অবসরের সিদ্ধান্ত লিয়েন্ডারের, টেনিসের এক যুগের সমাপ্তি
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আকাশি নীল রংয়ের স্লিভলেস টি শার্ট পরে নেটের সামনে দাঁড়িয়ে তাঁর সেই বিখ্যাত ক্রসকোর্ট রিটার্নগুলো এই মরসুমের পর আর দেখা যাবে না। লম্বা র্যালি শেষে ড্রপ শটে পয়েন্ট পেয়ে সতীর্থের সঙ্গে চেস্ট বাম্পটাও আর বেশিদিন দেখতে পাবেন না
শেষ আপডেট: 26 December 2019 06:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আকাশি নীল রংয়ের স্লিভলেস টি শার্ট পরে নেটের সামনে দাঁড়িয়ে তাঁর সেই বিখ্যাত ক্রসকোর্ট রিটার্নগুলো এই মরসুমের পর আর দেখা যাবে না। লম্বা র্যালি শেষে ড্রপ শটে পয়েন্ট পেয়ে সতীর্থের সঙ্গে চেস্ট বাম্পটাও আর বেশিদিন দেখতে পাবেন না ভারতীয়রা। দেখা যাবে না ডেভিস কাপ জেতার পর জাতীয় পতাকা জড়িয়ে কান্না। ২০২০ সালেই শেষবারের মতো কয়েকটি বাছাই করা টুর্নামেন্ট খেলতে নামবেন ভারতের টেনিস আইকন 'চিরতরুণ' লিয়েন্ডার পেজ। তারপরেই নামিয়ে রাখবেন র্যাকেট। বিদায় নেবেন কোর্ট থেকে।
বুধবার বড়দিনের দিনই নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে অবসরের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন লিয়েন্ডার। সেখানে তিনি লিখেছেন, "পেশাদার টেনিস খেলোয়াড় হিসেবে ২০২০ সালই আমার শেষ মরসুম। সামনের বছর কয়েকটা প্রতিযোগিতায় নামতে চাই। নিজের দল, বন্ধু-বান্ধব ও সমর্থকদের সঙ্গে এই সময়টা উপভোগ করতে চাই। আজ আমি যে জায়গায় আছি তার সমস্ত কৃতিত্ব আপনাদের, যাঁরা আমাকে সবসময় প্রেরণা দিয়ে এসেছেন। তাই আমি তাঁদের বলতে চাই, ধন্যবাদ।"
সেইসঙ্গে নিজের বাবা ভেস পেজ, মা জেনিফারকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন ৪৬ বছর বয়সী এই ভারতীয়। তিনি লিখেছেন, "বাবা-মাকে ধন্যবাদ দিতে চাই। তাঁদের থেকে খেলোয়াড় হওয়ার জিন পেয়েছি। যে পরিবেশ তাঁরা তৈরি করে দিয়েছেন, নিঃশর্ত ভাবে ভালবেসেছেন, তার জন্য তাঁদের ধন্যবাদ। তোমাদের সমর্থন এবং বিশ্বাস না থাকলে এই জায়গায় আসতে পারতাম না।"
https://twitter.com/Leander/status/1209848717228019713?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1209848717228019713&ref_url=https%3A%2F%2Fzeenews.india.com%2Fbengali%2Fsports%2Fleander-paes-announced-retirement_292947.html
দুই দিদি ও মেয়ে আইয়ানাকেও ধন্যবাদ দিয়েছেন লিয়েন্ডার। বিশ্বজুড়ে তাঁর ফ্যানদের উদ্দেশে লিয়েন্ডারের বার্তা, ‘‘২০২০ সাল আবেগঘন একটা বছর হতে চলেছে। সবার সঙ্গে কোর্টে দেখা করার ইচ্ছে রইল। আপনাদের কাছে রোল মডেল হয়ে উঠতে পেরে গর্বিত।’’

যেখানে ৩০ বছরের পর আর খুব একটা বেশি কোর্টে দেখা যায় না প্লেয়ারদের, সেখানে ৪৬ বছর পর্যন্ত খেলেছেন লিয়েন্ডার। তাঁর খেলোয়াড় জীবনই প্রায় তিন দশকের। এই সময়ে মোট ১৮টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতেছেন লিয়েন্ডার। পুরুষদের ডবলসে জিতেছেন ৮টি ও মিক্সড ডবলসে জিতেছেন ১০টি। ১৬টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম রানার্স আপ ট্রফিও রয়েছে তাঁর ক্যাবিনেটে। অর্থাৎ মোট ৩৪টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম ট্রফি রয়েছে তাঁর। ডবলস প্লেয়ার হিসেবে যা সবথেকে বেশি।
১৯৯৬ সালে আটলান্টা অলিম্পিকসে ব্রোঞ্জও জিতেছিলেন লিয়েন্ডার। তারপর থেকে একাটানা খেলে গিয়েছেন। সতীর্থ মহেশ ভূপতির সঙ্গে নব্বইয়ের দশকে টেনিস বিশ্ব শাসন করেছেন লিয়েন্ডার। টানা ২৪টি ডবলস ম্যাচ জেতার রেকর্ড গড়েছিলেন তাঁরা। ডবলসের র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থানেও পৌঁছেছেন লিয়েন্ডার। নিজের জীবনে মার্টিনা নাভ্রাতিলোভা, মার্টিনা হিঙ্গিসের মতো মিক্সড ডবলস পার্টনারের সঙ্গে খেতাব জিতেছেন কলকাতার এই ছেলে। অবশেষে টেনিসে একটা যুগের সমাপ্তি ঘটিয়ে নিজের র্যাকেট তুলে রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।