দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার রাতেই দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল খবর। জানা গিয়েছিল, সোমবারের কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে সনিয়া গান্ধী দলের নেতাদের জানিয়ে দেবেন, তিনি আর সভানেত্রী থাকবেন না। অন্য কাউকে খুঁযে নিক দল।
সিডব্লিউসি বৈঠকে তার অন্যথা হয়নি। কিন্তু সনিয়ার এ কথা শেষ হওয়া মাত্রই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা মনমোহন সিং আবেদন করেন, যেন সনিয়াই সভানেত্রী থাকেন। কংগ্রেসের আরএক পোড় খাওয়া নেতা তথা রাজ্যসভার সাংসদ একে অ্যান্টনি আবার বলেন, সনিয়ার বদলে রাহুল গান্ধী ফের সভাপতির দায়িত্ব নিন।
শনিবার রাতেই জানা গিয়েছিল, এক ঝাঁক কংগ্রেস নেতা সনিয়াকে চিঠি লিখেছেন। সপ্তাহ তিনেক আগে শীর্ষ সারির কংগ্রেস নেতাদের লেখা চিঠির মোদ্দা বক্তব্য ছিল, এবার এমন একজনকে কংগ্রেস সভাপতি করা হোক যাঁকে ২৪ ঘণ্টা কাজে পাওয়া যাবে। অন্তত দেশের মানুষ তাঁকে দেখতে পাবেন। না হলে আখেড়ে ক্ষতি হচ্ছে পার্টিরই।
জরুরি ভিত্তিতে ডাকা ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে এদিন তৃতীয় বক্তা ছিলেন মনমোহন। সনিয়া গান্ধী, কেসি বেণুগোপালের পর ভার্চুয়াল বৈঠকে বলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। দু’ডজনের বেশি চিঠির প্রসঙ্গ উড়িয়ে বর্ষীয়ান মনমোহন আর্জি জানান, সনিয়াই যাতে এখন সভানেত্রীর দায়িত্বে থাকেন। সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকে এই চিঠি কাণ্ডকে একাধিকবার ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে মন্তব্য করেন মনমোহন।
একে অ্যান্টনি বলেন, “চিঠির সংখ্যার চাইতেও বিষয়বস্তু অনেক বেশি নির্মম।” দলের জন্য সনিয়া গান্ধীর ত্যাগ-তিতিক্ষার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, সনিয়ার পরবর্তীতে কাউকে সভাপতি করতে হলে তাহলে তা রাহুল গান্ধীকেই করা হোক।
প্রথমে জানা গিয়েছিল ২০ জন কংগ্রেস নেতা চিঠি লিখেছেন সনিয়াকে। পরে জানা যায় ২৩ জনের চিঠি গিয়েছে ১০ জনপথে। কিন্তু এদিন জানা যায়, সংখ্যাটা আরও বেশি। ২৬ জন চিঠি লিখে সভাপতি বদলের সওয়াল করেছেন।
সূত্রের খবর, এদিনের কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে চিঠি কাণ্ড নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন নেতাদের। বলেন, যে সময়ে এই চিঠি পাঠানো হয়েছে তখন সনিয়া গান্ধী অসুস্থ ছিলেন। কপিল সিব্বল, শশী তারুরের মতো শীর্ষ কংগ্রেস নেতাদের নাম করে রাহুল বিজেপি যোগের অভিযোগ তোলেন বলেও জানা গিয়েছে।