহাটি পুরসভার চেয়ারম্যানকে, যিনি একজন রাজনৈতিক নেতা, সঙ্গে নিয়ে এসডিও দফতরে গিয়েছিলেন। এই ঘটনাকে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হিসেবে দেখছে নির্বাচন কমিশন।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 6 April 2026 21:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় আচরণবিধি ভঙ্গের (election code violation west bengal) অভিযোগে বড় পদক্ষেপ। ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের (Barrackpore Police Commissionerate) অধীন নৈহাটি থানার ইনচার্জ (আইসি)-কে সাসপেন্ড করা হয়েছে (Naihati IC suspended), সূত্র মারফত এমনটাই জানা যাচ্ছে।
অভিযোগ, মনোনয়ন প্রক্রিয়ার সময় তিনি নৈহাটি পুরসভার চেয়ারম্যানকে, যিনি একজন রাজনৈতিক নেতা, সঙ্গে নিয়ে এসডিও দফতরে গিয়েছিলেন। এই ঘটনাকে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হিসেবে দেখছে নির্বাচন কমিশন।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, নির্বাচনী বিধি মেনে চলা এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই প্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। ঘটনার পরই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হয় এবং প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতেই ওই আইসি-র বিরুদ্ধে সাসপেনশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন চলাকালীন কোনও পুলিশ আধিকারিকের পক্ষেই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে এভাবে সহযোগিতা করা গ্রহণযোগ্য নয় বলেই প্রশাসনের একাংশ মনে করছে। ফলে এই ঘটনায় কড়া বার্তা দিতে চায় কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটকর্মী নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা আরও সুসংগঠিত করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জারি করল পশ্চিমবঙ্গ মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। ইতিমধ্যেই জেলার জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের কাছে এই নির্দেশ পাঠানো হয়েছে এবং দ্রুত তা কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৬ এপ্রিল জারি হওয়া এই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ভোটকর্মীদের ডেটাবেস আরও কার্যকর করা এবং কোথায় কতজন কর্মীর ঘাটতি রয়েছে তা নির্ধারণ করাই মূল লক্ষ্য।
নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, বুথ লেভেল অফিসার (BLO)-দের আর পোলিং পার্সোনেল ডেটাবেসে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। কারণ ভোটের দিন তাঁদের মূল দায়িত্ব থাকবে ভোটার সহায়তা বুথ (VAB) পরিচালনা করা। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে আলাদা করে ভোটার সহায়তা বুথ (VAB) তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এটি ভোটকেন্দ্রের ভিতরে, আলাদা জায়গায় হবে, পুরো লোকেশন জুড়ে নয়।
যে সব ভোটকেন্দ্রে মহিলা ভোটকর্মী থাকবেন, সেখানে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (CAPF) একজন মহিলা কর্মী নিয়োগ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সম্ভব হলে সর্ব-মহিলা পরিচালিত বুথ তৈরি করা যেতে পারে। তবে প্রয়োজনে পুরুষ ও মহিলা কর্মীদের নিয়ে মিশ্র টিমও গঠন করতে পারবেন জেলা নির্বাচন আধিকারিকরা। একইসঙ্গে মহিলা কর্মীদের জন্য উপযুক্ত থাকার ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রিসাইডিং অফিসার এবং প্রথম পোলিং অফিসার নিয়োগের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী, পিএসইউ কর্মী এবং রাজ্য সরকারি কর্মী বা শিক্ষকদের মধ্যে ভারসাম্য রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই সমস্ত নির্দেশ কঠোরভাবে মানার কথা বলা হয়েছে এবং কোথাও ভোটকর্মীর ঘাটতি থাকলে তা দ্রুত জানাতে বলা হয়েছে। নির্দেশিকার শেষে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, এই বিষয়টি “অত্যন্ত জরুরি” হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।